IPL 2025: আইপিএলে খারাপ হচ্ছে ফিল্ডিংয়ের মান, শোচনীয় দশা চেন্নাই সুপার কিংসের! কারা হয়েছেন লাভবান?
IPL 2025: আইপিএলে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের ব্যাটিং যেমন ক্লিক করছে না, তেমনই খুব খারাপ দশা ফিল্ডিংয়ের।
এবারের আইপিএলে প্রথম ৪০টি ম্যাচের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, বিগত পাঁচ বছরে চলতি আইপিএলেই সবচেয়ে বেশি ক্যাচ পড়েছে।

ক্রিকবাজ ও ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে উল্লেখ, ২০২০ সালে ৪০টি ম্যাচের পর ক্যাচ মিসের সংখ্যা ছিল ৯৫, সটাম্প আউট ও রান আউট মিসের সংখ্যা ছিল ১টি করে। ২০২১ সালে সেই সমখ্যা ছিল যথাক্রমে ৯৩, ০ ও ৩০। ২০২২ সালে ক্যাচ পড়েছিল ১০৪টি, স্টাম্পিং মিস তিনটি, রান আউট মিস ৩৬।
২০২৩ সালে প্রথম ৪০টি আইপিএল ম্যাচে ৭৮টি ক্যাচ পড়েছিল। স্টাম্প আউটের সুযোগ হাতছাড়া হয় তিনটি, রান আউট মিস ৭৯টি। গত বছরের আইপিএলে সেই সংখ্যা যথাক্রমে ১১০, ০ ও ৬৯। এবার ইতিমধ্যেই ১১১টি ক্যাচ পড়েছে। স্টাম্পিং ও রান আউট মিস যথাক্রমে ২ ও ১৭২।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ফিল্ডিংয়ের মান সাম্প্রতিককালের পরিসংখ্যানের বিচারে সবচেয়ে খারাপ। বিশেষ করে ক্যাচ মিস ও রান আউটের সংখ্যা ২০২০ সাল থেকে সর্বাধিক। এমনকী মিসফিল্ডের সংখ্যাও এবারই সর্বাধিক।
২০২০ থেকে চলতি আইপিএলে প্রথম ৪০টি ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মিসফিল্ডিংয়ের সংখ্যা যথাক্রমে ২১৩, ১৯৮, ২০০, ১৫২, ১১৬ ও ২৪৭। এবারের আইপিএলে সবচেয়ে ভালো ফিল্ডিং এখনও অবধি করেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৮ ম্যাচে ক্যাচ ধরেছে ৪১টি, ৮চি ক্যাচ ফেলেছে, রান আউট মিস করেছে ২৪টি, মিসফিল্ড ১৪টি। আরসিবি ৮ ম্যাচে ৩৫টি ক্যাচ ধরেছে, ক্যাচ ফেলেছে সাতটি, রান আউট মিস করেছে ১৯টি, মিসফিল্ড ৩১টি।
কলকাতা নাইট রাইডার্স ৮ ম্যাচে ৩৫টি ক্যাচ ধরেছে, ফেলেছে সাতটি, রান আউট মিস ১২টি, মিসফিল্ডের সংখ্যা ১৮। গুজরাত টাইটান্স ৮ ম্যাচে ৪১টি ক্যাচ ধরেছে, ক্যাচ মিস ১১টি, রান আউট মিসের সংখ্যা ১৮, মিসফিল্ড ২১টি।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৭ ম্যাচে ২৮টি ক্যাচ ধরেছে, ফেলেছে ৯টি, রান আউট করতে পারেনি ১৩টি ক্ষেত্রে, মিসফিল্ড ২৫। রাজস্থান রয়্যালস ৮ ম্যাচে ৩১টি ক্যাচ ধরেছে, ক্যাচ ফেলেছে ১১টি, রান আউট মিস ১৭টি, মিসফিল্ড ২৬টি।
@maheesht61 dropped catch cost #RajasthanRoyals the match #IPL2025 #RRvsDC pic.twitter.com/K9sVUB5EM5
— 🍎 APPLE NEWS (@vikas_apple) April 17, 2025
