IPL 2025: অশ্বিনী কুমারের উত্থানের পথ চমকপ্রদ, পছন্দের খাবারের কথা জানালেন মা
IPL 2025: আইপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথম বলে উইকেট নেওয়া থেকে প্রথম ভারতীয় হিসেবে আইপিএল অভিষেকে চার উইকেট। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দুমড়ে দিয়ে ম্যাচের সেরাও হলেন অশ্বিনী কুমার।
আইপিএল এমন এক মঞ্চ যেখানে অনেক অনামি ক্রিকেটার নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরেছেন। পরে সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলেও। অশ্বিনী কুমারের কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে গতকালের ম্যাচ।

আইপিএল অভিষেকে ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়ে অশ্বিনী বলেন, খেলার সুযোগ পাওয়া এবং তারপর এই পুরস্কার পাওয়া আমার কাছে খুবই বড় বিষয়। কখনও ভাবিনি। শুধু নিজের প্রসেসে মনোনিবেশ করে গিয়েছি। মোহালির ঝাঞ্জেরি থেকে এখানে আসার নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর ঈশ্বরের আশীর্বাদ।
অশ্বিনী জানান, ভালো খেলার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও শুরুর দিকে কিছুটা নার্ভাসও ছিলেন। কী হবে তা ভেবে। গ্রামবাসীদের প্রতি তাঁর বার্তা, আগামী ম্যাচগুলিতেও সকলকে গর্বিত করতে চান।
অশ্বিনীর রঞ্জি অভিষেক হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, ১৮ বছর বয়সে। রাজস্থানের বিরুদ্ধে রঞ্জি ম্যাচে দুই ইনিংসে ১টি করে উইকেট পান। পরে ২০২২ সালে আরেকটি রঞ্জি ম্যাচে হিমাচলের বিরুদ্ধে পান ১টি উইকেট। আইপিএল খেলার আগে তাঁর চারটি করে লিস্ট এ ও টি২০ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। গতকালই প্রথমবার ইনিংসে চার উইকেট নিলেন।
পাঞ্জাব থেকে একের পর এক তারকা উঠে আসছেন। কেকেআরের রামনদীপ সিং ও অশ্বিনী একই আকাদেমিতে অনুশীলন করেন। যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, শুভমান গিল থেকে শুরু করে অভিষেক শর্মা, অর্শদীপ সিংদের মতো প্লেয়ারদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নজর কেড়েছেন রামনদীপ। এবার যোগ হলো অশ্বিনী কুমারের নাম।
রামনদীপ গতকালের ম্যাচের পর বলেন, অশ্বিনী খুবই প্রতিভাবান। আমরা দুজনে একই আকাদেমিতে প্র্যাকটিস করি। আমি অপেক্ষা করছিলাম অশ্বিনীর ডেলিভারি আমি কখন সামলাব। যদিও সেটা এই ম্যাচে হলো না। আইপিএল যে তরুণ প্রতিভাদের দক্ষতা দেখানোর বড় মঞ্চ, অশ্বিনী তার বড় উদাহরণ। অশ্বিনী লম্বা রেসের ঘোড়া, উপলব্ধি রামনদীপের। উল্লেখ্য, অশ্বিনীকে কেরিয়ারের শুরুর দিকেই ভুগিয়েছিল হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট ও টেনিস এলবোর সমস্যা।
"Ashwani showed us what (playing for) the MI badge means!" - HP 💙
— Mumbai Indians (@mipaltan) April 1, 2025
The left-arm pacer won the Dressing Room Best Bowler award for his 4/24 in his debut match 🙇♂🏅#MumbaiIndians #PlayLikeMumbai #TATAIPL pic.twitter.com/2tEwSuHeBZ
এই চোটের ফলে বছর দুয়েক তাঁর জায়গা হয়নি পাঞ্জাব দলে। কামব্যাকের পর একটি করে রঞ্জি ও বিজয় হাজারে ট্রফির ম্যাচ খেলেন। তবে জায়গা পাকা করতে পারেননি। ফিটনেসেরও সমস্যা ছিল। তাছাড়া ততদিনে পাঞ্জাব দলে পেসারদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
