নোট বাতিল যে বৈশ্য ভোটব্যাঙ্ককে ধাক্কা দিতে পারে, মোদী কি ভাবেননি?
প্রধানমন্ত্রীর ৮ নভেম্বরের ঘোষণাকে নিয়ে ক্রমেই বিজেপির মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে; সামনে অনেকগুলি নির্বাচন আসছে, ভয় যদি তাঁরা ধাক্কা খান?
বিরোধীহীন নেতারা বোধহয় নিজেরাই খাল কেটে কুমির আনেন। "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প নেই" বলে যে মন্ত্র শোনা যেত ভারতীয় রাজনীতিতে প্রায়ই, তার ফলেই কি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলেন তিনি? দেশজুড়ে চলতে থাকা নোটকাণ্ডের গতিমুখ দেখে তো তাই মনে হচ্ছে।
শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী মোদীর এই পদক্ষেপে বিক্ষুব্ধ তাঁর নিজের দলেরই একাংশ। একে একে নানা দলীয় নেতাই এখন তোপ দাগতে শুরু করেছেন। নানা রাজ্যের বিজেপির ছোট-বড় নেতারা সামনে বা পিছনে সরকারকে কথা শোনাতে ছাড়ছেন না।

অনেকে বলছেন এ হচ্ছে নিজেদের স্বার্থে ধাক্কা লাগার প্রতিক্রিয়া। এর সঙ্গে আদর্শগত কোনও কারণ নেই। কিনতু স্বার্থ দেখলেও তাঁদের কি কিছু বলার আছে?
মোদীর বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ বিজেপিতে প্রথম থেকেই ছিল। আর এখন এই নোট কাণ্ডের পর সেই সমস্ত প্রতিবাদী কণ্ঠগুলি ফের চেগে উঠেছে। কিনতু, তাঁদের এই বিক্ষোভকে উপেক্ষা করা চলে না কোনওভাবেই। কারণ, সামনেই একগুচ্ছের নির্বাচন।
উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন তো আছেই, পাশাপাশি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে পুরভোটও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই। আর ঠিক এই সময়ে নগদ অর্থনীতিকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে মোদীর সিদ্ধান্ত যে বৈশ্য-বণিক শ্রেণীকে বিরাট আঘাত দিয়েছে সে সম্বন্ধে কোনও দ্বিমত নেই। বিজেপির এক বড় সমর্থন বরাবরই আসে বৈশ্যদের মধ্যে থেকে। তাই তাঁদেরকে চটিয়ে দেওয়াটা যে বেশ কাঁচা কাজ হয়েছে, তা বুঝছেন গেরুয়া দলের ছোট-মাঝারি নেতারা। আর তাই বিরোধিতার সুর চড়াচ্ছেন।
ভারতের মানুষ দীর্ঘমেয়াদে কী ভাবলেন তাতে আদৌ কিছু এসে যায় না। আর তাছাড়া, এই মুহূর্তে কেউই ঠিক জানে না যে এই দীর্ঘ মেয়াদ ঠিক কতটা দীর্ঘমেয়াদি।
অতএব, এতবড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের প্রায় সব মানুষকে প্রভাবিত করে তারপর ড্যামেজ কন্ট্রোলের কাজ করা ঠিক কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সব মহলেই। কালো টাকার বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কারবারিরা কোনঠাসা হয়েছে, এই ভাবনা সাধারণ মানুষকে এখনও সান্ত্বনা দিচ্ছে ঠিকই, কিনতু এই অব্যবস্থা যদি স্থায়ী রূপ নেয়, তাহলে সেই সান্ত্বনা কতদিন থাকবে বলা মুশকিল।
আর যদি সত্যি সত্যি নোট বাতিলের এই সিদ্ধান্তের ফল ব্যালট বাক্সে বিজেপির অনুকূলে না যায়, তাহলে মোদীর নেতৃত্ব এবং কর্তৃত্ব দুই নিয়েই বড় প্রশ্ন দেখা দেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য তাতে অখুশি হবেন না।












Click it and Unblock the Notifications