রাশিয়ার ঠিকঠাক মূল্যায়ন করতে পারেনি ইউরোপ, বললেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ২০১৪ সালে রাশিয়াকে দুর্বল আঞ্চলিক শক্তি বলারও সমালোচনা করেন ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট ইয়ুঙ্কার
বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ২০১৪ সালের গোড়ায় রাশিয়াকে "আঞ্চলিক শক্তি" হিসেবে বর্ণিত করে বলেছিলেন মস্কো নিজের প্রতিবেশীদের চোখ রাঙাচ্ছে কেননা সে দুর্বল। ওই বছর রাশিয়া ক্রাইমিয়া দখল করে নেওয়ার পরে ওবামা এই মন্তব্য করেন।
আর তাঁর সেই মন্তব্যের সম্প্রতি সমালোচনা করে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ ইয়ুঙ্কার বলেছেন যে রাশিয়াকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেননি ওবামা। ইউরোপিয়ান কমিশন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ইউ-র কার্যসম্পাদনকারী শাখা।

রাশিয়া টুডেতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ুঙ্কার গত শনিবার (নভেম্বর ২৬) ইউরোনিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন যে ইউরোপের উচিত রাশিয়াকে একটি "বিরাট এবং গর্বিত" দেশ হিসেবে দেখা। "ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মোট আয়তন যেখানে ৫.৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার, রাশিয়ার একার আয়তনই ১৭.৫ বর্গ কিলোমিটার। রাশিয়াকে সেভাবেই দেখা উচিত -- একটি প্রকান্ড এবং গর্বিত রাষ্ট্র হিসেবে," বলেন ইয়ুঙ্কার।
তিনি স্বীকার করেন যে ইইউ রাশিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট উদাসীন এবং তাঁদের অনেক কিছুই শেখার রয়েছে। আর এই পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি সমালোচনা করেন রাষ্ট্রপতি ওবামার।
"ওবামার মতে রাশিয়া একটি আঞ্চলিক শক্তি কিনতু তা মোটেই সঠিক মূল্যায়ন নয়," বলেন ৬২ বছর বয়সী ইয়ুঙ্কার যিনি দু'বছরের কিছু বেশি সময় ধরে এই পদে রয়েছেন। অবশ্য ওবামা কয়েকদিন আগে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়াকে "সামরিক মহাশক্তি" আখ্যা দিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর উপরে জোর দিয়েছেন।
ইয়ুঙ্কার আরও জানান যে ইইউ মার্কিন বিদেশনীতির উপরে নির্ভরশীল নয়। বর্তমানে ইইউ এবং রাশিয়ার মধ্যে চলা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রেক্ষিতে ইয়ুঙ্কার বলেন যে ওয়াশিংটন তার জ করার করবে কিনতু ইউরোপ তার নিজের স্বার্থও দেখবে। যদিও রাশিয়ার উপরে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা এক্ষুনি তুলে নেওয়ার পক্ষে নন ইয়ুঙ্কার কিনতু তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার পথ খোলা রাখতেও আগ্রহী, জানিয়েছে রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনটি।
"রাশিয়াকে বাদ দিয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাবা সম্ভব নয়," ইয়ুঙ্কারের সোজাসাপ্টা মন্তব্য।
সম্প্রতি জার্মানির নেতৃত্বে ইউরোপের ১৫টি দেশ রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপে অস্ত্র প্রতিযোগিতা থামানোর লক্ষ্যে। জার্মানির বিদেশমন্ত্রীও সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে ইউরোপের নিরাপত্তা বিপন্ন এবং এই অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে কথাবার্তা চালানোটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
অবশ্য, ইইউ রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার কথা ভাবলেও ইউরোপের অন্যান্য গোষ্ঠী যেমন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট রাশিয়ার প্রতি নেওয়া কড়া অবস্থান থেকে সরতে রাজি নয়।
ইইউ-র রাশিয়ার প্রতি নরম পন্থা নেওয়ার কারণ কি তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা হস্তান্তর? ওবামার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম থেকেই রাশিয়ার প্রতি সুর নরম করে এসেছেন। সিরিয়া নিয়েও রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর ঠান্ডা লড়াই চালানোর কোনও অভিপ্রায় যে নেই তাও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে কি অবস্থা বেগতিক দেখে ইউরোপ এখন রাশিয়ার সঙ্গে সন্ধি করে নিজের প্রতিরক্ষা শক্ত করতে চাইছে?












Click it and Unblock the Notifications