টাওয়ার ছাড়াই মোবাইলে যোগাযোগের নয়া উপায় বাতলেছে পাক জঙ্গিরা!
নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই : ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় 'হ্য়ারিকেন স্যান্ডি' হওয়ার পর মোবাইল যোগাযোগ পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। সেইসময়ে টাওয়ার ছাড়াই যাতে মোবাইলে যোগাযোগ করা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেইরকম এক আপতকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। [বারবার কেন ফ্রান্সকেই নিশানা বানাচ্ছে জঙ্গিরা? কী কারণ?]
জানা গিয়েছে, সেই মার্কিন প্রযুক্তিই প্রয়োগ করছে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। এই পদ্ধতিতে মোবাইলের টাওয়ার ছাড়াই যোগাযোগ করা সম্ভব। শুধু এক্ষেত্রে মোবাইলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে রেডিও সেটের সঙ্গে জুড়তে হবে। [আল আদনানির এই ঘোষণার পরই সারা বিশ্বে রমরমা আইএস জঙ্গিদের]

তাহলেই এই উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে যেকোনও গোপন জায়গায় বসেও যোগাযোগ করা যাবে। এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই ধরনের যোগাযোগ প্রযুক্তির ফাঁক গলে গোয়েন্দাদের চোখে ধরা পড়বে না। এই ধরনের প্রযুক্তিকে ট্র্যাক করে জঙ্গি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ কার্যত অসম্ভব। [জঙ্গি হামলার চেয়েও এই বিষয়টি বেশি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে]
গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, গোটা পৃথিবী জুড়েই জঙ্গিরা এই প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। দুর্গম এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও জঙ্গিদের সঙ্গী হচ্ছে এই প্রযুক্তি। ফলে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে গোয়েন্দাদের কাছে। [কাশ্মীরে নিহত হিজবুল কম্যান্ডার বুরহান ওয়ানির জঙ্গি হয়ে ওঠার কাহিনি]
সম্প্রতি ভারতীয় সেনার হাতে ধরা পড়েছে লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সজ্জন আহমেদ। তার কাছে একটি মোবাইল সেট ও রেডিও পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তার কাছেই গোয়েন্দারা জেনেছেন, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাদের এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করেছে।
গোয়েন্দারা জেনেছেন, মোবাইল ও রেডিও সেট একসঙ্গে জুড়ে দিলেই যোগাযোগ করা সম্ভব। মোবাইলের কোনও টাওয়ার না থাকায় তা গোয়েন্দাদের চোখেও পড়বে না। অথচ জঙ্গিদের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান হয়ে যাবে কোনও ঝামেলা ছাড়াই।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একেবারে দুর্গম, প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে থেকেও গোয়েন্দাদের নজর এড়িয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব। কোথা থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে সেটাও জানা যাবে না বলে জেনেছে ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স।
তবে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি গোচরে আসার পর থেকেই এই নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছেন। কীভাবে এই প্রযুক্তির পাল্টা বের করে জঙ্গিদের ধরা যায়, সেটারই চেষ্টা চলছে। খুব তাড়াতাড়ি সাফল্য পাওযা যাবে বলেও বিশ্বাস কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের।












Click it and Unblock the Notifications