টি ২০ বিশ্বকাপে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ! কাঠগড়ায় কোচ, বিসিবি-কে বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে শেখার পরামর্শ মাশরাফির
টি ২০ বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে পাঁচটি ম্যাচের পাঁচটিতেই পরাজিত বাংলাদেশ। শুরু হয়েছে ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছেন প্রাক্তনরা। চাপের মুখেও বোর্ডের প্রশাসন চালাতে বিসিসিআইয়ের কাছে শেখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। রাসেল ডমিঙ্গোর জায়গায় দেশীয় কোচ নিয়োগের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

সরব মাশরাফি
স্কটল্যান্ড ম্যাচে পরাজয়ের পর নজিরবিহীনভাবে শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহকে দোষারোপ করেছিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান। মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিকুর পাল্টা জবাব দিলেও শাকিব কিছু বলেননি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাতকারে মাশরাফি মুর্তজা বলেছেন, সুপার টুয়েলভে কেন আমরা জিততে পারলাম না তার উত্তর ক্রিকেট বোর্ড, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়রা একসঙ্গে বসলে বেরিয়ে আসবে। বাইরে থেকে মনে হয়েছে, বিশ্বকাপের শুরুটা বাংলাদেশ ভালো করতে না পারায় শুরুতেই চাপে পড়ে যেতে হয়েছে। সেই চাপ থেকে শেষ অবধি বেরোনো সম্ভব হয়নি। বোর্ডের সমালোচনা দলের উপর চাপ তৈরি করেছে। খেলোয়াড়রাও চাপ নিয়েছেন। ক্রিকেটাররা দুঃসময়ে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ক্রিকেট বোর্ডের বেশি ধৈর্যশীল হওয়া উচিত ছিল। কেউ ভালো না খেললে তাঁকে বাদ দেওয়ার রাস্তা তো খোলা আছেই। কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষ অবধি অপেক্ষা করা যেত। কেন না, বিশ্বকাপের দল আর তো বদলানোর উপায় ছিল না। আর ধৈর্য না থাকলে আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল বিশ্বকাপে সেরা দল পাঠানো হয়েছিল কিনা। কোচ, অধিনায়ক, নির্বাচক ও বোর্ড যখন একমত হবে যে, এটাই সেরা দল, তখন সেই দলের কাছ থেকে কিছু পেতে গেলে ধৈর্য রাখতেই হয়।

বিসিসিআই আদর্শ
মাশরাফি এ প্রসঙ্গে বিসিসিআইয়ের কাছে বিসিবিকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা ভালো না খেললে কেউ তাঁদের কথা ভালোভাবে নেন না। এটাই নিয়ম। বিরাট কোহলিকেও এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। কিন্তু খারাপ সময় থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে ক্রিকেট বোর্ড ও দলের মধ্যে সমন্বয় থাকাটা জরুরি। প্রথম দুটি ম্যাচে পরাজয়ের পর সমালোচনার মধ্যেও ভারতীয় বোর্ড কিন্তু চুপ থেকেছে। বোর্ডের শীর্ষমহল থেকে কেউ দলের খারাপ পারফরম্যান্স নিয়ে বাইরে কিছু বলেননি। সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সমর্থকরা অনেক কিছু বললেও ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনও কথা বাইরে আসেনি। কারণ, তারা জানে পরবর্তী করণীয় কী।

নতুন কোচের দাবি
বাংলাদেশে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে কোচ করার দাবি উঠেছে। কিন্তু সম্প্রতি কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে চুক্তি দুই বছর বাড়িয়েছে বিসিবি। তবে মেয়াদ শেষের আগে তাঁকে ছাঁটাই করলে ছয় মাসের বেতন দিতে হবে। ব্যর্থতার জন্য কোচকে দায়ী করেছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, বিশ্বকাপের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাঁর ছিল বলে মনে হয় না। যিনি কোচ হয়ে আসেন তিনি খালি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। বাংলাদেশ বোর্ড কেন তা মেনে নিচ্ছে? কোচের লাগাম টেনে দরকার। কোচকে জবাবদিহির মধ্যে রেখেই তাঁকে স্বাধীনতা দিতে হবে। যখন জবাবদিহি থাকে না, পরের ছয় মাসের বেতন আগেই নিশ্চিত হয়ে যায়, তখনই কোচরা কিছু পরোয়া না করে নিজেদের মতো ভাবতে শুরু করেন। কাউকে কেয়ার করেন না। কাজেই কোচকে নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

বদলের সম্ভাবনা
দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে সর্বেসর্বা হয়ে ওঠা নাজমুল হাসান যেখানে একাধিপত্য কায়েম করেছেন তার বদলেরও দাবি উঠতে শুরু করেছে। কেন না, প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না বাংলাদেশের ক্রিকেট। মাশরাফি বলেন, জিম্বাবোয়ে সফরে পিচ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য ভালো ছিল। কিন্তু হোম সিরিজে খেলার মতো উইকেট ছিল না। মীরপুরের মন্থর উইকেটে বল টার্ন করেছে। ওই দুটি সিরিজ জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। যদিও বাংলাদেশের ক্রিকেট মহল নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে ঘূর্ণিতে ফেলে হারানোর ফাঁপা আত্মবিশ্বাসকেই বিশ্বকাপে বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাস্কিন আহমেদরা বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উইকেট বাংলাদেশের চেয়ে অনেক আলাদা। তবে যা পরিস্থিতি তাতে নিশ্চিতভাবেই আগামীর কথা ভেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় রদবদলেরই সম্ভাবনা।
মোহাম্মদ #সালাহউদ্দিন একজন #বাংলাদেশী ক্রিকেটকোচ এবং আমাদের গর্ব আমাদের অহংকার!! pic.twitter.com/dmZs259Wnc
— MASHRAFE BIN MORTAZA🌀 (@mashrafebd) October 30, 2021
— MASHRAFE BIN MORTAZA🌀 (@mashrafebd) October 26, 2021












Click it and Unblock the Notifications