সৌরভ না থাকলে ধোনির থেকে সেরাটা বেরিয়ে আসতো কি? বিতর্কিত প্রশ্ন যে উঠেই যায়
সৌরভ না থাকলে ধোনির থেকে সেরাটা বেরিয়ে আসতো কি? প্রশ্ন যে উঠেই যায়
২০০৪ সালের কথা। বুক সমান ঘোলা জলে বিস্তর হাবুডুবু খাওয়ার ভারতীয় দলের সুযোগ পেয়ে দম নিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তৎকালীন অধিনায়ক এক দেখায় বুঝে গিয়েছিলেন যে এই তরুণ আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটকে শাসন করবেনই। ভাগ্যিস সেদিন সেই কথা ভেবে পরপর ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া ধোনিকে লাগাতার খেলিয়ে গিয়েছিলেন মহারাজ। তা না হলে হয়তো ধোনি নামক কোনও কিংবদন্তি হারিয়ে যেতেন বিস্মৃতীর অতলে।

ধোনির হাত ধরেছিলেন সৌরভ
সুদীর্ঘ চাপানউতোর শেষে ভারতীয় এ দলে ডাক পেয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কেনিয়ায় হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছিলেন মাহি। নজরে পড়ে গিয়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। মাহিকে ঘোলা জল থেকে টেনে তুলেছিলেন মহারাজ। দীনেশ কার্তিক, পার্থিব প্যাটেল, দীপ দাশগুপ্তদের পিছনে ফেলে ২০০৪ সালে ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ দিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। হয়তো সেই সময় টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় না থাকলে সেই সুযোগ পেতেন না মাহি।

পরপর ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও দলে ধোনি
২০০৪ সালে ভারতীয় দলের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেই সিরিজের প্রতি ম্যাচেই ব্যর্থ হয়েছিলেন এমএস। এরপর দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচেও মিডিল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি ধোনি। তবু তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে পাঞ্জা কষে ধোনিকে বিশাখাপত্তনমের ঐতিহাসিক ম্যাচেও খেলিয়েছেন মহারাজ। সেই ঘটনা না ঘটলে হয়তো ধোনিকে নিয়ে আবেগতাড়িত হওয়ার সুযোগই পেতেন না ক্রিকেট প্রেমীরা।

কী ভেবেছিলেন সৌরভ
পরে এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যর্থতায় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরপর দুটি ম্যাচে মিডিল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে ব্যর্থ হওয়ার পর ধোনির থেকে সেরাটা বের করে আনার জন্য তিনি ভাবতে শুরু করেছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন মহারাজ। বলেছিলেন, সেই সময় তাঁর মনে হয়েছিল চ্যালেঞ্জে না পড়লে ক্রিকেটারদের থেকে সেরাটা বেরিয়ে আসে না। তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনম ওয়ান ডে ম্যাচে টসে জেতার পর তিনি ধোনিকে তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন বিসিসিআই সভাপতি। ওই ম্যাচে ১২৩ বলে ১৪৮ রানের অনবদ্য ইনিংস বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন কুল। আজ হয়তো সেই মুহূর্তই বারবার স্মরণ করছেন বিসিসিআই সভাপতি।

চাবুক ব্যাটসম্যান
প্রথম দেখাতেই মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিংয়ের ভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মাহিকে নেটে ব্যাট করতে দেখে মহারাজ বলেছিলেন যে বহুদিন বাদে 'চাবুক' ব্যাটসম্যান পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এবং ওই তরুণ ধোনি একদিন বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করবেন, তা সেই সময়ই বলে দিয়েছিলেন বিসিসিআই সভাপতি।

তবু বিতর্ক যে পিছু ছাড়ে না
বিতর্কিত গ্রেগ চ্যাপেল পর্ব শেষ এবং এমএস ধোনি যুগের সূচনার সন্ধিক্ষণে আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অথচ সেই সময় সাহায্য করার পরিবর্তে ধোনি নাকি মহারাজের নিচ থেকে মাটিই সরিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ অনেকের। ২০০৭-০৮ মরশুমের অস্ট্রেলিয়া সফরের ওয়ান ডে দল থেকে সৌরভকে বাদ দিয়ে ধোনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন বলে দাবি বহু ক্রিকেট প্রেমীর। যদিও এ ব্যাপারে বিসিসিআই সভাপতি নিজে কোনও দিনই কিছু বলেননি। কেবল জানিয়েছিলেন, সেই সময় আরও দুই-তিনটি ওয়ান ডে সিরিজ খেলার সক্ষমতা ছিল তাঁর মধ্যে।












Click it and Unblock the Notifications