'মমতা নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছেন': অপর্ণা যেন দিদির সামনে একটা আস্ত আয়না তুলে ধরলেন
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব অপর্ণা সেন যেন একেবারে আয়না বসানোর কাজটি করে দিলেন।
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব অপর্ণা সেন যেন একেবারে আয়না বসানোর কাজটি করে দিলেন। মঙ্গলবার একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি নিউজ চ্যানেলের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছেন। ইদানিংকালে পশ্চিমবঙ্গে "জয় শ্রীরাম" স্লোগানের দাপাদাপি এবং মমতার কথায় কথায় সেই সমস্ত স্লোগান ওঠানো লোকেদের পিছনে তেড়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে মেনে নিতে পারেননি বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী-চিত্র পরিচালক। "নিজের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে হলে মমতাকে নিজের ভাষার উপরে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে; কী বলছেন সেটা ভেবে নিয়ে বলতে হবে। ওনার আশেপাশে তো ভালো লোকও আছেন, তাঁদের পরামর্শ তিনি নিতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীকে এমন আচরণ করতে দেখে মোটেই খুশি নন। আমার মনে হয়, মমতা তাঁর নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছেন। সামনের নির্বাচনে তাঁর সামনে যথেষ্ট কঠিন লড়াই অপেক্ষা করে রয়েছে," বলেন বছর তিয়াত্তরের অপর্ণা।

স্লোগানের লড়াই করে অযথা সময় বরবাদ করছেন মুখ্যমন্ত্রী
অপর্ণা সেনের এই সাবলীল কথাগুলি হয়তো মমতাকে তাঁর পরামর্শদাতা-অনুগামীরা ভয়ে বা সঙ্কোচে দিয়ে উঠতে পারছেন না কিন্তু এই কথাগুলি মমতার উপলব্ধি করা যথেষ্ট জরুরি। আবেগের বশবর্তী হয়ে তৃণমূল নেত্রী যেভাবে "জয় শ্রীরাম" স্লোগানের বিরোধিতা করছেন, পাল্টা স্লোগান তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন, সেটা আখেরে সাহায্য করবে তাঁর প্রতিপক্ষকেই। মমতাকে বুঝতে হবে যে স্লোগানের লড়াই দিয়ে বিজেপিকে হারানোর পরিকল্পনা করা নিরর্থক। মোদীর জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র গরু বা রামের মধ্যে এখন আর সীমিত নেই, একটি সার্বিক সামাজিক-মনস্তাত্বিক পরিবর্তনের মধ্যেই রয়েছে তাঁর জয়ের চাবিকাঠি।

নিজের ভালো কাজগুলির আরও বিজ্ঞাপন করুন মমতা, দিলে তাই কাজে দেবে
যদি একুশে মমতা বিজেপিকে হারাতে চান, তাহলে সময় নষ্ট না করে তাঁর আশু প্রয়োজন নিজের সরকারের করা কাজগুলির আরও বেশি করে বিজ্ঞাপন করা। মমতা তাঁর রাজত্বে যে কিছুই করেননি তা নয়। গ্রামাঞ্চলে তৃণমূল নেত্রীর কাজকর্মের খতিয়ানে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু চাকরি ও শিল্পায়নের মতো গুরু বিষয়গুলিতে তাঁর সরকার সাফল্য না পাওয়াতে চটেছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত আর যেহেতু সমাজের এই শ্রেণীর ছবি গণমাধ্যমে উঠে আসে আরও বেশি করে, তাই কর্ম, শিল্প, সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ইত্যাদি নিয়ে তাদের হতাশার কথাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে; বিজেপি দাঁত ফোটানোর সুযোগ হাসিল করেছে।

লোকসভা নির্বাচনের ফলের ধাক্কায় মমতা এখন বেসামাল
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পরে মমতা যে একটি ধাক্কা খেয়েছেন, তা নির্দ্বিধায় বলা চলে। আর এই অপ্রত্যাশিত ধাক্কায় তিনি মেজাজ হারাচ্ছেন, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন। অপর্ণা সেনের পরামর্শটি খাঁটি। একজন সর্বোচ্চ প্রশাসক হিসেবে মমতার এই সময়ে বুঝেশুনে পা ফেলা উচিত; কিন্তু তিনি আচরণ করছেন একজন পাতি রাজনীতিকের মতো যার কাছে নির্বাচনের ফলাফলই সব। দু'বারই ক্ষমতায় বিরাট জনাদেশ নিয়ে এসেছেন মমতা কিন্তু মোদীর দ্বিতীয় জনাদেশ যা তাঁর মতোই প্রথমবারের থেকেও বড়, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। কেন? লড়াকু মানসিকতার মানুষরা কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দমে যান না। মমতাকে দিশাহীন লাগছে যেটা তাঁর কাছে মোটেই অভিপ্রেত নয়।












Click it and Unblock the Notifications