নিশানা বদল তৃণমূলের, বিজেপি-দমনই এখন মূল টার্গেট

তৃণমূল এবার সত্যিই নিশানা বদল করছে। এখন আর বামেদের তাঁরা প্রবলতর প্রতিপক্ষ ভাবছে না। এখন থেকেই প্রবলতর প্রতিপক্ষ ভেবে টার্গেট করছে বিজেপিকেই। বামেরা ক্রমেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে।

তৃণমূল এবার সত্যিই নিশানা বদল করছে। এখন আর বামেদের তাঁরা প্রবলতর প্রতিপক্ষ ভাবছে না। এখন থেকেই প্রবলতর প্রতিপক্ষ ভেবে টার্গেট করছে বিজেপিকেই। বামেরা ক্রমেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। কংগ্রেস যতই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হোক, তাদের আর ধর্তব্যে আনতে চাইছে না তৃণমূল। কেননা বামেদের সঙ্গে না নিলে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসকে এখন দূরবীন দিয়ে দেখতে হবে।

রাজ্যে শক্তিধর বিরোধীশক্তির যে জায়গায় ফাঁক তৈরি হয়েছে, সেই পরিসরে ঢুকে পড়তে চাইছে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূল চায় না বিজেপির মতো একটা ঘোর সাম্প্রদায়িক দলকে সেই সুযোগ দিতে। তাই এখন থেকেই সতর্ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হোক না লোকসভা নির্বাচন এখনও আড়াই বছর দূরে। ১৪১৯ যত দূরই হোক, এখন থেকেই রাজ্যে আধিপত্য বজায় রাখতে ঘুঁটি সাজিয়ে রাখতে চাইছে তৃণমূল। তৃণমূল মনে করছে, বিজেপিকে আমল দেওয়ার অর্থ, রাজ্য সঙ্ঘ পরিবারকে স্বাগত জানানো।

নিশানা বদল তৃণমূলের, বিজেপি-দমনই এখন মূল টার্গেট

সেই সঙ্ঘ পরিবারের 'বিপদ' নিয়েই দলের কর্মীদের বার্তা দিয়ে রাখল শাসকদল। মমতা ভালোই বোঝেন, দিল্লির রাজনীতিতে দলের গুরুত্ব বাড়াতে বিজেপিকে মোকাবিলা করতেই হবে। তারপর রাজ্যেও তৃণমূলের কাছে বিপদ হয়ে অদূর ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে একমাত্র বিজেপি। তাই এক ঢিলে দু'পাখি মারতে তৎপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তাই তিনি সমস্ত সভাতেই বিজেপিকে টার্গেট করছেন। এখন সিপিএমের বিরুদ্ধে আক্রমণ আপাতত শিকেয় তুলে রেখেছেন। সমস্ত ইস্যুতেই তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া বিজেপিকে টার্গেট করেই।

মমতার এ হেন মনোভার যখন ক্রমে সুস্পষ্ট হতে শুরু করেছে, তখনই তারপর দলীয় সিদ্ধান্ত হয়ে গেল, এ রাজ্যে এবার গেরুয়াবাহিনী প্রতিরোধে সজাগ হতে হবে তৃণমূল কর্মীদের। কোন পথে প্রতিরোধ, তা নিরূপণে এখন জোর তৎপরতাও শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।

সম্প্রতি তৃণমূল জেলা কংগ্রেসের কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হল ভবানীপুরের তেরপন্থা হলে। মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় সুব্রত বক্সি থেকে শুরু করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, , ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে মণীশ গুপ্ত- সবাই সাম্প্রদায়িকতার বিপদকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আসলে এই সুর বেঁধে দিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীই। কোর কমিটির বিগত বৈঠকেই তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের চলার পথ ঠিক করে দিয়েছেন। সেই মতো বিজেপি বিরোধিতায় এবার কোমর বেঁধে নামবেন মমতার সৈনিকরা।

ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের জনসভা থেকে শুরু করে হালে জঙ্গলমহলের জনসভা- সর্বত্রই মমতার নিশানায় মুখ্য ছিলেন মোদি কিংবা বিজেপি। প্রতিটি সভাতেই কেন্দ্রের শাসক দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল মনে করছে, এখনই রাজ্যে মাথা তুলতে পারবে না বামেরা। আর কংগ্রেস তো শেষ তাদের 'আগ্রাসন'-এ। তাই রাজ্যে পসার জমাতে চাওয়া বিজেপি-র থাবা গুঁড়িয়ে দিতে পারলেই কেল্লাফতে। তাই তো কৌশল বদলে বিজেপিকে নিশানা করছে তৃণমূল। আর বিজেপি-র নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের হাতে।

সঙ্ঘকে ঠেকালেই বিজেপি আর নড়াচড়া করতে পারবে না। দিলীপ ঘোষকে রাজ্যের সভাপতি পদে বসিয়ে বিজেপির সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিজেদের হাতে নিয়েছে আরএসএস। তাই আসন্ন লোকসভায় যে সাম্প্রদায়িক তাস খেলবে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবার, তা নিশ্চিত। তাই আগে থেকে তৈরি থাকছে তৃণমূল। গোসুমারি হোক বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক- কোনও সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে হাতিয়ার করে সামাজিক মেরুকরণ করতে দেবে না তৃণমূল। পুজোর মরশুমে রাজ্যের একাধিক জেলায় সেই বিভাজনের জেরেই অশান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।

তারপর থেকেই মমতা ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছেন। যাতে দলের কর্মীদের মধ্যে এই সামাজিক ধর্মীয় বিভাজনের চোরা স্রোত ঢুকতে না পারে, তার জন্য সদাসতর্ক রাজ্যের সরকারি দল। তাই সিপিএম বিরোধী লড়াইকে শিকেয় তুলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিপদের বিরুদ্ধে লড়াইকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আচমকাই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতার গুরুত্ব বেড়ে গিয়েছে। দিল্লির রাজনীতিতে মুখ হয়ে উঠছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০১৪ সালেও একই লক্ষ্য নিয়ে লোকসভা নির্বাচনে ঝাঁপিয়েছিল তৃণমূল। দলের ৩৪টি এমপি সত্ত্বেও দিল্লির রাজনীতিতে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি তৃণমূল। কারণ সেই বিজেপি-ই। গতবারের সেই বিক্রম এবার নিশ্চয়ই দেখাতে পারবে না গেরুয়া শিবির। সেদিকে লক্ষ্য রেখে এখন থেকেই নিজের অস্ত্রে শান দিয়ে রাখতে চাইছেন মমতা। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে দলের স্বপ্ন সফল করতে সাম্প্রদায়িকতার বিপদ রুখতেই হবে। সেই লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে থেকেই শুরু করতে চায় তৃণমূল।

সেইসঙ্গে মোদি সরকারের আর্থিক নীতি, রাজ্যের উন্নয়ন-খাতে অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও বড় করে তুলে দেখাতে হবে। কেননা এখানেও বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি স্পষ্ট। আর কেন্দ্রের এই বিরোধিতায় যদি সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে প্রচারে নামা যায়, কেন্দ্রীয় সরকারকে শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপি-র অগ্রগমনও রুখে দেওয়া যাবে। মমতার সেনাপতিরা পাখির চোখ করেছে তাই ২০১৯-কেই।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+