Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

সেমিফাইনালে ফিন অ্যালেন ঝড়! ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

নিজেদের মুঠো থেকে সব দ্রুত ফসকে যেতে দেখে ম্যাচ শেষে অবিশ্বাস্য হতাশায় মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ধুঁকে ধুঁকে উঠে আসা নিউজিল্যান্ড প্রোটিয়াদের ইডেন গার্ডেন্সে নয় উইকেটে গুঁড়িয়ে দিয়েছে যে। এই হার প্রোটিয়াদের আরও একবার বড় মঞ্চে ব্যর্থতার গল্প তুলে ধরল।

চলতি টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিখুঁত ছন্দে থাকলেও, এদিন বুধবার, ৪ মার্চ ব্যাট ও বল উভয় বিভাগেই পুরোপুরি ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬৯ রানের লক্ষ্য ডিফেন্ড করতে নেমে ফিন অ্যালেন এবং টিম সেইফার্টের বিধ্বংসী ওপেনিং জুটির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে প্রোটিয়ারা। মাত্র ১২.৫ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দেয় নিউজিল্যান্ড।

এদিন রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার দিক থেকে ভাগ্যের দেবী যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ব্যাটে লেগে ক্যাচ উঠে গেলেও বাউন্ডারিতে চলে যাচ্ছিল, স্কুপ শটগুলো ব্যাটের মাঝখানে লেগে দ্রুত রান বাড়াচ্ছিল। আর ক্যাচগুলো হয় শর্ট পড়ছিল না হয় 'নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ গিয়ে পড়ছিল।

ম্যাচের শুরুতেই নড়বড়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, পাওয়ারপ্লেতে কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটন দ্রুত আউট হন। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে উদ্ধার করার দায়িত্ব ছিল এইডেন মার্করাম ও ডেভিড মিলারের মতো সিনিয়রদের ওপর, কিন্তু তারাও নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মার্করাম টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেললেও এদিন লং-অনে ড্যারেল মিচেলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন।

রাচিন রবীন্দ্র মিডিয়া উইকেটে একটি ক্যাচ ছাড়ার মাত্র ১৩ বল পরেই মার্করাম এই ভুলটি করেন। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপস সহজ একটি ক্যাচ ফেলার মাত্র দু’বল পরেই মিলার মিড-অফে অত্যন্ত সহজ একটি উঁচু ক্যাচ তুলে দেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে ভারতের বিরুদ্ধে মিলার ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নায়ক।

ইনিংসের শেষ দিকে মার্কো জানসেন এবং ট্রিস্টান স্টাবসের অসাধারণ কাউন্টার-অ্যাটাক না হলে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬০ রানের গণ্ডিও পেরোতে পারত না। জানসেন, ইডেন গার্ডেন্সের সঙ্গে যার অতীত সম্পর্ক কিছুটা জটিল, তিনি মাত্র ৩০ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করে প্রোটিয়াদের একটি সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছতে সাহায্য করেন।

কিন্তু ইডেন, যেখানে ২০২৩ বিশ্বকাপের লো-স্কোরিং সেমিফাইনালে জানসেন ওভারপ্রতি আট রান বিলিয়েছিলেন, সেখানেই এবার আবারও তার জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দেয়। বল হাতে পাওয়ারপ্লেতে প্রথম দুই ওভারে জানসেন ২৯ রান দেন, এমন এক সময়ে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা মরিয়া হয়ে প্রাথমিক উইকেট খুঁজছিল।

জানসেনের জন্য ভাগ্য সহায় ছিল না, যদিও তাঁর বল দু’বার ব্যাটের কানা ছুঁয়েছিল। একবার বল চার হয়ে বেরিয়ে যায়, আর অন্যবার স্লিপে রায়ান রিকেলটনের হাতের সামান্য আগে পড়ে। এই দু’ওভার যেন দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের সুর বেঁধে দিয়েছিল। ইডেন গার্ডেন্সে এই সেমিফাইনালে প্রোটিয়ারা তাই কোনো চাপই সৃষ্টি করতে পারেনি।

ফিন অ্যালেন এবং টিম সাইফার্টের ড্রাইভ, পুল এবং স্কুপ শটগুলো ব্যাটের মাঝখান থেকে আসছিল। প্রতিটি শটের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের কাঁধ আরও একটু নুয়ে যাচ্ছিল, এবং অবশেষে ১৩তম ওভারে ফিন অ্যালেনের একটি লফটেড ড্রাইভের মাধ্যমে ম্যাচের অবসান ঘটে। এই শটটি তাঁকে অপরাজিত ১০০ রানেও পৌঁছে দেয়।

