ভারতের শেষ রাস্তা কোথায়? যাবেন না কি সেই রহস্যঘেরা বিশ্বের সবথেকে ছোট স্থানে
ভারতের শেষ রাস্তা কোথায়? যাবেন না কি সেই রহস্যঘেরা বিশ্বের সবথেকে ছোট স্থানে
ভারতের শেষ রাস্তা কোথায়? যাবেন না কি সেই রহস্যঘেরা স্থানে? একবার ঘুরে আসবেন দেশের শেষ রাস্তা থেকে। দেশের রাস্তা শেষ হয়েছে এক নির্জন গ্রামে। তা জানার আগ্রহ তো সকলেরই। আর যেহেতু রহস্যের গন্ধ রয়েছে আগ্রহ তো জাগবেই। রহস্য ও আকর্ষণ দুয়ের যখন সমন্বয় হয়েছে একবার দেখা আসা যাকে সেই শেষ রাস্তাকে।

তামিলনাড়ুর পূর্ব উপকূলে ঠিকানা
হ্যাঁ, প্রশ্ন তো জাগবেই, সেই শেষ রাস্তা কোথায় অবস্থিত। কতদূর পাড়ি দিতে হবে, সেই শেষ রাস্তায় ঠিকানায় পৌঁছতে। ভারতের শেষ রাস্তা যেহেতু, তা ভারতেই হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঠিকই ধরেছেন, সেই পথ যে পথ মিশে গিয়েছে অতল সমুদ্রে। তামিলনাড়ুর পূর্ব উপকূলে গেলেই মিলবে সেই রাস্তার ঠিকানা।

অ্যাডভেঞ্চারের জার্নি ধনুষ্কোডিতে
তামিলনাড়ুর পূর্ব উপকূলে রামেশ্বরম দ্বীপের তীরেই রয়েছে সেই রাস্তা। সে এক অ্যাডভেঞ্চারের জার্নি। এই জায়াগাটিকে বলা হয় ভারতের শেষপ্রান্ত। একমাত্র রাস্তা যা মিশে গিয়েছে সমুদ্রে। ওই জায়গার নাম ধনুষ্কোডি। আগে জনপদ ছিল। কিন্তু কালের অতলে এই গ্রাম এখন নির্জন। সুপার সাইক্লোনে তছনছ হয়ে গিয়েছিল ধনুষ্কোডি দ্বীপ।

ভারতের শেষ প্রান্তও বলা হয়
রামশ্বরমের অদূরেই ধনুস্কোডি এখন পড়ে রয়েছে ভগ্নস্তূপ হয়ে। তবে পর্যটনের আদর্শ জায়গা। পর্যটকরা তাই সুযোগ পেলেই ঘুরে আসেন ওই দ্বীপাঞ্চল থেকে। আর দর্শন করে আসেন ভারতের শেষ রাস্তা। ভারতের শেষ প্রান্তও বলা হয় এই স্থানকে। এটিই একমাত্র রাস্তা যাকে ভারতের শেষ রাস্তা বলা হয়। এখান মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে শ্রীলঙ্কা।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার একমাত্র সীমান্ত
ভ্রমণ পিপাসু মানুষের পছন্দের জায়গা এটি। এই ধনুষ্কোডি তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম বা পামবান দ্বীপের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। এই রহস্যে ঘেরা জায়গায পৌঁছনো একটু কঠিন। মূল ভুখণ্ড থেকে পামবান দ্বীপ অতিক্রম করতে হয়। তারপর কতগুলো ধীবরপল্লি পেরিয়ে পৌঁছতে হয় ধনুষ্কোডিতে। এই ধনুষ্কোডি হল ভারত ও শ্রীলঙ্কার একমাত্র সীমান্ত, যে সীমান্ত রেখা পক প্রণালীতে বালির স্তূপের উপর দিয়ে প্রসারিত।