২০২৩ সালে চণ্ডীগড়ে লঞ্চিং প্যাড আকাদেমিতে যোগ দেন অশ্বিনী। ২০২৪-২৫ মরশুমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতেও সুযোগ পান। অশ্বিনী নজর কাড়েন চেন্নাই সুপার কিংস ও পাঞ্জাব কিংসের স্কাউটদের। তাঁরা নেট বোলার হিসেবে অশ্বিনীকে চাইছিলেন। এমনকী চেন্নাই যাতে নিতে না পারে সেজন্য মরিয়া ছিল পাঞ্জাব।
আইপিএলের মেগা নিলামের আগে অশ্বিনী মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের ট্রায়ালে গিয়েছিলেন। খুব জোরে বল না করলেও যেভাবে অশ্বিন নতুন বলে স্যুইং করান, বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেন তা নজর এড়ায়নি স্কাউটদের। এরপর নিলাম থেকে অশ্বিনী ও সত্যনারায়ণ রাজুকে ৩০ লক্ষ টাকা করে দিয়ে দলে নেয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
"IPL woh mauka deti hai ki aadmi overnight hero banta hai" 😍#AshwaniKumar, remember the name! 💪
— Star Sports (@StarSportsIndia) March 31, 2025
Next up in #IPLonJioStar 👉 #LSGvPBKS | TUE, 1st APR, 6:30 PM on Star Sports 1, Star Sports 1 Hindi & JioHotstar! pic.twitter.com/7hwLfRXTkm
মনে রাখতে হবে জসপ্রীত বুমরাহ এখন তারকা, কিন্তু জসপ্রীত বুমরাহ হওয়ার আগে তিনি নজর কেড়েছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কাউটদের। আইপিএল শুরুর আগে অশ্বিনী চণ্ডীগড়ের আকাদেমিতে গিয়ে কোচ বরিন্দর সিংয়ের তত্ত্বাবধানে ফিটনেস, নন-বোলিং আর্ম, স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিংয়ের বিষয়ে ট্রেনিং নেন। যার ইতিবাচক ফল ফিটনেস উন্নত করে অশ্বিনী আবির্ভাবেই হয়ে উঠলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বড় ভরসা।
পাঞ্জাবের কোচ ওয়াসিম জাফর ইএসপিএনক্রিকইনফোকে বলেন, নেটে অবিরাম বোলিং করতে পারেন অশ্বিনী। খুব বাধ্য, ক্রমাগত উন্নতি করতে চান। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে যেমন বল করতে পারেন তেমনই বাউন্সার, ইয়র্কার, স্লোয়ার ডেলিভারি দিতে পারেন। ভালো লাগছে সঠিক ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতেই পড়েছেন অশ্বিনী।
A dream debut for #AshwaniKumar! 💙
— Star Sports (@StarSportsIndia) March 31, 2025
He gets the big wicket of #AjinkyaRahane on the very first delivery of his #TATAIPL career! 🔥
Watch LIVE action ➡ https://t.co/SVxDX5nnhH#IPLonJioStar 👉 #MIvKKR | LIVE NOW on Star Sports 1, Star Sports 1 Hindi, Star Sports 3 &… pic.twitter.com/Qk0cSw6IlE
অশ্বিনীর শিকার অজিঙ্ক রাহানে, রিঙ্কু সিং, মণীশ পাণ্ডে ও আন্দ্রে রাসেল। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ওপেনার রায়ান রিকেলটন বলেন, প্রথমে দেখে মনে হয়নি অশ্বিনী এত জোরে বল করতে পারেন। সেই সঙ্গে নতুন বলে স্যুইং করাতেও তিনি পারদর্শী। ফলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জোরে বোলিংয়ের বিকল্প এবার যথেষ্টই শক্তিশালী।