সেইফার্ট ৩৩ বলে ৫৮ রান করে নিউজিল্যান্ডকে ১০ ওভারের মধ্যে ১১৭ রানে পৌঁছে দেন। তারকা পেসার কাগিসো রাবাদা যখন সেইফার্টকে আউট করতে সক্ষম হন, ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় শেষ। অন্যদিকে, ফিন অ্যালেন মাত্র ৩৩ বলে একটি ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি করে যান।

এটি নিউজিল্যান্ডের মানসিক দৃঢ়তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ ছিল, যদিও এই বিশ্বকাপ জুড়ে তাদের একাধিক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রথমে, সুপার এইটে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছিল তারা। সেমিফাইনালে তাদের উপস্থিতি নির্ভর করছিল পাকিস্তান যেন পর্যাপ্ত ব্যবধানে জিততে না পারে।

পাকিস্তান যেভাবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাদের শেষ সুপার এইট ম্যাচ শুরু করেছিল, তাতে কিউয়ি দলের অর্ধেক খেলোয়াড় হয়তো ব্যাগ গোছানো শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য হস্তক্ষেপ করে, এবং শেষ পর্যন্ত তারা কলকাতায় সেমিফাইনাল খেলল ও জিতে ফাইনালে গেল।

এমন তীব্র অনিশ্চয়তার পর এত বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দেওয়া অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচায়ক, আর নিউজিল্যান্ড দেখিয়ে দিয়েছে যে তাদের কাছে এর অভাব নেই। এদিন বুধবারের এই হার ইডেন গার্ডেন্সে দক্ষিণ আফ্রিকার আরও একটি পরাজয় চিহ্নিত করেছে, যা নকআউটে তাদের ভয়াবহ রেকর্ডকে আরও দীর্ঘায়িত করল।

ইডেন গার্ডেন্সে দক্ষিণ আফ্রিকা শেষবার সীমিত ওভারের ম্যাচ জিতেছিল ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও এই ভেন্যুতে খেলা দুটি ম্যাচেই তারা হেরেছিল। সামগ্রিকভাবে, ইডেনে খেলা ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে প্রোটিয়ারা মাত্র দুটিতে জিতেছে এবং আজ কলকাতায় তাদের প্রথম টি২০ ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হল।

ভারতের বিরুদ্ধে পরিকল্পনায় যিনি এত সতর্ক ছিলেন, সেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম সম্ভবত ইডেন গার্ডেন্সে আজ কিছু ভুল কৌশল ব্যবহার করেছেন। গতি-প্রিয় দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে বল করতে এসে এইডেন কেশব মহারাজকে তাড়াতাড়ি আনেননি, অথবা জানসেনের পরিবর্তে লুঙ্গি এনগিডিকেও বল দেননি।

বাঁহাতি অফ-স্পিনার কেশব মহারাজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম স্মার্ট বোলার। আজ তিনি ভালো করতে পারতেন। পেসারদের বিরুদ্ধে যারা পিচের সামনে ও পেছনে উভয় 'ভি’ অঞ্চলে লক্ষ্য করে খেলছিলেন, সেই অ্যালেনকে স্পিন দিয়ে শুরুতেই নিষ্ক্রিয় করা যেত।

তবে, নবম ওভারে যখন মহারাজ বল করতে আসেন, ততক্ষণে ফিন অ্যালেন সেট হয়ে যান এবং তাকেও ছক্কা হাঁকান। এরপর দ্বাদশ ওভারে তিনি আবারও মহারাজকে আক্রমণ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।

এরপর অপ্রতিরোধ্য ফিন অ্যালেন যেন দ্রুত ম্যাচ শেষ করার তাড়া দেখাচ্ছিল, মার্কো জানসেনকে ৪,৪,৬,৬,৪ মেরে মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচ শেষ করে দেন। নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য যখন ১ রান দরকার, তখন অ্যালেনের সেঞ্চুরির জন্য দরকার ছিল ৪ রান।

লং অনের ওপর দিয়ে একটি লফটেড ড্রাইভ তাকে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি এনে দেয় এবং কিউয়িদের টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছে দেয়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+