ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জোড়া বিশ্বকাপ জিতিয়েও কেন অভিমানী লয়েড? সৌরভের সঙ্গে খোঁজ নিলেন কোন ক্রিকেটারের?
Clive Lloyd: বিশ্বকাপের প্রথম দুটি সংস্করণ ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছিল ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে। তিরাশির বিশ্বকাপে ভারতের কাছে না হারলে বিশ্বকাপ জয়ের হ্যাটট্রিক হতে পারতো।
দেশকে জোড়া বিশ্বকাপ জেতানোর পরও এই ক্য়ারিবিয়ান কিংবদন্তির রয়েছে বিরাট অভিমান। নিজের দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি। তবে ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তারিয়ে উপভোগ করেন।

লয়েড ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তিরাশির বিশ্বকাপ জিততে না পারার আক্ষেপ রয়েছে। সেবার ফাইনালে জিতলে আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের হ্যাটট্রিকটা হয়ে যেত। তবে আমরা ফাইনালে ভালো খেলিনি। তবে সেই জয় ভারতীয় ক্রিকেটকে ওডিআইয়ে অন্য উচ্চতায় পৌঁছনোর মোমেন্টাম দিয়ে দেয়।
তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী দলকে লতা মঙ্গেশকরের কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। বিসিসিআইয়ের অনুরোধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজে সচেষ্ট হয়েছিলেন। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম দু-বার বিশ্বকাপ জেতানোর পর লয়েডদের প্রতি উদাসীনই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট বোর্ড।
লয়েড জানিয়ে দিলেন, আমাদের কোনও স্মারক পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। আমার ৭৫ বছরের জন্মদিনে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এসে আমারই তিনটি ছবি উপহার হিসেবে দিয়ে যান। লয়েড বুধবারই কলকাতায় এসেছেন। সাতগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্ল্যাটিনাম জুবিলি ট্রফির ফাইনালে লয়েডকে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির করাচ্ছেন স্কুলেরই প্রাক্তনী সুরজিৎ বক্সী।
সল্টলেক সেক্টর ফাইভে সুরজিৎ বক্সীর চা প্রস্তুতকারক সংস্থার দফতরে বসে ঘরোয়া আড্ডায় লয়েড বলছিলেন, আমাদের দেশের অনেক নামী ক্রিকেটার এ দেশেই প্রথম খেলেছিলেন। আমার টেস্ট অভিষেক এ দেশেই। টেস্টে সর্বাধিক স্কোর, অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সফর ভারতেই। সঙ্গে হেসে জুড়ে দিলেন, প্লেয়ার হোক বা ম্যাচ রেফারি হিসেবে, বিতর্কিত সমস্যাতেও পড়েছি এই দেশেই।
বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি এই অধিনায়ক জানালেন, একজন অধিনায়কের সবচেয়ে বড় গুণ তাঁর দলের ক্রিকেটারদের সঠিকভাবে বুঝে নেওয়া। বিশেষ করে দলের অনুশীলনে তাঁর আচরণ দেখে। অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঠোর অনুশীলন না করলে সেই ক্রিকেটারের বেশিদূর এগনো সম্ভব নয়।
তিরাশির বিশ্বকাপের পর কলকাতায় এসে ভারতকে টেস্টে ইনিংসে হারিয়েছিল লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৬১ রানের অপরাজিত রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হন। সেই টেস্টের স্মৃতিও অমলিন। লয়েড বললেন, এখানকার মানুষ খেলা খুব ভালোবাসেন। ফুটবল, ক্রিকেট নিয়ে দারুণ উন্মাদনা। ইডেনে আমরা যখন খেলার শেষে ফিরতাম দেখতাম কয়েক হাজার মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবার ইডেনে যাওয়ার কথা রয়েছে লয়েডের। খোঁজ নিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা। মহারাজের অধিনায়কত্বের বিশেষ প্রশংসা করলেন। নভজ্যোৎ সিং সিধুর কথাও জানতে চাইলেন। সিধুর ৯টি টেস্ট শতরানের ২টি ওয়েস্ট ইন্ডিজে। পোর্ট অব স্পেনে দ্বিশতরানও করেছেন। তবে সিধুর কারাবাস (এখন মুক্ত)-এর কথা জানতেন না।












Click it and Unblock the Notifications