IPL 2025: ঋতুপর্ণ ঘরে ফেরায় স্বস্তিতে পরিবার, কোহলি ভক্তের জন্য অপেক্ষা করছে বিরাট লড়াই
ছোট থেকেই বাড়ির ছেলেটা বিরাট কোহলির অন্ধভক্ত। ঘর জুড়ে শুধুই কোহলির ছবি। বিরাটকে আইকন করেই খেলতে শুরু করে ক্রিকেট। কিন্ত সেই ছেলে যে ইডেনে খেলা দেখতে গিয়ে বিরাট কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতে পারে তা হয়ত স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি জামালপুরের কালাপাহাড় এলাকার পাখিরা পরিবার। এই বাড়ির ছেলে বিরাট ভক্ত ঋতুপর্ণ পাখিরা বর্তমানে চর্চার শিরোনামে।
বর্ধমান কর্ড লাইনের জৌগ্রাম স্টেশনে থেকে জামালপুরের কালাপাহাড় এলাকার দূরত্ব অটোতে প্রায় ২৫ মিনিট, প্রত্যন্ত একটা গ্রাম। এই গ্রামের মহাদেব পাখিরার ছেলে ঋতুপর্ণ পাখিরা। গত শনিবার আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে কেকেআর বনাম আরসিবির খেলা দেখতে ইডেনে গিয়েছিলেন।

তারপর থেকে দুই দিন বাড়ি ফেরেনি। নিয়ম লঙ্ঘন করে মাঠে প্রবেশ করে বিরাট কোহলির কাছে পৌঁছে যান। নিজের আইকন কোহলিকে স্পর্শও করেন। অনুপ্রবেশের জন্য দুই দিন হাজতেও বাস করতে হয়। জামিন পেয়ে ছেলে ঘরে ফেরায় অবশেষে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
মাত্র দুই দিনেই বিখ্যাত হয়ে গিয়েছেন ঋতুপর্ণ। স্টেশন থেকে গ্রাম সর্বত্রই তাঁকে নিয়ে বিরাট চর্চা। তাঁর ভাইরাল ভিডিও ঘুরছে ফোনে ফোনে। গ্রামের সরু পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় ঋতুপর্ণদের বাড়িতে। আর্থিকভাবে একেবারেই স্বচ্ছল নয় পাখিরা পরিবার।ছোট্ট বাড়ির মধ্যে বাবা-মা-দিদিদের সঙ্গে বিরাট স্বপ্ন নিয়ে দিন যাপন ঋতুপর্ণ পাখিরার। ঘরের মধ্যে কোহলির একাধিক ছবি। আসলে ঋতুপর্ণের ধ্যান-জ্ঞাণ শুধুই কোহলি।
কোহলির সঙ্গে একদলে খেলবেন এই স্বপ্ন নিয়েই ছোটবেলায় হাতে তুলে নেন ব্যাট, কিন্তু আর্থিক প্রতিকূলতায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে ক্রিকেটে। কিন্তু ব্যাট-প্যাড-গ্লাভসগুলো বড্ড যত্নে রেখেছেন ঋতুপর্ণ।বাবার ছোট্ট একটা দোকান, জমি জমাও বিশেষ কিছুই নেই, উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র ঋতুপর্ণকে মাঝেমধ্যেই পার্টটাইম কাজও করতে হয়। এতকিছুর মধ্যেও বজায় রেখেছেন কোহলিব প্রেম।
বিরাটেই টানেই অতি কষ্ট করে কেকেআর বনাম আরসিবি ম্য়াচের টিকিট জোগাড় করেন। শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গ্রামের ছোট্ট পথ ধরেই চলে গিয়েছিলেন কলকাতার ইডেনে। তারপর শুধু খেলা দেখাই নয়, অসীম সাহস নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে মাঠে কোহলির কাছে পৌঁছে যান। নিজের আইকনকে জড়িয়ে ধরেন, শরীরও স্পর্শ করেন। একটু কথাও হয়।
ঋতুপর্ণের আবেগ, ভালোবাসা খাঁটি, কিন্তু কোহলির কাছে যাওয়ার উপায়টা যে অবৈধ। ফলে মাঠ থেকে বাড়ি ফেরা হয়নি। ঠিকানা হয় ময়দান থানা। টানা রবিবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট একদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সোমবার মুক্তি পান। শনিবার শুধু বিরাটের স্পর্শই পাননি, শেষ দুই দিনে অনেক শিক্ষাও হয়েছে। নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন ঋতুপর্ণ। ভালোবাসা যতই থাকা আগামীদিনে আর কোনও কোহলি ভক্ত যেন তাঁর মতো নিয়ম ভেঙে মাঠে না ঢুকে পড়েন,সেই আবেদনই করলেন ঋতুপর্ণ।
ঋতুপর্ণ বলেন, আমি যেটা করেছি সেটা ভুল। আমি কোহলির সব ভক্তদের বলব কেউ যেন এভাবে মাঠে প্রবেশ না করেন কারণ এতে স্যারের খেলার ছন্দ নষ্ট হতে পারে। ছেলে বাড়ি ফেরায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। ছেলে যে ভুল করেছে সেটা মানলেন বাবা-মা-ও। সংসারে আর্থিক অনটন আছে। তার মধ্যেই আগামীদিনে ছেলেকে ক্রিকেটার তৈরি করতে চান ঋতুপর্ণের বাবা মহাদেব পাখিরা। তিনি বলেন, আমাদের আর্থিক ক্ষমতা কম তার মধ্যেই ওকে ক্রিকেটের সব সরঞ্জাম কিনে দেওয়ার চেষ্টা করব। যাতে আগামী দিনে ও ক্রিকেটার হতে পারে। আর কখনও আমার ছেলে এমন কাণ্ড করবে না।
ঋতুপর্ণ ঘরের ফেরায় উদ্বেগের অবসান ঘটেছে মা-দিদির। মা কাকুলি পাখিরাও চান ছেলে ভালো করে ক্রিকেট খেলেই প্রতিষ্ঠিত হোক। মা কাকুলি পাখিরা বলেন, আমি ছেলেকে বলেছি তুমি ওরাম কাজ কেন করলে,মন দিয়ে ক্রিকেটটা খেলো, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করো। দিদি প্রীতি পাখিরা বলেন, ছোট থেকেই দেখে আসছি ভাইকে কোহলিই ওর সব কিছু। ও জন্য পাগল পুরো। ভক্ত থেকে বিরাট কোহলির সতীর্থ হওয়াই এবার লক্ষ্য ঋতুপর্ণ পাখিরার। আগামীতে বিরাট লড়াই অপেক্ষা করছে কোহলি ভক্তের জন্য।












Click it and Unblock the Notifications