Kumartuli: শহর কলকাতার কুমোরপাড়া, কৃষ্ণনগর থেকে আনা হয়েছিল কুমোরদের
দুর্গাপুজো মানেই কুমোরটুলি। বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসেন কুমোরটুলি দেখতে। গোটা বিশ্বে জনপ্রিয় এই ঘটনা। কুমোরটুলির অস্তিত্ব কিন্তু প্রাচীণ কলকাতায় ছিল না। ব্রিটিশরা আসার অনেক পরে কিন্তু এই কুমোরটুলি তৈরি হয়েছিল। যার জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বজোড়া। বিদেশ থেকে ঠাকুর তৈরির অর্ডার আসে।
সেই কুমোরটুলির জনপ্রিয়তা কিন্তু রাতারাতি তৈরি হয়নি। এটি তৈরি করতে অনেকদিন সময় লেগেছিল। কলকাতা ব্রিটিশ সাহেবরা অত্যাচারী হলেও তাঁরা শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। আর ব্রিটিশদের সঙ্গে সক্ষ্যতা ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির । যা আজও দর্শনীয় স্থান শহরবাসীর।

বনেদি বাড়ির পুজো মানেই সকলে ছুটে যান শোভাবাজার রাজবাড়িতে। সেখানে আজও সাবেকি কায়দায় বংশপরম্পরায় পালা করে পুজো করে থাকেন রাজ পরিবারের সদস্যরা। এমনিতেও শোভাবাজার রাজবাড়ি দর্শনীয় স্থান। এই শোভাবাজার রাজপরিবারের হাত ধরেই কুমোরটুলির উৎপত্তি।
আগে এরকম সর্বজনীন দুর্গাপুজো হতো না। কেবল মাত্র জমিদার বাড়িতে অথবা রাজবাড়িতেই হতো দুর্গাপুজো। আর সেই পুজো দেখতে যেতেন আশপাশের গ্রামের এবং অঞ্চলের লোকেরা। সেদিক থেকে শোভাবাজার রাজবাড়ি দুর্গাপুজো শুরু করে। মূর্তি কে তৈরি করবে তা নিয়ে শুরু হয় খোঁজ খবর। সুন্দর একচালের সাবেকি মূর্তি তৈরি করতে হবে। আর মৃৎশিল্পে বরাবরই প্রসিদ্ধ কৃষ্ণনগর। সেখানকার রাজা মৎশিল্পীদের পৃষ্ঠপোশক ছিলেন।

সেই শিল্পীদের তৈরি মূর্তি পেতে সোজা কৃষ্ণনগর থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল কুমোরদের। তাঁদের থাকার জন্য গঙ্গার পাড়ের একটি জায়গা দেওয়া হয়। যেখানে মাটি এবং জল দুটির সুলভ যোগান ছিল। প্রথমে গুটি কয়েক শিল্পীই এসে বসবাস শুরু করেন। বলা ভাল তাঁদের নিয়ে এসে বসানো হয়। সেই জায়গায় ধীরে ধীরে মৃৎশিল্পীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। যেহেতু কুমোরদের বাস গড়ে উঠেিছল সেই জায়গায় সেকারণে সেই জায়গার নাম হয়ে যায় কুমোরটুলি।
এখন তার জনপ্রিয়তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আর কয়েক মাস পরেই দুর্গাপুজো। এখন থেকেই কুমোরটুলির ব্যস্ততা তুঙ্গে। বিদেশ থেকে অর্ডারও চলে এসেছে। অগস্ট মাসের পর থেকে বিদেশে এবং বাইরের রাজ্যে একে একে পাড়ি দিতে শুরু করবে কুমোরটুলির ঠাকুর।












Click it and Unblock the Notifications