সতীদাহের ১৮৪ বছর, এখনও জ্বলছে নারী, শুধু 'সতী' তকমা নেই!

উল্লেখ্য, ১৮২৯ সালে আজকের দিনেই আইন করে বন্ধ করা হয়েছিল সতীদাহ প্রথা। কেটে গিয়েছে ১৮৪ বছর। নারী নিরাপত্তা এখনও সেই তিমিরেই। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির বদল হয়েছে অনেক। তাই নিয়মের ঘেরাটোপ থেকে এই নৃশংসতা বেরিয়েছে ঠিকই। কিন্তু অস্তিত্বের সংকট তখনও ছিল না এখনও নেই।
১৮২৯ সালে আজকের দিনেই আইন করে বন্ধ করা হয়েছিল সতীদাহ প্রথা
সতীদাহ প্রথাটা আসলে কী ছিল? স্বামী মারা গেলে সমাজের চোখে সতী হওয়ার জন্য নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একই চিতার আগুনে ঝাঁপিয়ে আত্মাহূতি দেওয়ার নামই ছিল সতীদাহ। কোনও মহিলাই নিজের ইচ্ছায় সতীত্ব প্রমাণের এই মরণ খেলায় অংশগ্রহণ করত বলে তো বিশ্বাস হয় না। তাহলে একাধারে বলা চলে নয় এটা খুন, অথবা আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করা। দুই ক্ষেত্রেই নারীর সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত এ নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
সে তো ছিল সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতক। এখন একবিংশ শতক। পরিস্থিতির কতটা পরিবর্তন হয়েছে। কাগজ খুললে, টিভি চালালে ধর্ষণ, খুন, যৌন নিগ্রহের ঘটনা শ'য়ে শ'য়ে মেলে। পণ না দেওয়ায় জ্বালিয়ে মারা হচ্ছে বাড়ির বউকে। অতিরিক্ত যৌন শোষণে প্রাণ হারাচ্ছে নাবালিকা এমন উদাহরণও রয়েছে দেশের বুকে। সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এক্ষেত্রেও। শুধু প্রথা নেই বলে সতী তকমা আর লাগছে না।
পরিসংখ্যান বলছে। ১৯৯৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত নারী নির্যাতনের হার যত বেড়েছে জনসংখ্যা তত বৃদ্ধি পায়নি। সবথেকে বেড়েছে নারী ধর্ষণের ঘটনা। ১৯৯৭ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবছর ৫০০০-এর বেশি মহিলা পণ দিতে না পেরে মৃত্যুর পথ বেছে নেয়। কিন্তু গত এক দশকে ধর্ষণের সংখ্যা যে হারে বেড়েছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক।
সে যুগের কথা বাদ দিলাম। এযুগেও সেকেলে ধ্যানধারণার শেকল কেটে বেরতে পেরেছে কি তথাকথিত আধুনিক সমাজ? আক্ষরিক অর্থে সতীদাহ বন্ধ হলেও প্রথাবন্ধের ভাবনাটাকে বাস্তবায়িত করা গিয়েছে কী?












Click it and Unblock the Notifications