মাতৃভূমি চেক রিপাবলিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথমা স্ত্রী ইভানা
তাঁর প্রাক্তন স্বামী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন সম্প্রতি। আর তাই তিনি নিজের জন্মভূমি চেক রিপাবলিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হয়ে কাজ করতে চান।
তাঁর প্রাক্তন স্বামী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন সম্প্রতি। আর তাই তিনি নিজের জন্মভূমি চেক রিপাবলিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হয়ে কাজ করতে চান।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকাকে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথমা স্ত্রী ইভানা ট্রাম্প। ধনকুবের এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে ১৫ বছর (১৯৭৭-১৯৯২) ঘর করা প্রাক্তন এই মডেল বলেছেন যে তিনি তাঁর নিজের কর্মসূত্রেই দুনিয়াতে যথেষ্ট পরিচিত, এমনকী নিজের দেশ চেক রিপাবলিকেও। 'ট্রাম্প' পদবীর প্রয়োজন তাঁর নেই।

কিনতু ৬৭ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী-লেখক-ফ্যাশনিস্তার হঠাৎ এমন ইচ্ছা হল কেন? নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইভানা তাঁর মাতৃভূমির নাম আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল করতে চান। উল্লেখ্য, ইভানা পূর্বতন চেকোস্লোভাকিয়ার মোরেভিয়া কাউন্টির জলিন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় স্বামী। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর তিনটি সন্তান রয়েছে। ১৯৮৮ সালে ইভানা মার্কিন নাগরিকত্ব পান। ১৯৯২ সালে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তারপরেও ইভানা আরও দু'বার বিয়ে করেন যদিও টেকেনি কোনওটাই।
ট্রাম্প প্রশাসন ইভানাকে চেক রিপাবলিকে (১৯৯৩ সালে চেকোস্লোভাকিয়া চেক রিপাবলিক এবং স্লোভাকিয়া নামে দু'টি আলাদা রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে যায়) দূত করে পাঠাবে কী না তা ভবিষ্যৎই বলবে কিনতু পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে ইভানার ইচ্ছের কথা শুনে ইতিমধ্যেই সাড়া পরে গিয়েছে।
ইভানা ট্রাম্প যদি সত্যিই চেক রিপাবলিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন, তবে তিনি প্রয়াত অভিনেত্রী-কূটনীতিক শার্লি টেম্পল ব্ল্যাকের পর দ্বিতীয় সেলিব্রিটি হিসেবে এই পদ পাবেন। ব্ল্যাক ১৯৮৯ সালে অবিভক্ত চেকোস্লোভাকিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন রাষ্ট্রপতি জর্জ এচ ডব্লিউ বুশ-এর শাসনকালে। থাকেন ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। ঠান্ডা যুদ্ধের আগে ও পরে চেকোস্লোভাকিয়াতে ব্ল্যাকের ভূমিকা যথেষ্ট প্রশংসিত হয় তাঁর দেশে।
অবশ্য ব্ল্যাক কূটনীতিতে একেবারেই আনকোরা ছিলেন না। চেকোস্লোভাকিয়াতে যাওয়ার আগে তিনি আফ্রিকার ঘানাতেও রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেছিলেন। পাশাপাশি, অন্যান্য নানা আন্তর্জাতিক প্রকল্পের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন।
ইভানার সেরকম কোনও অভিজ্ঞতা নেই এখনও পর্যন্ত। চেক রিপাবলিকে তাঁর পরিচয় 'ঘরের মেয়ে' হিসেবেই। ইভানার মা মেরি জেলনিকোভা এখনও জলিন শহরে বাস করেন এবং প্রাক্তন জামাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুণগ্রাহী বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনটি।
নিউ ইয়র্ক টাইমস এও জানিয়েছে যে বিদেশনীতির ব্যাপারে ইভানার অবস্থান পরিষ্কার জানা না গেলেও অভিবাসনের ব্যাপারে তাঁর মতামত স্পষ্ট। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে ইভানা জানান যে যদিও তিনি অভিবাসনের পক্ষে, কিনতু যেভাবে অনুপ্রবেশকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে সেদেশের করদাতাদের পয়সায় পুষ্ট হচ্ছে, তার তিনি বিরোধী।
এখানে উল্লেখ্য, ট্রাম্পের বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্মও অবিভক্ত যুগোস্লাভিয়া বা বর্তমান স্লোভেনিয়ায়। এবং তিনিও পেশায় একজন মডেল ছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর লুইসা এডামস-এর পর মেলানিয়া দ্বিতীয় মার্কিন ফার্স্ট লেডি হবেন যিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নন।












Click it and Unblock the Notifications