IPL 2025 Exclusive: প্রতিভার সঙ্গে মিশে আছে কঠোর সাধনা, শিষ্য বৈভবের সাফল্যের রহস্য ফাঁস করলেন গুরু মণীশ
শিষ্যের ইনিংসে মুগ্ধ গুরু। আইপিএলে দুরন্ত পারফরফ্যান্স করে নয়া ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ১৪ বছরের কিশোর বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থাব রয়্যালসের হয়ে মাত্র ৩৫ বলে শতরান করে নয়া রেকর্ডের মালিক বৈভব। তাঁর কোচ মণীশ ওঝা ওয়ান ইন্ডিয়াকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন কীভাবে পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে সাফল্য আইপিএলে সাফল্য পেয়েছেন তাঁর ছাত্র?
আইপিএলে গুজরাত দলের বিরুদ্ধে ছাত্রের ইনিংস প্রসঙ্গে মণীশ জানিয়েছেন, কোচ হিসাবে আমার অত্যন্ত গর্ব হচ্ছে।। বিহারের এক ছোট্ট শহর থেকে উঠে এসে এত বড় মঞ্চে এই ধরনের পারফরম্যান্স করায় আমরা অত্যন্ত গর্বিত। গোটা বিহারবাসী ওর জন্য গর্বিত। আমার মনে হয় বৈভবের মধ্যে দিয়ে বিহার ক্রিকেটের এক পুনর্জন্ম হলো।

সোমবার দুরন্ত ইনিংস খেলার পর কোচের সঙ্গে কথা বলেন বৈভব। কি কথা হয়েছিল ছাত্রের সঙ্গে? সেই প্রসঙ্গে মণীশ বলেন, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে বৈভবের। ওকে অনেক শুভেচ্ছা জানিয়েছি। ভালো খেলার জন্য, একইসঙ্গে বলেছি পথ চলা এখনও অনেক বাকি আছে। নিজেকে ধরে রাখতে হবে। আগামী ম্যাচগুলোতে এই ভাবেই পারফরম্য়ান্স করতে হবে। ও যদি নিজেকে ধরে রাখতে পারে এবং এই ভাবে খেলতে পারে। তাহলে আগামী এক বছরের মধ্যেই টিম ইন্ডিয়ার টি২০ দলেও সুযোগ পেতে পারে।
আট বছর বয়স থেকেই মণীশ ওঝার কোচিং সেন্টারে অনুশীলন করেন বৈভব। শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে বৈভবের কোচ বলছিলেন, ছোট থেকে ও অত্যন্ত পরিশ্রমী একই সঙ্গে প্রতিভাবান। বৈভবের জন্য ওর পরিবারের সদস্যরাও অনেক পরিশ্রম করেছেন ভোরবেলা উঠে ওর মা খাবার তৈরি করে দিত। সাড়ে সাতটার মধ্যেই আমার একাডেমিতে চলে আসতো। এরপর সাড়ে তিনটে পর্যন্ত অনুশীলন চলত। আমি প্রথম থেকেই ওর ব্যাটিংয়ের দিকে বাড়তি ধ্যান দিয়েছিলাম যাতে ওর ব্যাটিং আরও উন্নতি হয়।
তাঁর অ্যাকাডেমিতে অনেক ক্রিকেটারাই আসেন কিন্তু কোথায় বাকিদের থেকে আলাদা বৈভব? এই প্রসঙ্গে তাঁর কোচ বলেন প্রথমত, বৈভব খুব দ্রুত শিখতে পারে যখনই ওকে কিছু টেকনিক্যাল পরিবর্তন বা ব্যাটিংয়ের কথা বলতাম তখন দ্রুত সেটা ধরে ফেলতে পারত, একই সঙ্গে নিজের শিক্ষা গুলোকে ম্যাচে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে। শুধুমাত্র অনুশীলনেই ভালো করা নয় একই সঙ্গে অনুশীলন থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো ম্যাচে প্রয়োগ করতে পারে যেটা ওর সবথেকে বড় ইউএসপি।
মণীশ আরও বলেন, সাধারণত নেটে বাচ্চারা খুব ভালো ব্যাটিং করে, কিন্তু ম্যাচে গিয়ে তারা নার্ভাস হয়ে যায়। সেই চাপটা নিতে পারে না। কিন্তু বৈভবের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি ছিল না। আরও একটা বিষয় ছিল ও খুব মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। প্র্যাকটিস এবং ম্যাচের মধ্যে কোন পার্থক্য করত না। আইপিএলে প্রথম ম্যাচে খেলতে নেবে ৩৪ রানে আউট হওয়ার পর চোখে জল এসে গিয়ে ছিল বৈভবের। এমনকি ভিভিএস লক্ষ্মণ একটা সময় দেখেছিলেন সাজঘরে বসে কাঁদছেন বৈভব।
এই প্রসঙ্গে তাঁর কোচ বলেছেন, আসলে যেহেতু ওর বয়সটা খুব অল্প তাই ও খুব আবেগপ্রবণ। পাশাপাশি সবসময় ক্ষুধার্ত থাকে রানের জন্য। রান না পেলে মনে মনে খুব দুঃখ পায়। তারই হয়ত বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যালেঞ্জার ট্রফির সময় একটা ম্যাচে ৩৬ রানে আউট হয়ে গিয়েছিল তখনই লক্ষণ স্যার বলেছিলেন যে আমরা রানটা দেখছি না আমরা ওকে আগামী দিনের তারকা হিসেবেই দেখছি।
মাত্র ১৪ বছর বয়সেই আইপিএলে অভিষেক, তারপর প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাকিয়েছিলেন। এতটা আগ্রাসী কীভাবে হলেন বৈভব, এই প্রসঙ্গে তাঁর কোচ বলেন, আসলে আগ্রাসনটা ছোট থেকেই ওর মনের মধ্যেই রয়েছে। গত চার সাড়ে চার বছর ধরেই বড় মঞ্চের জন্য আমি ওকে তৈরি করেছিলাম। যাতে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারে তার জন্য তৈরি করেছিলাম যাতে ও স্ট্রোকে উন্নতি করতে পারে সেই বিষয়টির লক্ষ্য রেখেছিলা।একইসঙ্গে মণীশ বলেন, প্র্যাকটিসেও অনেক বেশি স্ট্রোক খেলতো।
১৪ বছরের কিশোর কিশোরীরা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় মগ্ন থাকেন কিন্তু বৈভব যে ব্যতিক্রমী. তাওর সময় কোথায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ে নাড়াঘাটা করার বরং সেই সময়টা আরও বেশি ক্রিকেটেই ফোকাস করেন, তবেই না তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে শতরান।












Click it and Unblock the Notifications