উত্তরপূর্বের সিংহভাগের দখল নিল বিজেপি, নিভল বামেরা, টিমটিম করে জ্বলছে কংগ্রেস
সাতটি রাজ্যের মধ্যে পাঁচটিতে সরাসরি অথবা জোট সরকার করে ক্ষমতায় থাকছে বিজেপি।
২০১৬ সালের মে মাসে অসম দিয়ে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালের শেষে অরুণাচলপ্রদেশ, তারপরে মনিপুর হয়ে অবশেষে ত্রিপুরা। বিজেপি গত দেড় বছরে একেরপর এক উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য দখল করে নিয়েছে। ঠিক একইভাবে কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়েছে একদা শাসিত রাজ্যগুলি। ত্রিপুরা একমাত্র বাম দুর্গ ছিল। সেখানেও এবার থাবা বসিয়ে সাতটি রাজ্যের মধ্যে পাঁচটিতে সরাসরি অথবা জোট সরকার করে ক্ষমতায় থাকছে বিজেপি।
উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সাতটি হল অরুণাচলপ্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম,অসম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা। এর মধ্যে বিজেপি সিংহভাগ দখল করে ফেলেছে। বামেদের বাতি নিভিয়ে কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড করে ছেড়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। কোন রাজ্যে কী অবস্থা জেনে নেওয়া যাক।

অরুণাচলপ্রদেশ
অরুণাচলপ্রদেশে একেরপর এক পালাবদল হয়েছে ২০১৬ সালে। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী হন পেমা খাণ্ডু। তারপরে সেপ্টেম্বরে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে পেমা পিপলস পার্টি অব অরুণাচলে যোগ দেন। সরকার তখন বদলে হয়ে যায় পিপলস পার্টির। তারপরে ফের ডিসেম্বরে পালাবদল। পেমা এবার দল বদলে বিজেপি যোগ দেন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে। ৬০ বিধানসভা আসনের রাজ্যে বিজেপি একলাফে ৪৮ জন বিধায়কে পৌঁছে যায়। এই মুহূর্চে বাকী আসনে পিপলস পার্টি ৯টি আসন, ২টি নির্দল ও একটি কংগ্রেসের বিধায়ক রয়েছেন। যদিও ২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ৪২টি আসন পেয়েছিল। তারপরে সেরাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছিল।

মনিপুর
মনিপুরেও ২০১৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি সরকার দখল করেছে। যদিও পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। ৬০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২৮টি ও বিজেপি ২১টি পায়। পরে কংগ্রেস ছেড়ে অনেকে বিজেপিতে যোগ দেন। সবমিলিয়ে বিজেপিতে এই মুহূর্তে বিধায়ক ৩১ ও কংগ্রেসের কমে গিয়ে ১৯জন। এনপিএফ, এনপিপি, এলজেপি ও নির্দল প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে মনিপুরেও সরকার গঠন করে ফেলেছে বিজেপি। এখন দল হিসাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতাও পেয়ে গিয়েছে।

অসম
অসমে ২০১৬ সালে প্রথমবার রাজ্য সরকারে ক্ষমতা দখল করে ইতিহাস তৈরি করেছে বিজেপি। ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি তথা এনডিএ পেয়েছে ৮৬টি আসন। তার আগে সেরাজ্যে মাত্র ২৭টি আসন ছিল গেরুয়া শিবিরের। প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন সর্বানন্দ সোনওয়াল। তার আগে বহুবছর ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস।

ত্রিপুরা
এবারের ভোটে চলো পাল্টাইয়ের ডাক দিয়ে দুই তৃতীয়াংশ আসন দখল করে ফেলেছে বা করতে চলেছে বিজেপি। মানিক সরকারের বামেদের ২৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার ত্রিপুরার মাটিতে পদ্ম ফুটিয়েছেন অমিত শাহরা। বাকী বিরোধী কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসও বামেদের পাশাপাশি মাটিতে মিশে গিয়েছে।

নাগাল্যান্ড
নাগাল্যান্ডে নাগা পিপলস ফ্রন্টের ৪৫টি আসন ছিল। বিজেপির ছিল মাত্র ৪টি ও জেডিইউ একটি আসন ছিল। সেখান থেকে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক পিপলস পার্টিতে যোগ দেন নেইফিউ রিও। সেই দলের নেতৃত্ব সামলে বিজেপির সঙ্গে তিনি জোট করে লড়েছেন ভোটে। ফলে এবারের ভোটে এনপিএফ ২৭টি আসনে জিতেছে বা এগিয়ে রয়েছে। আর এনডিপিপি ১৯টি আসনে জয়ী/এগিয়ে ও জোটসঙ্গী বিজেপি ৯টি আসনে জয়ী/এগিয়ে রয়েছে। ফলে আগামিদিনে নাগাল্যান্ডে জোটসঙ্গীকে নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিজেপিই।

মেঘালয়
মেঘালয়ে ৬০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২২টিতে এগিয়ে/জয়ী হয়েছে। এনপিপি ১৮টিতে এগিয়ে/জয়ী। ইউডিপি ৭টি আসনে এগিয়ে/জয়ী। ও অন্যান্যরা ৮টিতে এগিয়ে/জয়ী অবস্থায় রয়েছে। ত্রিশঙ্কু অবস্থায় কোন দল সরকার গঠন করে তা অবশ্যই দেখার বিষয়। কংগ্রেস ২০১৩ সালের নির্বাচনে ২৯টি আসন পেয়েছিল। পরে তা কমে ২৪টিতে এসে ঠেকে। সেই সংখ্যাতেও রাহুল গান্ধীর দল এবছর পৌঁছতে পারেনি।

মিজোরাম
মিজোরামে একমাত্র কংগ্রেসের সরকার রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পি লালথানহাওলা। ২০১৩ সালের ভোটে ৪০ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেস ৩৪টি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে। বিরোধী এমএনএফ ও এমপিসি যথাক্রমে ৫টি ও ১টি করে আসন পেয়েছে। এই রাজ্যে এখনও বিজেপির তেমন কোনও প্রভাব নেই। তবে আগামী ভোটে গেরুয়া শিবির কতটা প্রভাব ফেলতে পারে সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications