IPL 2025, OI Impact: ওয়ানইন্ডিয়ার খবরের জের, ভুয়ো সাংবাদিক ঠেকাতে তৎপর সিএবি, আইপিএলে ফিরল প্রেস বক্সের গরিমা
IPL 2025, OI Impact: ওয়ানইন্ডিয়ার খবরের জের। প্রেস বক্সে ভুয়ো সাংবাদিক থেকে অবৈধ ব্যক্তিদের গতিবিধিতে রাশ টানল সিএবি।
আইপিএল হোক বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বারবার সিএবিতে ঘুঘুর বাসার দাপাদাপি লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে ওয়ানইন্ডিয়া বারবার সেই বিষয়গুলি জনসমক্ষে আনার পরই এবার তৎপর হলো সিএবি।

সিএবিতে মিডিয়া ম্যানেজার পদে বদল আনা হয়েছে। তবে যিনি এখন এসেছেন তাঁর ভূমিকাও সন্তোষজনক নয়। কাজের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতাও বজায় রাখছেন না। দুর্ব্যবহার করছেন কিছু সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। এমনকী তাঁর বদান্যতাতেই এবারেও আইপিএলে কার্ড বা ম্যাচ কভারের ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছে বেনোজলরা। অভিযোগ, তাঁর জন্যই অহেতুক বিতর্ক, সমালোচনায় জড়াতে হচ্ছে সিএবিকে।
যদিও সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় থেকে সঞ্জয় দাসের মতো কর্তারা ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ায় অনেকটাই বদলেছে পরিস্থিতি। ভারত-ইংল্যান্ড টি২০ আন্তর্জাতিকে প্রেস বক্সে যেমন প্রচুর অচেনা মুখের উপস্থিতিতে মাছের বাজারের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা এবার উধাও। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অন্য রাজ্য বা বিদেশ থেকে আসা সাংবাদিকরা।
প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাক কাণ্ডের খবর জেনেই সিএবি সভাপতি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অসন্তোষ ব্যক্ত করেছিলেন মিডিয়া ম্যানেজারের ভূমিকায়। সাংবাদিকদের ম্যাচ ডে টিকিটের প্রথা তুলে কার্ড স্ক্যান করে ঢোকানোর বন্দোবস্ত করেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছিল না।
বিষয়টি নিয়ে সিএবির শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়। এরপর আইপিএল ম্যাচ কভারের আবেদনকারীদের ঝাড়াই-বাছাই শুরু হয়। আরএনআই আছে, কিন্তু কস্মিনকালে সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয় না, এমন অনেক সংবাদমাধ্যমকেই ইডেনের প্রেস বক্সে দেখা যেত।
এবার সন্দেহভাজন সংবাদমাধ্যমগুলিকে শেষ তিনটি এডিশন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। অনেকেই ডিজিটাল প্রিন্ট করা কিছু কাগজ ছাপিয়ে সিএবিতে জমা দিয়েছেন। সিএবির মিডিয়া ম্যানেজারের গাফিলতি, পক্ষপাতিত্বে কয়েকটি এমন সংবাদমাধ্যম কার্ডও পেয়ে গিয়েছে।
এমনও কিছু সাংবাদিক আছেন যাঁদের ম্যাচ কভারের ছাড়পত্র না থাকলেও তাঁরা ক্লাব হাউসের টিকিট নিয়ে আপার টিয়ারে গিয়ে প্রেস বক্সে ঢুকে পড়তেন। শুধু নিজেরাই নন, বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে প্রেস বক্সে গিয়ে ছবি তুলে, খানাপিনা সেরে বেরিয়েও যেতেন। সেই সংক্রান্ত অভিযোগও জমা পড়ে সিএবিতে।
এবার আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে দেখা গিয়েছে বেশ কড়াকড়ি। স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের কার্ড স্ক্যান করা হচ্ছে। আবার স্ক্যান হচ্ছে প্রেস বক্সে ঢোকার সময়। ফলে স্ক্যান করে চেকিং হচ্ছে দুবার। এমনকী প্রেস বক্স থেকে বাইরে বেরোলে ফের ঢোকার সময়ও স্ক্যান হচ্ছে। সাংবাদিকদের হাতে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ রিবন।
মিডিয়া সেন্টারে ঢোকার মুখেও সাংবাদিকদের কার্ড স্ক্যান হচ্ছে। অনেক সময় ম্যাচ কভারের ছাড়পত্র না থাকা সাংবাদিক কিংবা ভুয়ো সাংবাদিকরা ইডেনে গিয়ে নিজের ইচ্ছামতো লাঞ্চ বা ডিনার সেরে নিতেন। এবারের বন্দোবস্তে সেই ব্যবস্থায় রাশ টানা গিয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই সকলে এ জন্য স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বা তাঁর টিমের প্রশংসা করছেন। কিন্তু যেটুকু খামতি এখনও থেকে গেল তা মিডিয়া ম্যানেজারের বদান্যতাতেই বলে খবর। অভিযোগ, ওই মিডিয়া ম্যানেজার সিএবির পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করছেন নানা ছুতোয়।
সঠিক সাংবাদিকরা যাতে ম্য়াচ কভার করতে পারেন সেজন্য সিএবি পরামর্শ চেয়েছিল সিএসজেসির সভাপতি শুভেন রাহার। শুভেন রাহা জানালেন, এবারেও খুব অল্প সময়ে ঝাড়াই-বাছাই করতে হয়েছে। ফলে অনেকটা শুদ্ধিকরণ করা গেলেও পুরোটা করা যায়নি। অক্টোবরে টেস্ট, আগামী বছর টি২০ বিশ্বকাপ রয়েছে। ফলে সেদিকে নজর রেখে সিএবিকে আরও কিছু কড়া পদক্ষেপের পরামর্শ দেব।
অভিযোগ, ডিজিটাল প্রিন্ট করিয়ে কিছু কাগজের লোকজন কার্ড বা ম্যাচ কভারের ছাড়পত্র বাগিয়েছেন। আবার বোর্ড যে ডিজিটাল মিডিয়াকে অনুমতি দেয়, তার বাইরেও ইউটিউব চ্যানেল বা প্রোডাকশন হাউস কীভাবে আইপিএল কভারের ছাড়পত্র পেয়ে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে পুরো ১০০ শতাংশ যে ঠিক করা গিয়েছে তা নয়, তবে অনেকটাই করা গিয়েছে।
যদিও এবার কারা কার্ড পেয়েছেন বা ম্যাচ কভারের ছাড়পত্র পাচ্ছেন সেই তালিকা গোপন রাখা হচ্ছে। এর কারণ বোধগম্য নয়। আগে সিএবির মিডিয়া গ্রুপে তা পোস্ট করা হতো। এখন সেটা না করে কী লুকানোর চেষ্টা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। এমনকী ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে যে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, বেনোজলদের বাঁচাতে সেই তালিকা এখনও সামনে আনা হয়নি। যদিও সিএবি একটু কড়া হতেই অনেক ভুয়ো সংবাদমাধ্যমের মাথায় বাজ পড়েছে। ইডেনে ঢোকার ক্ষেত্রে সেই সংবাদমাধ্যমগুলির সামনে ঝুলে গিয়েছে নো এন্ট্রি বোর্ড।












Click it and Unblock the Notifications