দেশের সবচেয়ে সুস্থ শহর কোনটি, কলকাতা রয়েছে কোথায়, কী বলছে সমীক্ষা
ল্যানসেট এর সমীক্ষায় কেরলকে ভারতের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর রাজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের সবচেয়ে শিক্ষিত রাজ্যগুলির একটি দক্ষিণের 'গডস ওন কান্ট্রি' কেরল। তবে এর পাশাপাশি এই রাজ্য দেশের সবচেয়ে সুস্থ রাজ্যও বটে। অর্থাৎ এখানকার মানুষ দেশের বাকী রাজ্যের মানুষের চেয়ে গড়ে কম অসুস্থ হন। সেজন্য ল্যানসেট এর সমীক্ষায় কেরলকে ভারতের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর রাজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গড় আয়ু বেড়েছে
সমীক্ষা বলছে, ভারতে পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে গড় আয়ু বেড়ে গিয়েছে। ১৯৯০ সালে মহিলাদের গড় আয়ু ছিল ৫৯.৭ বছর তা ২০১৬ সালে বেড়ে হয়েছে ৭০.৩ বছর। এদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৯৯০ সালে গড় বয়স ছিল ৫৮.৩ বছর যা ২০১৬ সালে বেড়ে হয়েছে ৬৬.৯ বছর।

অসংক্রামিত রোগের মৃত্যু বাড়ছে
একইসঙ্গে জানা গিয়েছে, সংক্রমণ হয় না এমন রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ভারতে লাফিয়ে বাড়ছে। ল্যানসেটের সমীক্ষা তেমনই ইঙ্গিত করছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ে বিভিন্ন রাজ্যে নিজের মতো করে পরিকাঠামো রয়েছে। তাতে হাজারো গলদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কেরলের পরিসংখ্যান
কেরলকে দেশের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর রাজ্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেরলের পুরুষদের গড় আয়ু ৭৩.৮ বছর। যা অসমের পুরুষদের গড় আয়ুর চেয়ে অন্তত দশ বছর (৬৩.৬ বছর) কম। দেশের সবচেয়ে খারাপ পুরুষদের গড় আয়ু অসমেই রয়েছে।

এগিয়ে কেরলের মহিলারা
মহিলাদের গড় আয়ুর ক্ষেত্রে কেরলের গড় ৭৮.৭ বছর যার চেয়ে উত্তরপ্রদেশের মহিলাদেরক গড় আয়ু অন্তত ১২ বছর (৬৬.৮ বছর) কম। অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের মহিলারা কেরলের মহিলাদের চেয়ে গড়ে অনেক কম বাঁচেন।

পিছিয়ে উত্তরপ্রদেশ
উত্তরপ্রদেশে পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে গড় আয়ু ৬৬.৮ বছর। যেখানে জাতীয় গড় ৭০.৩ বছর। কেরলে মানুষের গড় আয়ু ৭৮.৭ বছর। ভারতে মানুষের গড় আয়ু আগের চেয়ে বাড়লেও চিন ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে গড়ে ১১ বছর পিছিয়ে রয়েছি আমরা।

রোগে ভোগে বেশি মানুষ
এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় ল্যানসেটের সমীক্ষায় উঠে এসেছে। তা হল, ভারতের অসম, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়ে মানুষ গড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রামক রোগে ভোগে। কারণ বিষাক্ত জল, শৌচকর্মের অসুবিধা সহ একাধিক কারণ রয়েছে। এদিকে কেরল ও গোয়ায় মানুষ সবচেয়ে কম অসুস্থ হয়।

অপুষ্টি বড় সমস্যা
ভারতে রোগের যত কারণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বড় অনুঘটক হিসাবে কাজ করছে অপুষ্টি। অন্তত ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শরীর রোগগ্রস্ত হচ্ছে অপুষ্টিতে ভোগার কারণেই। বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের ক্ষেত্রে অপুষ্টির মাত্রা সেই হারে কমেনি।

দূষণে এগিয়ে কলকাতা
সমস্যা আরও রয়েছে। দূষণ নিয়েও রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। ঘরের ভিতরের দূষণ আগের চেয়ে কমে এলেও বাড়ির বাইরের দূষণ আগের চেয়ে অনেক বেশি হারে বেড়েছে। বিশেষ করে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থান, দিল্লি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে দূষণ সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর সবচেয়ে কম দূষণ কেরল, গোয়া ও তামিলনাড়ুতে।












Click it and Unblock the Notifications