আইপিএলে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিসিসিআই-এর কড়া নির্দেশিকা, অমান্য করলেই কঠিন শাস্তির উল্লেখ

বিসিসিআই আইপিএল দলগুলির জন্য একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকায় চলমান টুর্নামেন্টে গুরুতর প্রোটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিসিসিআই তাৎক্ষণিক কার্যকরীকরণের জন্য খেলোয়াড় ও দলের জন্য নতুন নিয়মাবলীও ঘোষণা করেছে, যা ভবিষ্যতে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বৃহস্পতিবার দশটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে চিঠি লিখে এই মরসুমে প্রোটোকল লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি তুলে ধরেন এবং দলগুলিকে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা জোরদার করার আহ্বান জানান।

পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, সাইকিয়া লিখেছেন, "চলমান মরসুমে কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল আইপিএল-এর সাথে জড়িত সকল অংশীদারদের কাছ থেকে আশা করা পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা সচেতনতা এবং প্রোটোকল পরিপালনের মানকে জোরদার করা।"

এই নির্দেশিকা দল, মালিক এবং খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মাবলী স্পষ্ট করে দিয়েছে। এতে বিসিসিআই-এর দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (এসিএসইউ) দ্বারা রিপোর্ট করা লঙ্ঘনগুলি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "বিসিসিআই-এর নজরে এসেছে যে বর্তমান আইপিএল মরসুমে খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ এবং দলের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার কিছু অসদাচরণ ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলি যদি সমাধান না করা হয়, তবে টুর্নামেন্ট, সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং গভর্নিং বডি হিসাবে বিসিসিআই-এর জন্য উল্লেখযোগ্য সুনামহানি ঘটাতে পারে। এমনকী ব্যক্তি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের গুরুতর আইনি দায়বদ্ধতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীনও করতে পারে।"

বিসিসিআই-এর এই বার্তায় খেলোয়াড়দের হোটেল কক্ষে অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশকে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিসিসিআই সচিব বলেন, "পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে যে কিছু খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফ সদস্য সংশ্লিষ্ট আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির টিম ম্যানেজারের অনুমোদন ছাড়াই অননুমোদিত ব্যক্তিদের তাদের হোটেল কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে, টিম ম্যানেজার এই ধরনের অতিথিদের উপস্থিতি সম্পর্কে একেবারেই অবগত ছিলেন না। এই অভ্যাসটি অবিলম্বে কার্যকরভাবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।"

এছাড়াও, বিসিসিআই নিরাপত্তা লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) দের না জানিয়ে খেলোয়াড়দের অননুমোদিত গতিবিধির বিষয়েও সতর্ক করেছে।

সাইকিয়া চিঠিতে বলেন, "খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফরা নির্ধারিত নিরাপত্তা লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) বা টিম ইন্টিগ্রিটি অফিসার (টিওআই) দের না জানিয়ে অপ্রীতিকর সময়ে টিম হোটেল ছেড়ে যাচ্ছেন এমন ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। এই ধরনের প্রস্থান গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা তৈরি করে এবং ব্যক্তিদের এমন ঝুঁকির মুখোমুখি করে যা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবগত না করা হলে প্রশমিত করা সম্ভব নয়।"

রিপোর্টে বেনামী দল মালিকদের দ্বারা প্রোটোকল লঙ্ঘনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা প্লেয়ারস অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস অ্যাক্সেস (PMOA) এর পবিত্রতা বজায় রাখেননি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "বিসিসিআই উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে কিছু আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ম্যাচের সময় প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস অ্যাক্সেস (PMOA) প্রোটোকল মেনে চলেননি। বিশেষভাবে, লাইভ ম্যাচের পরিস্থিতিতে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকদের খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ করার, কাছে যাওয়ার, আলিঙ্গন করার বা অন্যথায় শারীরিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করার ঘটনা দেখা গেছে। এই ধরনের আচরণ, যতই ভালো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক না কেন, প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকলের সরাসরি পরিপন্থী এবং দলের গতিশীলতা ও ম্যাচের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারে।"

