মোদী-বিরোধী জোটের সেলাই করতে অগত্যা ছুঁচ ধরতে হল সেই বাহাত্তরের সোনিয়াকেই
এই বাহাত্তরে এসেও তাঁকেই হাল ধরতে হল। কংগ্রেস সভাপতির পদ বছর খানেক হল ছাড়লেও সোনিয়া গান্ধী এখনও ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স বা ইউপিএ-র চেয়ারপার্সন।
এই বাহাত্তরে এসেও তাঁকেই হাল ধরতে হল। কংগ্রেস সভাপতির পদ বছর খানেক হল ছাড়লেও সোনিয়া গান্ধী এখনও ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স বা ইউপিএ-র চেয়ারপার্সন। এবং আগামী ২৩ মে চলতি লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পরে বিরোধীদের একসঙ্গে নিয়ে আসার দায়িত্বটি ফের নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন বর্ষীয়ান এই নেত্রী। নির্বাচনের ফলাফল ত্রিশঙ্কু হতে পারে আন্দাজ করেই বিরোধীদের একত্র করার উদ্যোগ সোনিয়া নিচ্ছেন যাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিপক্ষ মঞ্চের লড়াই জলে না যায়। ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের তরফে জোটসঙ্গী ডিএমকে এবং বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং টিআরএস-এর মতো নির্জোট দলগুলির নেতৃত্বের দিকে হাত বাড়িয়েছে বিরোধী ঐক্যকে অটুট করে তোলার লক্ষ্যে। পাশাপাশি, আহবান করা হয়েছে জনতা দল (সেকুলার), এনসিপি এবং উত্তরপ্রদেশের প্রধান দুই দল সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টিকেও যারা এবারের নির্বাচনে হাত মিলিয়ে লড়ছে মোদীকে হারাতে।

নির্বাচনে লড়লেও সোনিয়া এবারে প্রচারে বিশেষ ছিলেন না
সোনিয়া গান্ধী এবারের নির্বাচনে তাঁর কেন্দ্র রায়বারেলি থেকে লড়লেও নির্বাচনের প্রচারপর্বে সেভাবে তাঁকে দেখা যায়নি। তাঁর পুত্র কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা, যিনি এবছরের শুরুতেই রাজনীতিতে যোগ দেন এবং উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব নেন, এবারের নির্বাচনের প্রচার সামলেছেন। কিন্তু যত ফলাফলের দিন এগিয়ে আসছে, সোনিয়ার গুরুত্ব ততই যেন বাড়ছে। এমনকী, অতীতে তাঁকে কেন্দ্র করে যেই সমস্ত নেতারা কংগ্রেসের থেকে মুখ ঘুরিয়েছিলেন, আজ তাঁদেরকে কংগ্রেসের সঙ্গে একমঞ্চে ডাকতে সেই সোনিয়াই ভরসা।
কংগ্রেস এখন সুতো এতটাই ছাড়তে প্রস্তুত যে বরিষ্ঠ নেতা গুলাম নবী আজাদ এও বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রী পদ পাওয়ার জন্যে তাঁরা আকুল হবেন না। যদিও পরে রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন যে একক বৃহত্তম দল হলে কংগ্রেসের নেতৃত্বের উপরে দাবি জানানো স্বাভাবিক কিন্তু সব কিছুই এখন নির্ভর করছে ফলাফল কী হয়, তার উপর।

কংগ্রেস জানে তিন বড় নেতাকে খুশি করতে রাহুলকে পিছনের সারিতে রাখতে হবে
আসলে কংগ্রেস জানে যে যে তিনটি দলকে প্রয়োজন হবে নির্বাচনের পরে -- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, মায়াবতীর বিএসপি এবং অখিলেশ যাদবের এসপি -- তাঁর কেউই রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিতে চাইবে না, নির্বাচনের ফলাফল অনুকূল হলেও। রাহুলের রাজনৈতিক আবেদনের উপরে এই তিন নেতা-নেত্রীর ভরসা কতটা, তা নতুন করে বলে দিতে হয় না। আর তাই, নেতৃত্বের প্রশ্নে যাতে মোদী-বিরোধিতার আসল লক্ষ্যটাই হারিয়ে না যায়, তাই কংগ্রেসকে সামনে আনতে হয়েছে সোনিয়াকেই কারণ এই পরিস্থিতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি কার্যকরী হবে। সোনিয়ার সঙ্গে অনেক আঞ্চলিক নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো আর তাই তিনি তাঁদেরকে রাহুলের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রাজি করতে পারেন বলে কংগ্রেসের আশা।

কংগ্রেস 'সাপোর্টিং রোল'-এ গেলে তা দলের পক্ষে খুব সম্মানজনক দেখাবে না
দলগুলি নেতৃত্বে এলে কংগ্রেসের মতো জাতীয় দলের কাছে তা যথেষ্ট অস্বস্তিজনক হবে কারণ রাহুল গান্ধীকেই তাঁরা দেশে মোদীর বিকল্প নেতা হিসেবে দেখতে আগ্রহী। কংগ্রেস যদি নিজে বেশি আসন না পায়, তাহলে অতীতে ইন্দিরা বা রাজীব গান্ধীর মতো 'কিং-মেকার' হওয়ার সম্ভাবনাও বেশ কম থাকবে আর তাতে কংগ্রেসকে 'সাপোর্টিং রোল'-এ থাকতে হবে। শতাব্দী-প্রাচীন দলটির কাছে তা খুব সম্মানজনক হবে বলে তাঁর নেতৃত্বের মনে হয় না আর তাই এই মুহূর্তে সোনিয়াকে সামনে নিয়ে এসে অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে তাঁরা।
সোনিয়া অতীতে কোয়ালিশনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা রয়েছে যা রাহুলের এখনও নেই। কিন্তু তাঁর ভগ্নস্বাস্থ্যে সোনিয়া আদতে কতটা পেরে উঠবেন সেটাও চিন্তার বিষয়। রাহুল যত তাড়াতাড়ি বাকি দলগুলির নেতৃত্বের কাছে নিজের ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে পারেন, ততই কংগ্রেসের পক্ষে মঙ্গল।












Click it and Unblock the Notifications