Freedom Fighters of Bengal: স্বাধীনতার লড়াইয়ে অবদান রেখেছিলেন এই ৮ বাঙালি অগ্নিকন্যা, কারা জানেন?
স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিপ্লবীদের কথা উঠলে সবার আগে নাম আসে দেশ নায়ক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, রাসবিহারী বসু, গান্ধীজি, ভগৎ সিং, সুখদেব, রাজগুরু, যতীন দাস, কিংবা বিনয় বাদল দীনেশের। কিন্তু এঁদের মতোই এমন অনেক বীরাঙ্গনারাও ছিলেন যাঁদের সক্রিয় ভূমিকা এবং প্রত্যক্ষ যোগদান ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে।
শুধু তাই নয়, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন বাঙালি কন্যা। তাঁদের ত্যাগ এবং বহু কষ্টের ফলে স্বাধীনতা লাভ করেছিল আমাদের দেশ। তাই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রসঙ্গে বলতে গেলে বাংলার এই অগ্নিকন্যাদের প্রসঙ্গ তোলা অবশ্যাই জরুরি হয়ে পরে। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা কখনোই অবহেলা করা যায় না।

বিনা দাস (১৯১১ - ১৯৮৬)
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বিনা দাসের নাম একজন বিপ্লবী হিসেবে প্রথম সারিতেই আসে। তৎকালীন কলকাতার মহিলা বিপ্লব সমিতি ছাত্রী সংঘের অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি।বাংলার তৎকালীন অত্যাচারী গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বিনা দাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পর পর পাঁচটি গুলি চালানোর পরে ব্যর্থ হন বিনা এবং অবশেষে ধরা পড়ে নয় বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এরপর তিনি ১৯৩৯ সালে কংগ্রেস পার্টিতে যোগদান করেন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভা এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একজন বিশিষ্ট সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন বহুদিন।
কমলা দাসগুপ্ত (১৯০৭ - ২০০০)
বাংলার বুকে জন্মগ্রহণ করেছেন অনেক বীর সন্তান। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন কমলা দাসগুপ্ত। সেই সময় কলকাতায় আর্থিক ভাবে অসমর্থ মহিলাদের জন্য একটি মেসের ম্যানেজার ছিলেন কমলা দেবী। কিন্তু তাঁর মূল কাজ ছিল বিপ্লবীদের কাছে বোমা তৈরির জন্য বোমা এবং উপকরণ সংরক্ষণ এবং পাঠিয়ে দেওয়া। কমলা দাসগুপ্তকে অনেকবার গ্রেফতার করা হলেও প্রমাণের অভাবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৩৮ সালে, তিনি যুগান্তর থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য হন। কংগ্রেস মহিলা শিল্প কেন্দ্র এবং দক্ষিণেশ্বর নারী স্বাবলম্বী সদনে মহিলাদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন । একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পাশাপাশি কমলা দাসগুপ্ত একজন লেখকও ছিলেন। তাঁর লেখা 'রক্তের অক্ষরে' এবং 'স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী' বেশ জনপ্রিয় হয়।
লাবণ্য প্রভা ঘোষ (১৮৯৭ - ২০০৩)
লাবণ্য প্রভা ঘোষ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি সারা জীবন তার দেশবাসীর ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেছেন। ঘোষই প্রথম মহিলা যিনি পুরুলিয়া থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি লোক সেবক সংঘের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শিল্পাশ্রমেরও একজন উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন। লাবণ্য দেবী ব্রিটিশ শাসনামলে পুরুলিয়ার অনেক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং উল্লেখযোগ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে পরিচিত হন।

কল্পনা দত্ত (১৯১৩ - ১৯৯৫)
কল্পনা দত্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। মাস্টার দা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কল্পনা দেবী। ১৯৩১ সালের মে মাসে, কল্পনা দত্ত সূর্য সেনের সশস্ত্র দল ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির চট্টগ্রাম শাখায় যোগ দেন। মাস্টারদা তাঁকে এবং অপর অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে চট্টগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করার দায়িত্ব দেন। তবে সেই অভিযানে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। এরপরেও নানা রকম স্বদেশী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কল্পনা দত্ত।
সুহাসিনী গঙ্গোপাধ্যায় ( ১৯০৯ - ১৯৬৫)
স্বাধীনতা আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন সুহাসিনী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মহিলা ফ্রন্টের সাথেও যুক্ত ছিলেন। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হেমন্ত তরফদারকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ১৯৪২ সল্ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত আটক করে রাখা হয় তাঁকে।
সরোজিনী নাইডু ( ১৯৭৯ - ১৯৪৯)
সরোজিনী নাইডু ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় রাজনৈতিক কর্মী। তিনি নারীমুক্তি, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চিন্তাধারা এবং নাগরিক অধিকারের জন্য নিরন্তর লড়াই করে গিয়েছেন। কিন্তু জানেন কি? আসলে তিনি ছিলেন একজন বাঙালি? বিয়ের আগে তাঁর পদবি ছিল চট্টোপাধ্যায়। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেতে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নাইডু ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। এরপর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেন এবং নারীমুক্তি, সমাজকল্যাণ এবং জাতীয়তাবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একাধিক বক্তৃতা দেন। ১৯১৭ সালে মহিলা ভারতীয় সমিতি বা ডব্লিউআইএ প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন এই বীরাঙ্গনা।
মাতঙ্গিনী হাজরা (১৮৭০ - ১৯৪২ )
বিপ্লবী মাতঙ্গিনী হাজরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম। সবার কাছে তিনি গান্ধী বুড়ি নাম পরিচিত ছিলেন। আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নেন এবং লবণ আইন ভঙ্গ করার জন্য গ্রেফতার হন। মুক্তি পাওয়ার পর, তিনি কর বিলোপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। খাদি পণ্য তৈরির অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি।
সুচেতা কৃপালানি ( ১৯০৮ - ১৯৭৪)
সুচেতা কৃপালিনী ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ভারতের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি গান্ধীজির সঙ্গে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সামিল ছিলেন।
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়












Click it and Unblock the Notifications