বিসিসিআই এই চিঠিতে খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের জন্য তিন-দফা নির্দেশিকা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: দলের সদস্যের পরিচয়, সম্পর্ক বা ঘোষিত উদ্দেশ্য নির্বিশেষে টিম ম্যানেজারের পূর্ব জ্ঞান এবং স্পষ্ট লিখিত অনুমোদন ছাড়া কারো ব্যক্তিগত হোটেল কক্ষে প্রবেশ নিষেদ্ধ। অতিথি এবং দর্শনার্থীদের হোটেলের নির্দিষ্ট পাবলিক এলাকায়, যেমন লবি বা রিসেপশন লাউঞ্জে, অভ্যর্থনা জানাতে হবে। টিম ম্যানেজার লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অনুমোদন না দিলে কোনও অতিথিকে ব্যক্তিগত হোটেল রুমে নিয়ে যাওয়া যাবে না।

বিসিসিআই সকল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে টার্গেটেড আপস এবং "হানি ট্র্যাপিং"-এর সুপরিচিত ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করেছে, যা উচ্চ-প্রোফাইল ক্রীড়া পরিবেশগুলিতে প্রচলিত। যৌন অসদাচরণ সহ প্রযোজ্য ভারতীয় আইনের অধীনে গুরুতর আইনি অভিযোগের জন্ম দিতে পারে এমন ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে সর্বদা এই ঝুঁকিগুলি কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।

খেলোয়াড়দের চলাচলের ক্ষেত্রে, বিসিসিআই কঠোর কিছু নিয়মাবলী নির্ধারণ করেছে: সকল খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফকে যেকোনো সময় টিম হোটেল ছাড়ার আগে এসএলও এবং/অথবা টিওআই-কে জানাতে ও তাদের থেকে অনুমতি নিতে হবে। ব্যক্তিগত, বিনোদনমূলক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হোটেলের বাইরে যেকোনো পরিকল্পিত চলাচলের তথ্য টিম ম্যানেজার এবং এসএলও-কে যথেষ্ট আগে থেকে জানিয়ে রাখতে হবে। এসএলও/টিওআই সকল দলীয় চলাচলের একটি সমসাময়িক লগ (লিপিবদ্ধ তালিকা) সংরক্ষণ করবেন, যা অনুরোধের ভিত্তিতে বিসিসিআই অপারেশনস টিমের কাছে উপলব্ধ থাকবে।

PMOA লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে মালিকদের জন্যও তিন-দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে: আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক এবং তাদের প্রতিনিধিদের ম্যাচের সময় ডাগআউট, ড্রেসিং রুম বা খেলার মাঠে খেলোয়াড় বা দলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা বা শারীরিকভাবে প্রবেশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, যদি না তা নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে হয়। সীমাবদ্ধ অঞ্চলে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সকল স্তরের প্রবেশাধিকার আইপিএল অপারেশনস ডিভিশন দ্বারা জানানো PMOA প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। যেকোনো বিচ্যুতি গুরুতর লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচিত হবে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হলো আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক এবং তাদের সহযোগীদের প্রতিটি ম্যাচের দিনের আগে প্রযোজ্য প্রোটোকল সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবহিত করা।

আইপিএল-এর আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা ছিল পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচে রিয়ান পরাগকে ড্রেসিং রুমের ভিতরে ভ্যাপিং করতে দেখা যাওয়া। এর পর আরও একটি ঘটনা ঘটেছিল, যখন যুজবেন্দ্র চাহালকে অর্শদীপ সিংয়ের তৈরি একটি ভ্লগে ই-সিগারেট ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে।

সাইকিয়া চিঠিতে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ভারতীয় আইন অনুযায়ী ভ্যাপিং নিষিদ্ধ এবং এর সাথে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি একটি "কগনিজেবল" অপরাধ করতে পারে। বিসিসিআই সচিব বলেছেন যে সকল আইপিএল ভেন্যু, ড্রেসিং রুম, ডাগআউট এবং টিম হোটেলে ই-সিগারেটের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