লখনউ সুপার জায়ান্টস ৯ ম্যাচে ৩৭টি ক্যাচ ধরেছে, ক্যাচ ফেলেছে ১৪টি, রান আউট মিস ১১, মিসফিল্ড সবচেয়ে বেশি ৩৫টি। পাঞ্জাব কিংস ৮ ম্যাচে ২৯টি ক্যাচ ফেলেছে, ১৩টি ক্যাচ মিস করেছে, রান আউট মিস ২০টি, মিসফিল্ডের সংখ্যা ২৩টি।
দিল্লি ক্যাপিটালস ৮ ম্যাচে ৩৩টি ক্যাচ ধরেছে, ক্যাচ ফেলেছে ১৫টি, রান আউট মিসের সংখ্যা ১৪, মিসফিল্ড ২৮টি। চেন্নাই সুপার কিংস মাত্র ২৭টি ক্যাচ ধরেছে, যা সর্বনিম্ন। ক্যাচ ফেলেছে সবচেয়ে বেশি ১৬টি। রান আউট মিসের সংখ্যা ২৩। মিসফিল্ড ২৬টি।
ক্যাচ মিসের বহরে চলতি আইপিএলে সবচেয়ে লাভবান হয়েছেন প্রিয়াংশ আর্য। তিনি ৮ ইনিংসে ১২টি ক্যাচ দিয়েছেন, ক্যাচ পড়েছে ৫টি। ক্যাচ পড়ার পর পাঞ্জাব কিংসের ব্যাটার ৫৭ বল খেলে ১৩৭ রান করেছেন। অভিষেক শর্মা ৭ ইনিংসে ৮টি ক্যাচ দিয়ে ২ বার জীবন পেয়েছেন। ক্যাচ পড়ার পর তিনি ৫৯ বলে ১২২ রান করেছেন।
লোকেশ রাহুল ৬ ইনিংসে পাঁচবার ক্যাচ দিয়ে ২ বার জীবন পেয়েছেন (গতকালের ম্যাচের আগে অবধি)। ক্যাচ পড়ার পর তিনি ৪৯ বলে ৮৬ করেছেন। বিরাট কোহলি ৮ ইনিংসে সাতটি ক্যাচ দেন, ২ বার জীবন পাওয়ার পর কোহলি করেন ৬২ বলে ৮৪। শিমরন হেটমায়ারের ক্যাচও পড়েছে ৫ বার। সবচেয়ে বেশি ক্যাচ পড়েছে জয়পুরে, তারপর দিল্লিতে।
চলতি আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ফেলেছেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ৫টি ক্যাচ ধরতে গিয়ে তিনি তিনবার ক্যাচ ফেলেছেন। বিজয় শঙ্কর ৫টি সুযোগের ক্ষেত্রে তিনবার সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি। আবদুল সামাদ ও বৈভব অরোরা ৪টি করে ক্যাচ ধরার সুযোগ পেয়ে ২ বার করে ক্যাচ ফেলেছেন। হর্ষিত রানা ও সন্দীপ শর্মার বলে সবচেয়ে বেশি ৫ বার করে ক্যাচ পড়েছে।
ক্যাচ ধরার পারদর্শিতায় প্রথম ৪০টি ম্যাচের পর সবচেয়ে সফল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ক্যাচ ধরার শতকরা হার তাদের ক্ষেত্রে ৮৩.৬ শতাংশ। প্রথম পাঁচে বাকি দলগুলি হলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (৮৩.৩ শতাংশ), কলকাতা নাইট রাইডার্স (৮৩.৩ শতাংশ), গুজরাত টাইটান্স (৭৮.৮ শতাংশ) ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (৭৫.৬ শতাংশ)।
রাজস্থান রয়্যালসের ক্যাচিংয়ের শতকরা হার ৭৩.৮ শতাংশ, লখনউ সুপার জায়ান্টসের ৭২.৫ শতাংশ, পাঞ্জাব কিংসের ৬৯ শতাংশ, দিল্লি ক্যাপিটালসের ৬৮.৭ শতাংশ। চেন্নাই সুপার কিংসের হাল খুব খারাপ, ক্যাচ সফলভাবে ধরার নিরিখে শতকরা হার ৬২.৭ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications