চার বছরে মোদী সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব জানেন কি
চার বছর পূর্ণ করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। সরকারে আসার আগে নরেন্দ্র মোদী সরকার একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বছরে ১ কোটি চাকরি, ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ সহ অনেককিছু।
দশবছর ধরে তোড়জোড় করার পরে অবশেষে গতবছরের জুলাই মাস থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু করে কেন্দ্র। প্রথম কয়েকমাস বেশ ঝড়-ঝঞ্ঝা পোহানোর পরে অবশেষে জিএসটি-র সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিদেশ নীতি
নরেন্দ্র মোদী নিজে ৫৩টি দেশে ভ্রমণ করেছেন। চিনের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে উদ্যোগী হয়েছেন। ডোকলাম নিয়ে টেনশন হলেও তা স্তিমিত করা গিয়েছে। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরিতা কমানো যায়নি। এরই মাঝে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তা যেমন দেওয়া হয়েছে, তেমনই আক্রমণ হলে তার জবাবও মোদী সরকার দেবে তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক অপরাধ বিল
বিজয় মালিয়া, নীরব মোদীর মতো অর্থনৈতিক অপরাধে দুষ্টদের শাস্তি দিতে নয়া বিল তৈরি করেছে মোদী সরকার। এপ্রিল মাসে বিল কার্যকর হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, একশো কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক অপরাধ করে পালিয়ে গেলে অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে।

বড় দুর্নীতি নেই
মোদী সরকারের আমলে নীরব মোদী কাণ্ড হলেও সরকারি কোনও মন্ত্রী আমলার তাতে জড়িত থাকার খবর নেই। সেভাবে মোদী সরকারের চার বছরে কোনও দুর্নীতিও নেই। ইউপিএ সরকারের আমলে যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে তার কিছুই সেভাবে মোদী সরকারের আমলে শোনা যায়নি।

নোট বাতিল
নোট বাতিল নিয়ে মোদী সরকার যতই আপ্তবাক্য আওড়ে যাক, নোট বাতিল আসলে বড় ধাক্কা দিয়েছে কেন্দ্রকে। একলপ্তে মোট নোটের ৮৬ শতাংশ বাজার থেকে উবে গিয়েছিল। ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোট তুলে দিয়েছিল কেন্দ্র। বদলে কিছুদিন পরে নতুন ৫০০ ও ২ হাজার টাকার নোট চালু হয়। পরে ২০০ টাকার নোটও চালু হয়েছে। তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে নোট বাতিল করা হয়েছিল তার কতটা সফল হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গিয়েছে।

মেক ইন ইন্ডিয়া
নরেন্দ্র মোদী সরকারের অন্যতম মুখ্য প্রকল্প ছিল মেক ইন ইন্ডিয়া। তবে এই প্রকল্পে বড় কোনও সাফল্য আসেনি। একেরপর এক স্টার্ট আপ তৈরি হলেও তা পরে মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিদেশের বড় সংস্থাগুলিও যেভাবে প্রচার করা হয়েছিল, সেই অনুপাতে দেশের বাজারে ব্যবসা করতে আসেনি।

অনাদায়ী ঋণ
বাজে ঋণের পরিমাণ গত কয়েকবছরে বহুগুণ বেড়েছে। যার ফলে চাপের মুখে রাষ্ট্রয়ত্ব ব্যাঙ্কগুলি। চাপে কেন্দ্র সরকারও। পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলিকে বাঁচাতে কেন্দ্র সরকারকে টাকা ঢালতে হচ্ছে। যার ফলে অন্য প্রকল্পে টাকা আটকে যাচ্ছে।

কৃষি
মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম দুবছর খরা গিয়েছে। পরের দুই বছরে কেন্দ্র কৃষিতে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করেছে। তবে ২০১২ সালের পর থেকেই কৃষির বৃদ্ধি সন্তোষজনক নয়। এবছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টেও আবহাওয়ার পরিবর্তন ও নানা সমস্যায় কৃষি থেকে আয় এক চতুর্থাংশ আগামিদিনে কমবে বলে দাবি করা হয়েছে। কৃষি ঋণ মকুব, আত্মহত্যা সহ একাধিক ইস্যু রয়েছে যা সঠিকভাবে মোদী সরকার সামলাতে পারেনি।












Click it and Unblock the Notifications