সাইকিয়া লিখেছেন, "ড্রেসিং রুম এবং টুর্নামেন্ট ভেন্যুর অন্যান্য সীমাবদ্ধ এলাকায় ভ্যাপিং-এর ঘটনা বিসিসিআই-এর নজরে এসেছে। এটি উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে ভ্যাপ এবং ইলেকট্রনিক সিগারেট প্রযোজ্য ভারতীয় আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। টুর্নামেন্টের প্রাঙ্গনের মধ্যে এই ধরনের আচরণে জড়িত কোনো ব্যক্তি কেবল বিসিসিআই এবং আইপিএল বিধি লঙ্ঘন করছে না, বরং প্রযোজ্য আইনানুগ কাঠামোর অধীনে একটি কগনিজেবল অপরাধও করতে পারে।"

"সেই অনুযায়ী, সকল আইপিএল টুর্নামেন্ট ভেন্যু, যার মধ্যে ড্রেসিং রুম, ডাগআউট, টিম হোটেল এবং অনুশীলন সুবিধাগুলি অন্তর্ভুক্ত, সেখানে ভ্যাপ, ই-সিগারেট এবং সকল নিষিদ্ধ পদার্থের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ," সাইকিয়া উল্লেখ করেন।

বিসিসিআই নতুন নির্দেশাবলী কার্যকর করার জন্য টিম ম্যানেজার এবং মনোনীত ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তাদের যৌথভাবে দায়ী করেছে। ম্যানেজারদের নির্দেশিকা জারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাধ্যতামূলক টিম ব্রিফিং পরিচালনা করতে হবে এবং নিয়মাবলী সম্পর্কে অবগত থাকার লিখিত নিশ্চিতকরণ সকল খেলোয়াড় ও স্টাফের কাছ থেকে নিতে হবে।

এছাড়াও, তাদের একটি আনুষ্ঠানিক অতিথি অনুমোদন ব্যবস্থা স্থাপন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে অতিথিদের দৈনিক রেকর্ড থাকবে এবং এসএলও/টিওআই এর সমন্বয়ে একটি মুভমেন্ট লগ (চলাচলের তালিকা) বজায় রাখতে হবে যাতে টিম হোটেল থেকে সকল প্রবেশ ও প্রস্থানের রেকর্ড রাখা যায়।

বিসিসিআই জানিয়েছে যে দল ও খেলোয়াড়দের দ্বারা সর্বশেষ নির্দেশাবলী অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে তারা পর্যায়ক্রমিক নিরীক্ষা চালাবে।

সাইকিয়া লিখেছেন, "পূর্বোক্ত নির্দেশাবলীর যেকোনো লঙ্ঘন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইপিএল অপারেশনস টিম বা সংশ্লিষ্ট আইপিএল ভেন্যু টিমকে স্ব-প্রতিবেদন করতে হবে। বিসিসিআই বিশ্বাস করে যে সকল আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি এই নির্দেশিকাকে প্রাপ্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের অখণ্ডতা ও সুনাম বজায় রাখার জন্য সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।"

বিসিসিআই আরও বলেছে যে নতুন নির্দেশাবলীর যেকোনো লঙ্ঘন একটি গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে। বোর্ড জানিয়েছে যে দোষী প্রমাণিত হলে তারা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা নিতে পারে।

সাইকিয়া লিখেছেন, "অমান্য করার ফলে সংশ্লিষ্ট আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রযোজ্য আইপিএল রেগুলেশনস, বিসিসিআই রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনগুলির অধীনে কার্যক্রমের সম্মুখীন হতে পারে, যা পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।"

তিনি যোগ করেছেন, "ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে এই নির্দেশিকাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে এবং সম্পূর্ণ পরিপালন নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্য নির্ধারণের জন্য বিসিসিআই পর্যায়ক্রমিক নিরীক্ষা ও পরিদর্শন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+