এই ১৫টি ইস্যু এবারের লোকসভা নির্বাচনে বাজার মাতাতে চলেছে, নজর রাখুন আপনিও

আর কয়েকদিন পরই লোকসভা নির্বাচন শুরু হয়ে যাবে। এবছর সাত দফায় নির্বাচন হবে।

আর কয়েকদিন পরই লোকসভা নির্বাচন শুরু হয়ে যাবে। এবছর সাত দফায় নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে গিয়েছে। একদিকে যেমন রয়েছে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ, তেমনই কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ ও অন্য বিরোধী দলগুলিও রয়েছে। যে যার মতো শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যে। এই নির্বাচনে কোন কোন বিষয়গুলি বড় ইস্যু হতে চলেছে, দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ

জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ

একমাস আগেও সেভাবে এই কারণটিকে নিয়ে ততটা আলোচনা হচ্ছিল না। তবে পুলওয়ামা হামলার পরে জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু হিসাবে উঠে এসেছে। এবারের নির্বাচনে এটি বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে কেন্দ্র সরকার রয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে বিরোধী শিবির। সেনাকে মাঝখানে রেখে দুই শিবির দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তাকে জলাঞ্জলি দিয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে কেন্দ্রে দাবি, এই আমলে শত্রুর চোখে চোখ রেখে জবাব দিয়েছে সরকার।

মুদ্রাস্ফীতি

মুদ্রাস্ফীতি

এই নির্বাচনে কেন্দ্র সরকারের হাতিয়ার হতে চলেছে মুদ্রাস্ফীতির হার কমিয়ে আনা। মোদী সরকার এই কাজে সফল। ইউপিএ সরকারের আমলে মুদ্রাস্ফীতির হার অনেক বেশি ছিল। তবে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য দাম বাড়তে না দিয়ে জোর করে চেপে রাখা হয়েছে। যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে। যার জবাব কেন্দ্র নির্বাচনে পাবে।

কর্মসংস্থান

কর্মসংস্থান

বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে চলেছে কর্মসংস্থান। মোদী সরকার এই ইস্যুতে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে এই কর্মসংস্থানকেই অ্যতম হাতিয়ার করে বিজেপি সরকারে এসেছিল। তারপরে জিএসটি, নোট বাতিলের মতো ঘটনায় কর্মসংস্থান কমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সরকারি রিপোর্টেও কর্মসংস্থানের হার গত কয়েক দশকে সর্বনিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক অস্থিরতা

সামাজিক অস্থিরতা

গ্রামীণ ভারতে অস্থিরতা আগেও ছিল এবং তা এই সরকারের আমলেও রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রামীণ মানুষদের মধ্যে তা নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে। বিজেপির দাবি কংগ্রেস সাত দশক কিছু করেনি। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি পাঁচ বছরে অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে। ফলে নির্বাচনে এটি অন্যতম ইস্যু সন্দেহ নেই।

মেরুকরণ

মেরুকরণ

দেশে যেন আড়াআড়ি মেরুকরণ হয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সালে যা বিজেপিকে সাহায্য করেছিল, পাঁচ বছর পরে তাই বিজেপির গলার কাঁটা হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসকেও এই মেরুকরণের উত্তাপ সহ্য করতে হবে নিঃসন্দেহে। সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে রয়েছে বলে অভিযোগ। আবার হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক অটুট থাকার বিষয়টিও রয়েছে।

জাত-পাত

জাত-পাত

জাত নিয়ে রাজনীতি এদেশে রয়েছে। বিশেষ করে গো-বলয়ে এটি বড় ভূমিকা নেয়। সপা-বসপার মতো দল এই নিয়ে রাজনীতি করে বিজেপিকে আটকানোর পথে নামবে উত্তরপ্রদেশে। আবার অন্য রাজ্যগুলিতেও জাতপাতের রাজনীতি বিজেপিকে সুবিধা দেবে। সবমিলিয়ে লড়াই জমে উঠতে চলেছে।