সুপার সাইক্লোনে ধ্বংস ধনুষ্কোডি
১৯৬৪ সালের এক সুপার সাইক্লোনে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ধনুষ্কোডি। প্রায় ১৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ট্রেনের সলিল সমাধি হয়েছিল। তারপর থেকেই ধনুষ্কোডিতে আর মানুষ বসবাস করে না। মানুষের বসবাসের অনুপযোগী বলেও ঘোষিত হয়েছিল এই দ্বীপাঞ্চল। এখন শ-পাঁচেক ধীবর সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের জীবিকা অর্জনের জন্য কুঁড়েঘর করে থাকে।

করুণ ইতিহাস ধনুষ্কোডির
প্রকৃতির রোষানলে ধ্বংসের যে করুণ ইতিহাস রয়েছে ধনুষ্কোডির, তারপর থেকে এই সাজানো গোছানো এলাককে ভুতুড়ে গ্রামের তকমা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যটকদের এই ধনুষ্কোডিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও সন্ধ্যার আগে ফিরে আসা বাধ্যতামূলক। রামেশ্বরম থেকে এই ধনুষ্কোডির দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার।

জড়িয়ে পৌরাণিক কাহিনি
এই ধনুষ্কোডির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পৌরাণিক কাহিনিও। এই ধনুষ্কোডি হল সেই স্থান যেখানে ভগবান রাম তাঁর বানর সেনাবাহিনীকে নিয়ে রাবণের লঙ্কায় প্রবেশের জন্য রাম সেতুর নির্মাণ করেছিলেন। ভারতের রামেশ্বরম দ্বীপের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার মান্নার দ্বীপের সংযোগকারী এই সেতুর খানিক এখনও বিদ্যমান। তা বহুলাংশেই ধ্বংসপ্রাপ্ত। নেমে গিয়েছে সমুদ্রবক্ষে। তাও সুস্পষ্ট। আবার এই সেতুকে আদম সেতু বা অ্যাডামস ব্রিজও বলা হয়।

কেন ধনুষ্কোডি নাম হল, ব্যাখ্যা
ওই এলাকার নাম কেন ধনুষ্কোডি হল, তা নিয়েও এক চমৎকার ব্যাখ্যা রয়েছে। মহাকাব্য অনুসারে লঙ্কা থেকে সীতাকে উদ্ধারের পর ভগবান শ্রীরামচন্দ্র এই সেতুটি ধনুকের ডগা দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। তা থেকেই ওই জায়গার নাম হয় ধনুষ্কোডি। এই ধনুষ্কোডি শব্দের অর্থ হল ধনুকের শেষ। আবার এই ধনুষ্কোডিই হল ভারতের শেষ জায়গা।

ভারতের শেষ রাস্তা ধনুষ্কোডি
এই ধনুষ্কোডি যেমন ভারতের শেষ স্থান, তেমনই এই ধনুষ্কোডির মধ্যেই এমন একটি রাস্তা রয়েছে, যাকে বলা ভারতের শেষ রাস্তা। ভারতের এই শেষ রাস্তা থেকে শ্রীলঙ্কার উপকূল মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে। ধনুষ্কোডি থেকে শ্রীলঙ্কার মান্নার দ্বীপের দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। আর শ্রীলঙ্কার মূল ভূখণ্ড আরও ৬-৭ কিলোমিটার।

বিশ্বের সবথেকে ছোট জায়গা
ধনুষ্কোডি হল বিশ্বের সবথেকে ছোট জায়গা বা ছোট গ্রাম। ভারত ও শ্রীলঙ্কার সীমানায় ওই অঞ্চল বালির টিলার উপর অবস্থান করছে। দৈর্ঘ্যে মাত্র ৫০ গজ প্রসারিত। এই কারণে এটিকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্থান বলে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের সবথেকে ছোট জায়গা বলে যে সমস্ত এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছ, এটি তার মধ্যে অন্যতম।












Click it and Unblock the Notifications