করোনা অস্ত্রেই কী তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ চিন ? জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
করোনা প্রাদুর্ভাবের জেরে হেলে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। গত একমাসে গোটা আমেরিকায় বেকার হয়েছেন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। ধুঁকছে ইউরোপও। এমতাবস্থায় করোনা প্রাদুর্ভাবের জন্য অনেকেই কাঠগড়ায় তুলেছে চিনকে। গন্ধ পাওয়া গেছে ষড়যন্ত্রেরও।

উঠে আসছে নানা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব
অনেকেই করোনার হাত ধরেই অন্য দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে ফেলার মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেছে চিন। সংক্রমণ যত ছড়িয়ে পড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং করোনা সংক্রমণের জন্য সরাসরি চিনের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন। করোনা ভাইরাসকে চিনের তৈরি একটি জীবাণু অস্ত্র হিসাবেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

তবে কী করোনার হাত ধরেই শুরু হল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ?
অন্যদিকে পৃথিবীর মানুষই এর আগে দুটি বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী থেকেছে। গত শতকের সেই দুই যুদ্ধের ফলে বদলে গিয়েছিল বিশ্বের হাল হকিকত। এছাড়া প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক কোটি মানুষ। কিন্তু এই করোনার প্রকোপই কী আসলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ? অদৃশ্য, পরাক্রমশালী এই কোভিড ১৯ নামক ভাইরাসই কী আসল অস্ত্র এই যুদ্ধের! উঠেছে প্রশ্ন।

চিনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
অনেকেই অমুমান করছেন চিনে এই যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। তাই তার জন্য ভিতর ভিতর তারা প্রস্তুতিও নিয়েছিল। ফল স্বরূপ কিছু মাস যেতেই তারা অনেকেই টাই লাগাম পড়াতে সক্ষম হয় করোনা সংক্রমণের উপর। এদিকে ইতিমধ্যেই চিনের বিরুদ্ধে 'কমিউনিস্ট চিন বন্ধ করুন' নামে অনলাইনে সই সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছেন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ নিক্কি হ্যালি। চিনের সঙ্গে বাণিজ্য যুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

চিনের উপর নির্ভরশীল গোটা বিশ্বই
বর্তমান চিনের উপর নির্ভরশীল গোটা দুনিয়া তথা তাবড় তাবড় অর্থনীতির দেশ গুলিও। ইতালির আমদানি করা ওষুধের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে চিন থেকে। অন্যদিকে আমেরিকাও তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৯৭ শতাংশ, জাপান তাদের চাহিদার ৫০ শতাংশ এবং জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৪০ শতাংশ চিন থেকে আমদানি করে। এই মহামারী আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আদপেই চিনের উপর ঠিক কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। আর এখানেই আর জোরালো হচ্ছে ‘যুদ্ধ' শেষে চিনের একা টিকে থাকার তত্ত্বটা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সবথেকে কঠিন সঙ্কটে পৃথিবী
এদিকে বর্তমানে গোটা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত প্রায় ২৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ। মারা গিয়েছেন প্রায় দুলক্ষের কাছাকাছি। আর এই মহামারীর জেরে বর্তমানে মুক্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গুরুতর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সঙ্কট গোটা বিশ্বের জন্য।












Click it and Unblock the Notifications