জোটের ‘মধ্যমণি’ মমতা হাওয়া তুলবেন কার পালে! আশা-আশঙ্কার দোলাচলে কংগ্রেস-বিজেপি

২০১৯ যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে জোট নিয়ে। হাজারো প্রশ্ন ভিড় করছে রাজনৈতিক সচেতন মানুষের মনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপি-বিরোধী জোট রাজনীতির মধ্যমণি।

২০১৯ যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে জোট নিয়ে। কী হবে জোটের ভবিষ্যৎ? এবার বিজেপি বিরোধী ক'টা জোট হচ্ছে দেশে? এমন হাজারো প্রশ্ন ভিড় করছে রাজনৈতিক সচেতন মানুষের মনে। কোনও সন্দেহ নেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপি-বিরোধী জোট রাজনীতির মধ্যমণি। কিন্তু তিনি কোন জোটে আছেন, তাঁর জোট রাজনীতি দিল্লির মসনদের লড়াইয়ে কার পালে হাওয়া বওয়াবে, তা নিয়েই ধন্দ তৈরি হয়েছে।

জোটের ‘মধ্যমণি’ মমতা হাওয়া তুলবেন কার পালে! আশা-আশঙ্কার দোলাচলে কংগ্রেস-বিজেপি

উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনে ঐক্যের ফলাফল নতুন করে ভাবাতে শুরু করেছে বিজেপি-বিরোধী দলগুলিকে। সেই নিরিখে বিজেপির বিনাশ ঘটাতে আসরে নেমে পড়েছেন আঞ্চলিক দলগুলির নেতা-নেত্রীরা। দিল্লির রাজনীতিতে তাই একাধিক জোট-জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রথম থেকেই কংগ্রেসের নেতৃত্বে মহাজোটের একটা পরিকল্পনা ছিলই। সেই মহাজোটে সোনিয়া গান্ধী বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করে অ-কংগ্রেসি অ-বিজেপি ফেডেরাল ফ্রন্টের বার্তা দেওয়ার পরই হাওয়া অন্য দিকে বইতে শুরু করেছে। কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে বৈঠকের দিনই শারদ পাওয়ার-চন্দ্রবাবু নাইডুর ডাক এসেছে মমতার কাছে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন মমতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সফরে শারদ পাওয়ারের ডাকে ফেডেরাল ফ্রন্ট তৈরির বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। তাঁকে আবর্ত করেই এই জোট গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চন্দ্রবাবু নাইডু ও কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। এমনিতেই যোগাযোগ রাখছেন অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ অন্যান্যেদর সঙ্গে।

এরপর আবার তিনি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হলেও, তা আপাতত বিশবাঁও জলে। ফলস্বরূপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন জোটকে অগ্রাধিকার দেন, তার উপর নির্ভর করছে জাতীয় রাজনীতি। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে যদি তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে ওঠে, তাহলে বিজেপিই লাভবান হবে, একথা শিরোধার্য।

তাই জোট নিয়ে বিজেপি বিরোধী সব দলকেই ভাবতে হবে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে এমনিতেই ইউপিএ রয়েছে। এরপর মমতার নেতৃত্বে যদি ফেডেরাল ফ্রন্ট হয়, নরেন্দ্র মোদীর পোয়া বারো। বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে ভাগ করতে পারলেই বিজেপি ফের ক্ষমতায় চলে আসবে। আগের মতো প্রাধ্যান্য দেখালেও এনডিএ-র ক্ষমতায় আসা একা কংগ্রেস-জোট বা ফেডেরাল ফ্রন্টের পক্ষে এখনও সম্ভব নয়।

সোনিয়া গান্ধী সেই সমীকরণ ভালো মতো জানেন। তাই তিনি শেষ চেষ্টা করবেনই- সমস্ত বিজেপি বিরোধী শক্তিকে এক জায়গায় করতে। এর আগে নৈশভোজে তিনি বিপুল সাড়া পেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন মমতাকে। এবার মমতাকে তিনি কাছে পাচ্ছেন। কিন্তু সেই কাছে পাওয়া জোটে পরিণত করতে পারেন কি না, তা নিয়েই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন উড়ে বেড়াচ্ছে ভারতীয় রাজনীতির অন্দরমহলে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+