অসমের লড়াকু প্রতিরোধ, রঞ্জিতে তিন পয়েন্ট ঝুলিতে পুরে গ্রুপের শীর্ষেই বাংলা
কল্যাণীতে সাত বা ছয় পয়েন্ট নয়, অসমের বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাকে। আজ রঞ্জি ম্যাচের শেষ দিনে সরাসরি জয় পেতে বাংলাকে তুলে নিতে হতো সাত উইকেট।
যদিও অসমের ব্যাটারদের লড়াকু প্রতিরোধে শেষ অবধি এই ম্যাচ ড্র হয়ে গেল। প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার সুবাদে বাংলা পেল তিন পয়েন্ট।

গতকাল তৃতীয় দিনের শেষে অসমের স্কোর ছিল ৩৮ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৮। ৫০.১ ওভারে ১১৯ রানের মাথায় এদিন চতুর্থ উইকেট পড়ে অসমের। ডেনিশ দাস ও অধিনায়ক সুমিত ঘাডিগাঁওকরের জুটিতে ওঠে ১১১ রান। এই জুটি ভাঙেন ঈশান পোড়েল। সাতটি চারের সাহায্যে ১৩৩ বলে ৭৩ রান করে বোল্ড হন ডেনিশ।
এরপর সুমিত দলের রান এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন শিবশংকর রায়কে সঙ্গে নিয়ে। দলের ১৭৭ রানের মাথায় সুমিত সাজঘরে ফেরেন শাহবাজ আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে। তিনি ২২২ বল খেলে ৬৭ রান করেন। ঋতুরাজ বিশ্বাস করেন ৩৪ বলে ১৩, তিনিও শাহবাজের শিকার। শিবশংকর রায় (১৪৪ বলে ৫২)-কে বোল্ড করে দেন রাহুল প্রসাদ। আকাশ সেনগুপ্ত ৬০ বলে ১৩ ও আয়ুষ্মান মালাকার ২০ বলে ৯ রান করে শাহবাজের বলে আউট হন।
একদিকে আলো কমে আসছিল, লিড বাড়ছিল অসমের। ফলে জয়-পরাজয় নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না বলে ম্যাচ ড্র করতে রাজি হয়ে যায় দুই দল। অসম ১২০.৪ ওভারে ৯ উইকেটে ২৮২ রান তোলার পর ম্যাচে যবনিকা পতন ঘটে। আবদুল আজিজ কুরেশি ৬৮ বলে ২৩ ও ১১ নম্বরে নামা মুখতার হুসেন ২৪ বলে ০ রানে অপরাজিত থাকেন। এর আগে, অসমের ২০০ রানের জবাবে বাংলার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ৪৪২ রানে।
শাহবাজ আহমেদ পাঁচটি মেডেন-সহ ৩০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। মহম্মদ শামির ২৯ ওভারে ৬টি মেডেন, ৭৫ রান খরচ করে তিনি পান ২ উইকেট। সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল ২টি মেডেন-সহ ১৩ ওভারে ২৯, ঈশান পোড়েল ২টি মেডেন-সহ ১৫ ওভারে ২৯ রান ও রাহুল প্রসাদ ৫টি মেডেন-সহ ১৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ১টি করে উইকেট পেয়েছেন।
এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পাওয়ায় অপরাজেয় বাংলার ঝুলিতে এখন ৫ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট। বাংলা এলিট গ্রুপ সি-র পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেই থাকল। সার্ভিসেস ২১১ রানে হরিয়ানাকে হারিয়ে দিয়েছে। ফলে ৫ ম্যাচে তাদের রয়েছে ১৯ পয়েন্ট, তারা রয়েছে বাংলার পরেই। তিনে থাকা হরিয়ানার ৫ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট।
শেষ দিনে সাত উইকেট তুলতে না পারায় ম্যাচ ড্র হওয়ায় হতাশ হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। দলের পেসারদের লাইন ও লেংথে আরও নিখুঁত হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য তাঁর। আজ আরও তিন পয়েন্ট পেলে বাংলার নক আউট পর্ব প্রায় নিশ্চিতও হয়ে যেত। তবে মহম্মদ শামি, শাহবাজ আহমেদ ও রাহুল প্রসাদের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন লক্ষ্মী। ম্যাচ ড্র হলেও তিনি পিচকে কোনওভাবেই দায়ী করতে চাইলেন না।












Click it and Unblock the Notifications