দেদার পুজোর পুরস্কার বিতরণ তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন বিস্তারের এক কার্যকরী পন্থা
নিরীশ্বরবাদী বামেদের সময়ে এসবের প্রয়োজন পড়ত না৷ তাঁদের মার্ক্সীয় আরাধনা এবং শক্তপোক্ত সংগঠন থাকার কারণে আলাদা করে দুর্গাপুজোকে জনসংযোগের হাতিয়ার বানানোর দরকার খুব একটা ছিল না ৷ কিন্তু এখন দিনকাল বদলে গিয়েছে৷ এখনকার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর কাছে দুর্গাপুজো সংগঠন বিস্তারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম৷ এবং দলের ৷ বিভিন্ন নেতা এই কাজটি করে থাকেন বেশ নিষ্ঠার সঙ্গেই ৷
তবে মাঝে মধ্যে তাঁরা একটু বাড়াবাড়িও করে ফেলেন ৷ এই যেমন সম্প্রতি কলকাতার একটি প্রথম সারির দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে শহরের পুরসভা দূর্গাপুজো সংক্রান্ত পুরস্কার দেওয়া নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছে৷ কারণ পুরসভার তরফে যে তালিকা বের করা হয়েছে তাতে বেশিরভাগই তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা এবং মন্ত্রীদের পুজো৷ যে-সমস্ত পুজো কমিটির মাথায় পুরসভার হর্তাকর্তারা রয়েছেন, পুরস্কার পাচ্ছে তারাও ৷

অভিযোগ উঠেছে যে সংশ্লিষ্ট পুজোমণ্ডপগুলিতে পা না রেখে দূরে বসে ভিডিও ক্লিপিংস দেখেই নাকি তালিকা তৈরি হয়ে যাচ্ছে ৷ কলকাতার মেয়র নিজেই নাকি ৫০টি পুজোকে মনোনীত করেছেন ৷
যদিও পুরসভার তরফ থেকে বলা হয়েছে সমস্তটাই হয়েছে নিয়ম মেনে, কিনতু তাতে চিঁড়ে ভেজার কথা নয় ৷ কারণটি খুব সহজ ৷ তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নানা সময়ে দেখা গিয়েছে পাড়ার ক্লাব বা গোষ্ঠীকে দু'হাত ভরে অনুদান দিতে ৷ কারণ, রাজনৈতিক বা আদর্শগত কোনও 'পুল ফ্যাক্টর' না থাকাতে তৃণমূলকে স্থানীয়স্তরে সংগঠন দৃঢ় ওভাবেই করতে হবে ৷
নির্বাচনে জিততে নেতা-নেত্রীদের নির্ভর করতে হয় ক্যাডারদের উপরে আর ক্যাডারদের দলে টানতে দিতে হয় অনুদান ৷ মধ্যবিত্তের চোখে ব্যাপারটা খারাপ ঠেকলেও রাজনীতি নামক মেশিনটিকে চালু রাখতে এই পন্থা খুবই প্রয়োজন ৷ বিশেষ করে, বড়মাপের নেতা যখন একনায়িকার দলে আর নেই, তখন অনুদানই ভরসা, তাতে রাজ্যের অর্থনীতি চুলোয় গেলে যাক ৷
পুজোর পুরস্কারও অনুদানের রাজনীতি; তবে তা আসে ঝকঝকে মোড়কে
আর এই দেওয়া-নেওয়ার রাজনীতিকেই আরও ঝকঝকে মোড়কে হাজির করা হয় দুর্গাপুজোর সময়ে ৷ নগ্ন অনুদানের চেয়ে পুরস্কার প্রদান করলে তা যেমন অনেক সাংস্কৃতিক হয়, তেমনই সবার অলক্ষ্যে কাছে টেনে নেওয়া যায় পাড়ার পর পাড়া ৷ যে মধ্যবিত্ত ক্লাবকে অনুদান দেওয়ার ব্যাপারটা খুব সহজ চোখে দেখে না, পুজোর পুরস্কার তার কাছে অতটা খারাপ থেকে না কারণ পুজোর শিল্পকলা ইত্যাদির বিনিময়ে পুরস্কার পাওয়াটার মধ্যে একটা অর্থনৈতিক বৈধতা রয়েছে ৷ নিছক কারণে কাঁচা পয়সা দানের মধ্যে যা নেই ৷ অর্থাৎ, রাজাও খুশ, প্রজাও খুশ ৷
সংগঠনের বিচারে অতীতের বামেদের তুলনায় তৃণমূলকে অনেক ক্ষেত্রেই কমজোরি মনে করা হলেও এই দুর্গাপুজোকালীন পুরস্কারের 'ফিল-গুড' রাজনীতি কিনতু রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণের ব্যাপারে তৃণমূলকে অনেকটাই সাহায্য করেছে ৷












Click it and Unblock the Notifications