দুর্নীতি

দুর্নীতি

২০১৪ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল দুর্নীতি। এবার বিজেপির বিরুদ্ধে নোট বাতিল থেকে রাফালে - দুর্নীতি ইস্যুতে বিরোধীরা সরব হবে। সেখানে তুল্যমুল্য লড়াই হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া

সোশ্যাল মিডিয়া

২০১৪ সালে সোশ্যাল মিডিয়া অন্যতম হাতিয়ার ছিল বটে। তবে ২০১৯ সালে এসে এটি সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে চলেছে। শেষ লোকসভা ভোটে এর সাহায্যেই মোদী অনেক বড় জয় পান। পিছিয়ে ছিল কংগ্রেস। তবে এবার কংগ্রেসও লেগে পড়েছে আগে থেকেই। কারা যুদ্ধে জেতে তা সময়ই বলবে।

উন্নয়নমূলক প্রকল্প

উন্নয়নমূলক প্রকল্প

নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত, কিষাণ যোজনা, আয়ুষ্মান ভারতের মতো নানা প্রকল্প শুরু হয়েছে। মোদী সরকার এগুলিকে হাতিয়ার করে প্রচারে নামবে। কংগ্রেস তার বিরুদ্ধে প্রচার করবে।

নরেন্দ্র মোদী

নরেন্দ্র মোদী

বিজেপির ফিরে আসা একমাত্র নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা কতটা বেড়েছে বা কতটা প্রভাব এখনও রয়েছে তার ওপরে। যদি মোদীর প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে তাহলে ফের একবার কেন্দ্রে সরকার হবে বিজেপির।

গোরক্ষা

গোরক্ষা

বিজেপি অবৈধ গো হত্যা বন্ধ করেছে। যার পরে উত্তরপ্রদেশে বিশাল জয় পেয়েছে। তবে সংখ্যলঘুদের রোষেও পড়তে হয়েছে। এই গোরক্ষার নামে নানা জায়গায় হামলা হয়েছে, উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সেগুলি অবশ্যই ভোটে ইস্যু হতে চলেছে।

স্থিরতা ও শক্তিশালী নেতৃত্ব বনাম জোট নেতৃত্ব

স্থিরতা ও শক্তিশালী নেতৃত্ব বনাম জোট নেতৃত্ব

তিন দশক পরে কেন্দ্রে কোনও একটি দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। অর্থাৎ মানুষ স্থিরতার পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিজেপি সেটাকেই হাতিয়ার করবে। অন্যদিকে বিজেপিকে সরাতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ বা তৃতীয় ফ্রন্ট এগিয়ে এসে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে ক্ষমতায় আসতে চাইবে।

নবীন ভোটার

নবীন ভোটার

এবছর দেড় কোটির বেশি নতুন ভোটার প্রথমবার ভোট দেবে। আর প্রায় সাড়ে ৮ কোটি নতুন ভোটার ২০১৪ সালের তুলনায় বেড়েছে। ফলে সবমিলিয়ে ৯০ কোটি মানুষ এবার ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই নবীন ভোটাররাই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।

মহিলা

মহিলা

এবারের ভোটে মহিলারা কাদের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয় তার ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করবে। গ্রামীণ ভারতে শৌচালয় বানানো থেকে শুরু করে উজ্জ্বলা যোজনা চালু, তিন তালাক নিয়ে মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর কাজ বিজেপি করেছে। বিরোধীরা এগুলিকে কীভাবে সামাল দেয় সেটাই দেখার।

দলিত ও আদিবাসী

দলিত ও আদিবাসী

পাঁচ বছরে নানা সময়ে দলিত ও আদিবাসীদের নানা ইস্যু বিজেপিকে বেগ দিয়েছে। বিরোধীরাও কেন্দ্রের সরকারকে কোণঠাসা করতে পেরেছে। এবারের ভোটেও এই দলিত ও আদিবাসীদের ইস্যু নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+