মহাকাশেও ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘নরখাদক’! আস্ত গ্রহগুলিকে খেয়ে ফেলছে সে, কী সেই ঘটনা
মহাকাশেও ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘নরখাদক’! আস্ত গ্রহগুলিকে খেয়ে ফেলছে সে, কী সেই ঘটনা
মহাকাশে বিচরণ করছে এমন এক 'নরখাদক' যে সে আস্ত গিলে ফেলছে গ্রহকে। চাঞ্চল্যকর এই মহাজাগতিক কাণ্ড কারখানা দেখে অবাক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। মহাকাশে মহাজাগতিক এই বিপর্যয়ের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে বিজ্ঞানীদের মধ্যে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গভীর মহাকাশে এইরকম ঘটনা লক্ষ্য করেছেন একাধিকবার।

যখন কোনও নক্ষত্রের মৃত্যু হয়, তখন কী ঘটে?
সূর্য আমাদের সৌরজগতের সমস্ত শক্তির উৎস। এমন হাজারে সূর্য বা নক্ষত্র ছড়িয়ে রয়েছে মহাকাশে। কিন্তু যখন কোনও নক্ষত্রের মৃত্যু হয়, তখন কী ঘটে? জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন, একটি মৃত নক্ষত্র তার নিজস্ব মণ্ডলের গ্রহগুলিকে গিলে ফেলে। এই ঘটনাকে মহাজাগতিক নরখাদকের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা চালাচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রটি তাঁর জগতের অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের অংশ থেকেও ধ্বংসাবশেষ সাফ করে দেয়। পাথুরে-ধাতু এবং বরফযুক্ত উপাদান, গ্রহের উপাদান- সবকিছুই গ্রাস করে নেয়। এই ঘটনাটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং অন্যান্য টেলিস্কোপ থেকে সংগৃহীত তথ্যে লক্ষ্য করা গেছে। সেইমতো গবেষণা চালাচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

সাদা বামন প্রকৃতির নক্ষত্রে পর্যবেক্ষণ
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, মহাকাশ থেকে সংগৃহীত এই তথ্য বিকশিত গ্রহ ব্যবস্থার হিংস্র প্রকৃতি বর্ণনা করতে সাহায্য করবে। তা থেকে নতুন গঠিত নক্ষত্র-সিস্টেমগুলি সম্পর্কেও জানা যাবে। তাঁরা জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণ করা নক্ষত্রটি হল জি২৩৮-৪৪। একটি সাদা বামন প্রকৃতির নক্ষত্র।

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে চমকপ্রদ ঘটনা
শ্বেত বামন হল আমাদের সূর্যের মতোই একটি নক্ষত্র, যা তার বাইরের স্তরগুলিকে পরিত্যাগ করে পারমাণবিক ফিউশনের মাধ্যমে জ্বালানি পোড়ানো বন্ধ করে দেয়। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে চমকপ্রদ ঘটনা উঠে এসেছে। তাঁরা সৌরজগতের শুষ্ক ও পাথুরে গ্রহগুলির বিধ্বস্ত রূপের সঙ্গে তুলনা করে তা ব্যাখ্যা করেছেন।

শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবষকরা
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার স্নাতক তথা প্রধান গবেষক টেড জনসন বলেন, "আমরা কখনই একই ধরনের বস্তুকে একই সময়ে শ্বেত বামনে পরিণত হতে দেখিনি। এই শ্বেত বামন নক্ষত্রকে নিয়ে গবেষণা করে আমরা এখনও অক্ষত গ্রহের সিস্টেমগুলি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করব।

বামন গ্রহগুলি দৈত্যাকার নক্ষত্রের গ্রাসে
গবেষণায় জানা গিয়েছে, গ্রহতন্ত্রের বিবর্তনের তত্ত্বগুলি একটি বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়া হিসাবে একটি লাল দৈত্য নক্ষত্র এবং একটি সাদা বামন নক্ষত্রের মধ্যে পরিবর্তনকে বর্ণনা করে। নক্ষত্রটি দ্রুত তার বাইরের স্তর হারায় এবং এই নক্ষত্র জগতের অন্তর্গত গ্রহের কক্ষপথ নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। মহাগজতের ছোট বস্তু, যেমন- গ্রহাণু এবং বামন গ্রহগুলি দৈত্যাকার ওই নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি যেতে পারে এবং নক্ষত্রের গ্রাসে চলে যেতে পারে।

সাদা বামন পর্ব শুরু হয় ১০০ মিলিয়ন বছরে
এই গবেষণা থেকে মহাকাশের হিংসাত্মক বিশৃঙ্খল পর্যায়ের মাত্রা সম্পর্কে জানা যাবে বলে বিশ্বাস বিজ্ঞানীদের। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে, নক্ষত্রের ওই সাদা বামন পর্ব শুরু হয় ১০০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে। তখন নক্ষত্রটি একই সঙ্গে তার গ্রহাণু বেল্ট এবং কুইপার বেল্ট-সদৃশ অঞ্চল থেকে উপাদান গ্রহণ করতে এবং গ্রাস করতে সক্ষম হয়।

একটি তারকা মারা গেলে কী ঘটে?
যখন আমাদের সূর্যের মতো একটি নক্ষত্র তার জীবনের শেষ দিকে লাল দৈত্যে পরিণত হয়, তখন এটি তার বাইরের স্তরগুলিকে পরিত্যাগ করতে থাকে। তা থেকেই পরিণতি লাভ করে গ্রহাণু, ধূমকেতু এবং চাঁদের মতো ছোট বস্তুর মহাকর্ষীয় বিচ্ছুরণ। তা ওই নক্ষত্র জগতের বড় গ্রহের দিকে ছুটে যায়।

সূর্যের বিবর্তনের চূড়ান্ত দৃশ্য পরিলক্ষিত
গবেষকরা এখন থেকে ৫ বিলিয়ন বছর আগে সূর্যের বিবর্তনের চূড়ান্ত দৃশ্য পরিলক্ষিত করেছেন। সেখানে দেখা গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ গ্রহগুলির সঙ্গে পৃথিবী সম্পূর্ণরূপে বাষ্পীভূত হতে পারে। কিন্তু প্রধান গ্রহাণু বেল্টের অনেক গ্রহাণুর কক্ষপথ মহাকর্ষীয়ভাবে বৃহস্পতি দ্বারা বিঘ্নিত হয় এবং অবশেষে শ্বেত বামনের উপর পড়ে, যা অবশিষ্ট সূর্য হয়ে ওঠে।

নক্ষত্রের লাল দৈত্য পর্বের পরে যা ঘটে
জনসন ব্যাখ্যা করেছিলেন, "নক্ষত্রের লাল দৈত্য পর্বের পরে সাদা বামন নক্ষত্রটি যেটি অবশিষ্ট থাকে তা পৃথিবীর থেকে বড় নয়। পথভ্রষ্ট গ্রহগুলি নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং শক্তিশালী জোয়ারের শক্তি অনুভব করে, যা তাদের ছিন্ন করে একটি গ্যাসীয় এবং ধূলিময় ডিস্ক তৈরি করে। তা অবশেষে পতিত হয় সাদা বামনের পৃষ্ঠে। আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি এই ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছিল একটি প্রতিবেদনে।












Click it and Unblock the Notifications