অশ্বিনীর ঘণ্টায় ১৪০.৭ কিলোমিটার বেগে করা স্ক্র্যাম্বলড সিম ডেলিভারি ছিটকে দেয় রাসেলের মিডল স্টাম্প। অনুশীলনে অশ্বিনীর বল, বিশেষ করে লেট স্যুইং দেখে অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া আশ্বস্ত ছিলেন যে, অশ্বিনী রাসেলের বিরুদ্ধে কার্যকরী হতে পারেন।
অশ্বিনীর পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়। জানা গিয়েছে, অশ্বিনীর বাড়ির দেওয়াল যথাযথভাবে রং করানোও হয়নি। অশ্বিনীর কোচ বজিন্দর সিং ক্রিকবাজকে বলেন, আজকাল ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে নেটে বোলাররা নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে বেশি বল করেন না। অশ্বিনী কিন্তু ব্যতিক্রম। তিনি কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান।
বরিন্দরের কথায়, অশ্বিনী যেভাবে টানা বোলিং করে যান তা অবাক করার মতোই। নেটে তিন-চার ওভার করে তিনি ক্ষান্ত হন না। দিনে ১৩ থেকে ১৫ ওভার করেন। কখনও কখনও তো আমাদেরই গিয়ে তাঁকে বলতে হয়, আর বোলিং করার দরকার নেই।
পাঞ্জাবের প্রাক্তন কোচ আবিষ্কার সালভি বলেন, আমি ওই দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল অশ্বিনী নেটে নিয়মিত বল করবেন। দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ তাঁকে ক্লান্তিহীনভাবে বল করতে দেখেছি। পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন যেভাবে এই ধরনের প্রতিভাকে চিহ্নিত করে সুযোগ দেয় তা প্রশংসনীয়।
সিদ্ধার্থ কৌল, বলতেজ সিং, অর্শদীপ সিংরা থাকায় পাঞ্জাব দলে জায়গা এতদিনে পাকা হয়নি অশ্বিনীর। তবে ঘণ্টায় ১৩৫-১৪০ কিলোমিটার বেগে বল করতে পারেন, স্যুইং করানোর দক্ষতা রয়েছে। ভালো বাঁহাতি পেসার হওয়ার সব গুণ রয়েছে। লাইন ও লেংথেও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
অশ্বিনীর পারফরম্যান্সে গর্বিত তাঁর গ্রাম। গতকাল অশ্বিনী বলেছিলেন, খেলতে নামার আগে শুধু কলা খেয়েছিলেন। অশ্বিনীর মা মীনা রানি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, অশ্বিনী বেসনের চিলা ও আলুর পরোটা খেতে ভালোবাসেন।
বরিন্দর যখন প্রথম অশ্বিনীকে পান তখন তিনি খুব জোরে বল করতে পারতেন না। লাইন ও লেংথেও ধারাবাহিকতাও থাকতো না। ডানহাতিদের সমস্যায় ফেলতে কী ধরনের বল করতে হবে সেই পরামর্শ দেন বজিন্দর। তারপর তাঁর কাছেই নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেন কঠোর পরিশ্রমী অশ্বিনী। বোলিং অ্যাকশনে সামান্য বদল হওয়ায় তাঁর অভ্রান্ত নিশানায় বল করা, বোলিং এরিয়ায় নিয়ন্ত্রণও উন্নত হয়েছে।
"IPL woh mauka deti hai ki aadmi overnight hero banta hai" 😍#AshwaniKumar, remember the name! 💪
— Star Sports (@StarSportsIndia) March 31, 2025
Next up in #IPLonJioStar 👉 #LSGvPBKS | TUE, 1st APR, 6:30 PM on Star Sports 1, Star Sports 1 Hindi & JioHotstar! pic.twitter.com/7hwLfRXTkm
বরিন্দরই জানান, নেটে রামনদীপ সিংকে অনেক বল করেছেন অশ্বিনী। বল ভিতরের দিকে আনতে বলতেন কোচ। তবে রামনদীপ বলতেন, বল সোজা আসছে। ভিতরের দিকে আসছে না। কিন্তু শিখতে আগ্রহী অশ্বিনী সেই খামতি পুষিয়ে নেন। আন্দ্রে রাসেলের উইকেটটি সেই প্র্যাকটিস সেশনেরই সুফল বলে মনে করছেন কোচ।












Click it and Unblock the Notifications