IND vs ENG: ইডেনের প্রেস বক্সে ভুয়ো সাংবাদিকদের দাপাদাপি! মারাত্মক অভিযোগে প্রশ্নের মুখে মিডিয়া ম্যানেজার
IND vs ENG: ইডেনে ভারতীয় দল তো বটেই, হেরে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার প্রশংসা করেছেন পিচের। স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন টিম ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টি২০ আন্তর্জাতিক সফলভাবে আয়োজন করলেন প্রশাসনিক পারদর্শিতা দেখিয়েই।
কিন্তু বিশ্বকাপ বা আইপিএলের মতো খাঁটি দুধে গরুর চোনা পড়ল মিডিয়া ম্যানেজার অরিত্র চৌধুরীর ভূমিকার জন্যই। উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

বিসিসিআই নির্দিষ্ট কয়েকটি বাদে ডিজিটাল মিডিয়াকে অ্যাক্রিডিটেশন দেয় না। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল চালানো কয়েকজন বাগিয়ে নিয়েছেন বোর্ডের কার্ড। ম্যাচ কভারের ছাড়পত্রও পেয়ে গিয়েছেন তাঁরা! বোর্ডের নিয়মে যাঁরা আক্ষরিক অর্থেই ভুয়ো।
এখানেই শেষ নয়। এমন কিছু ব্যক্তিকে বিসিসিআইয়ের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ম্যাচ কভার করতে এবং বিরতির মধ্যে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ির পথে হাঁটতে দেখা গিয়েছে, যাঁদের কাগজ বা চ্যানেলের অস্তিত্বই নেই। প্রশ্ন হলো, তাহলে প্রতি বছর যে কার্ড রিনিউয়াল হয় তাহলে সেখানে ঝাড়াই-বাছাইয়ের কোনও ব্যবস্থাই নেই? যদি সংবাদমাধ্যমই না থাকে, তাহলে এডিটর বা স্পোর্টস এডিটরের চিঠি আসবে কোত্থেকে? তাহলে ভুয়ো নথি দিয়েই মিলছে বিসিসিআইয়ের কার্ড।
বিসিসিআইয়ের কার্ড পেলেই ম্যাচ কভারের ছাড়পত্র মেলে না। বোর্ডের প্রতিনিধির সঙ্গে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার মিডিয়া ম্যানেজারের তালমিলে তৈরি হয় সেই লিস্ট। সেখানেও ভুয়োরা দেদার ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছেন। এমন জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, এটা সম্ভব হচ্ছে সিএবিতে তাঁর সোর্স থাকায়।
ইডেনে দীর্ঘদিন ধরে ম্যাচ কভার করা সিনিয়র সাংবাদিকরা গোটা ঘটনায় অবাক। জানা যাচ্ছে, প্রতিবার বড় কোনও ইভেন্টের আগে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন ম্যাচ সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিশ্চিত করতে। কিন্তু সূত্রের খবর, ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে তেমন বৈঠক হয়নি।
জনৈক সিনিয়র সাংবাদিক বললেন, বিশ্বকাপ বা আইপিএলকে ছাপিয়ে গিয়েছে এবারের ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ। প্রেস বক্সে বেশিরভাগই অচেনা মুখ, যাঁদের ক্রিকেট তো বটেই ময়দানেই দেখা যায় না। অভিযোগ, অনেক ভুয়ো কাগজ বা পোর্টালের লোকজন ভুয়ো নথি দিয়ে বিসিসিআইয়ের কার্ড বাগিয়েছেন। তাঁরা ম্যাচ কভারও করছেন। অস্তিত্বহীন মিডিয়ার নামেও এমন সুযোগ মিলছে।
যেখানে জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমের ডিজিটাল বিভাগের সাংবাদিকরা সততা দেখিয়ে বিসিসিআইয়ের কার্ড পান না, ম্যাচ কভার তো দূরের কথা, সেখানে ফেসবুক বা ইউটিউব চালানো লোকজন কীভাবে তা পেয়ে যাচ্ছেন? তাঁদের ম্যাচ কভার করতেও দেওয়া হচ্ছে। এমন হলে তো কোনও জঙ্গিরাও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যে কোনও ভুয়ো নথি দিয়ে কার্ড বাগিয়ে কাউকে ম্যাচ কভার করতে প্রেস বক্সে ঢুকিয়ে দিতে পারে।
এমন নজিরও সামনে এসেছে যে কোনও আরএনআই নম্বর দিয়ে অ্য়াপ্লাই করে কার্ড মিলছে, ম্যাচ কভার করা যাচ্ছে। যদিও সেই কাগজ আখেরে বাজারে পাওয়াই যায় না। সিএবি এখনও এ বিষয়ে মুখ না খুললেও আগের ঘটনাগুলির সময় দায় ঠেলেছিল বিসিসিআইয়ের উপরেই। বলা হয়েছিল, বোর্ড যাঁদের নাম দেয়, তাঁদেরই ম্যাচ কভার করতে দেওয়া হচ্ছে।
সেটা সত্যি হলে, বিসিসিআইয়ের ব্যবস্থাপনাতেও খামতি যে রয়েছে সেটা পরিষ্কার। সামনেই আইপিএল। তারপর আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে বিশ্বকাপ রয়েছে। সকলের নিরাপত্তার স্বার্থেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার অরিন্দম বসু পদত্যাগের পর তাঁর অধীনে কাজ করা অরিত্র মিডিয়া ম্যানেজারের কাজ চালাচ্ছেন। সিএবির মিডিয়া গ্রুপ দেখভাল করেন। যদিও সেখানে সময়মতো বাংলা দলের বা ক্লাব ক্রিকেটের খবর আসে না। অনেক দেরিতে ছবি ও খবর আসে, তাতে অসুবিধা হয় সাংবাদিকদের।
ইডেনে ম্যাচ কভারের বৈধ অনুমতি থাকা সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রেস বক্সে এমন অনেকেই ছিলেন যাঁদের ম্যাচ কভার করার ছাড়পত্র ছিল না। তেমনই একজনের সঙ্গে মিডিয়া ম্যানেজার দুর্ব্যবহার করে বেরিয়ে যেতে বলেন। যদিও বাকিদের ক্ষেত্রে তা করেননি বলে অভিযোগ।
চ্যানেল টেনের সাংবাদিক শম্ভুনাথ ভৌমিক ওয়ানইন্ডিয়াকে বলেন, আমি দেখি একই সংবাদমাধ্যমের অনেকে প্রেস বক্সে ছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতেই আমি প্রেস বক্সে যাই। তখন মিডিয়া ম্যানেজার আমাকে বেরিয়ে যেতে বলেন। হয়তো আমি ঢুকে পড়ায় অনিয়ম ফাঁস হবে আঁচ করেই তিনি এমনটা করেন। রীতিমতো অপমান করেন। তখন ম্যাচ কভার করা সাংবাদিকদের লিস্ট প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলি। কিন্তু মিডিয়া ম্যানেজার পিঠটান দেন। মনে করা হচ্ছে, ওই লিস্টেই লুকিয়ে যাবতীয় অনিয়মের রহস্য। সিএবি তা উন্মোচনে উদ্যোগী হবে কি?












Click it and Unblock the Notifications