রাহুল, এটাই আপনার সুযোগ; এবার যদি না পারেন আর জীবনেও পারবেন না

ডিমনেটাইজেশন-এর সিদ্ধান্ত রাহুল গান্ধীর সামনে একটি বড় রাজনৈতিক সুযোগ এনে দিয়েছে; বৃহত্তর ভারতের স্বার্থে তিনি কতটা সেটাকে কাজে লাগাতে পারবেন?

তাঁর বিরুদ্ধে সবসময়ই অভিযোগ যে তিনি রাজনীতিতে যথেষ্ট আগ্রহ নেন না। অন্তত নিজের দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে তো নয়ই। আর সেই রাহুল গান্ধীকেই এবার নোট বিভ্রাটের সময়ে বেশ কয়েকবার দেখা গেল জনগণের মাঝে।

কখনও ভিডিওতে বার্তা দিচ্ছেন সমস্যায় পড়া মানুষকে সাহায্য করতে, কখনও বা আবার এটিএম বা ব্যাঙ্কের সামনে মানুষের লম্বা লাইনের মধ্যে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন তাঁদের সমস্যা। বিরোধী শিবিরের কাছে এ এক আশার ছবি। তবে কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডিমনেটাইজেশনের সিদ্ধান্ত কংগ্রেস সহ-সভাপতিকে পুনর্জন্মের সুযোগ করে দিল?

রাহুল, এটাই আপনার সুযোগ; এবার যদি না পারেন আর জীবনেও পারবেন না

দিল না সেটা বলা মিথ্যে হবে। ক্ষমতায় আসার আড়াই বছরের মধ্যে মোদীর ডিফেন্সে কোনও ফাঁকফোঁকরই খুঁজে পায়নি বিরোধীরা। কংগ্রেস তো তাদের হারের জয়যাত্রা এখনও পর্যন্ত থামাতেই ব্যর্থ। সামনেই উত্তরপ্রদেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন যা ২০১৯-এর বড় লড়াইয়ের প্রথম ঘন্টা বাজিয়ে দেবে।

এই সময়ে মোদীর নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত যেমন সাধারণ মানুষের মন জেতার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ, তেমনি এই সিদ্ধান্তের ফলে যে হয়রানি হয়েছে বহু মানুষের, তাঁদের সমব্যাথী হয়ে জনমানসে নিজের ভাবমূর্তি চাঙ্গা করার একটা বড় সুযোগও রাহুল গান্ধীর সামনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো নেত্রী-নেতারা যেমন ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছেন মোদী-বিরোধিতার এই মোক্ষম সুযোগটিকে কাজে লাগাতে, তেমনি কংগ্রেস তাদের সর্বোচ্চ নেতার কাছেও প্রত্যাশা করছে ভালো কিছু করে দেখানোর।

কয়েকদিন আগে রাহুলের প্রয়াত ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর একশোতম জন্মদিন গেল। রাহুল তাঁর প্রিয় ঠাকুমার জীবন কাহিনী থেকে অনুপ্ররণা নিতেই পারেন। ১৯৭৭ সালে নির্বাচনে হেরেও তিন বছরের মধ্যে কীভাবে ইন্দিরা ফের ক্ষমতায় ফিরেছিলেন। যদিও ওই তিন বছরের জুলিমিলি সরকারের পতন খুব আশ্চর্যের কিছু ছিল না, কিনতু ক্ষমতাচ্যুত হয়েও যে মানুষের বিশ্বাসভাজন হয়ে ফের ফিরে আশা যায়, সেটা প্রমাণ করেছিলেন ইন্দিরা।
রাজনীতিতে কেউই ফেলনা নয় সেটা ইতিহাস আমাদের বারবার দেখিয়েছে।

২০১৪ সালে রাহুল গান্ধী হাসির পাত্র ছিলেন বটে কিনতু মনে রাখতে হবে তখন বিকল্প হিসেবে মোদী ছিলেন আনকোরা। আড়াই বছর পরে মোদীর প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার ঝুলি একটু হলেও ভর্তি হয়েছে, বিশেষ করে ডিমনেটাইজেশনএর সিদ্ধান্তের পরে তো বটেই। বাকি আড়াই বছর মোদী কী করবেন আমরা কেউই জানিনা কিনতু এই বিতর্কের ফলে যে গ্রামীণ ভারতে তাঁর জনপ্রিয়তা একটু হলেও ধাক্কা খেয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর এখানেই রাহুলের সুযোগ।

কংগ্রেসকে এখন নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে টক্কর দিতে গেলে গ্রামীণ ভারতের দিকেই তাকাতে হবে। শহুরে মধ্যবিত্ত মোদীকে ভোট দিলেও তাঁদের সংখ্যা বৃহত্তর ভারতের জনসংখ্যার অনুপাতে অনেকটাই কম। আর নোট বাতিলের ঝক্কি যেহেতু প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশি পড়েছে।

শহুরে মধ্যবিত্তও যে কম হয়রান হচ্ছে তা নয় কিনতু নতুন নোট বাজারে এসে গেলে তাঁদের সমস্যা অনেকটাই নিরাময় হবে। হয়তো সেই ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হবে। কিনতু গ্রামের মানুষের কাছে এই ক্ষতি অপরিসীম আর সেখানেই রাহুলের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ।

সংসদে বিরোধীরা যেমন লড়ছে তেমনি লড়ুক। রাহুল এই সময়ে দেশব্যাপী পদযাত্রায় বেরোন। একসময়ে মহাত্মাও ডান্ডি অভিযান করে ভূভারতের মানুষকে জাগিয়েছিলেন। রাহুল কি তার থেকে কিছু শিখতে পারেন?

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+