ফাইনালে হেরেও বিরাটদের লম্বা ছুটি! চটে লাল প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিনশিপের বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে ভারত নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাস্ত হয়েছে ৮ উইকেটে। তারপরেও গোটা দল ২০ দিনের লম্বা ছুটিতে। তিরাশির বিশ্বকাপ জয়ের ৩৮ বছর পূর্তিতে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য তথা ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক দিলীপ বেঙ্গসরকার এই বিরাট ছুটি দেখে নিজের বিস্ময় গোপন রাখলেন না।

ছুটিতে ভারত
সাউদাম্পটন থেকে লন্ডন গিয়েছে ভারতীয় দল। মুক্তি মিলেছে জৈব সুরক্ষা বলয় থেকে। ২০ দিনের ছুটি কাটিয়ে সকলে লন্ডনে ১৪ জুলাই মিলিত হয়ে যাবেন ডারহামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজের জন্য জৈব সুরক্ষা বলয়ে। সেখানে নিজেদের মধ্যেই চার দিনের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে হবে বিরাটদের। কেন না, করোনা পরিস্থিতিতে কোনও কাউন্টি দলকে বিরাটদের সঙ্গে একই জৈব সুরক্ষা বলয়ে রাখা সম্ভব নয়। বা প্রস্তুতি ম্য়াচ খেলে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের সুরক্ষা বিঘ্নিত হোক সেটাও চাইছে না ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। এমনকী টেস্ট সিরিজের সময় জাতীয় নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান চেতন শর্মা ও নির্বাচক সুনীল যোশীরও ইংল্যান্ড সফর বাতিল হয়েছে নিভৃতবাস, জৈব সুরক্ষা বলয়ের কঠোর বিধির কারণে। যদিও ভারতীয় সীমিত ওভারের দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরে কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে থাকবেন দুই সাপোর্ট স্টাফ দেবাশিস মোহান্তি ও আবে কুরুভিল্লা।

অবাক কর্নেল
ফাইনালে হারের পর ইংল্যান্ড সিরিজের আগে বিরাটদের লম্বা ছুটি মানতে পারছেন না ভারতীয় ক্রিকেটের কর্নেল। দিলীপ বেঙ্গসরকার। তিনি দেশকে ১০টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৬ বছরের কেরিয়ারে ১১৬টি টেস্ট খেলেছেন। ভারতে ১৩টি আর ইংল্যান্ডে ৪টি শতরান রয়েছে। ভারতীয় দলের নির্বাচক প্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন। সেই বেঙ্গসরকার এদিন সাফ বলেন, আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রটি দেখলাম। ভারত সত্যিই ভালো খেলেছে। কিন্তু ফাইনালে যেটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিল তা হলো প্রস্তুতির খামতি। কোনও প্র্যাকটিস ম্যাচ না খেলে ফাইনাল খেলতে নামার মূল্য দিতে হলো ভারতকে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই দেশেই দুটি টেস্ট খেলে অনেক বেশি ম্যাচ ফিট হয়েই নেমেছিল।

প্রস্তুতিই মূল
ভারতীয় দলকে যাতে দেশে ফিরে আবার ইংল্যান্ডে গিয়ে কঠোর নিভৃতবাসে কাটাতে না হয় এবং যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ মেলে সে কারণেই বিরাটদের ইংল্যান্ডে রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বিসিসিআই। কিন্তু বেঙ্গসরকার মনে করেন, ফাইনালের পর এক সপ্তাহের বিরতি যথেষ্ট ছিল। সাফল্য পেতে ধারাবাহিকভাবে খেলতে হবে। যে সূচি তৈরি হয়েছে তা আমাকে অবাক করেছে। বিরাট কোহলি যে একাগ্রতা বা দৃঢ়সংকল্পের কথা বলে থাকেন তা নিয়েই বিরাটকে বিঁধে কর্নেল বলেন, তাই যদি হবে তাহলে তাঁর দল কেন ফাইনালের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিল না? সেই একাগ্রতা বা দৃঢ়সংকল্প কোথায় ছিল? অন্তত দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলে ভারতের ফাইনালে নামা উচিত ছিল বলেই মন্তব্য করেছেন বেঙ্গসরকার। কারণ, তাঁর মতে, প্র্যাকটিস ম্যাচেই বোঝা যায় কোন ক্রিকেটার ফিট আর কে ফিট নন। কোথায় বল খেললে কার্যকরী হবে তাও বোলাররা বুঝতে পারেন প্র্যাকটিস ম্যাচ খেললেই।

দল নির্বাচন নিয়ে
ভারত টেস্টের আগেই প্রথম একাদশ ঘোষণা করে দিয়েছিল। প্রথম দিন বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়ার পরে টসের আগে দল বদলানোর সুযোগ থাকলেও সে পথে হাঁটেননি বিরাটরা। বেঙ্গসরকার বলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ায় অনেকটা এই ধরনের পরিস্থিতিতেই সিরিজ জিতেছি। ম্যাচের দিন বা ম্যাচের আগের দিন কবে দল ঘোষণা করা হচ্ছে সেটা বড় ব্যাপার নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক দল নির্বাচনটাই আসল। ভারত একজন ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডারকে মিস করেছে বলে বুঝিয়ে দিয়ে বেঙ্গসরকার বলেন, হার্দিক যখন ছিলেন না, তখন অন্য কাউকে তো নেওয়া যেত। সমস্যা হচ্ছে বিসিসিআই প্রতিভা তুলে আনার সঠিক পরিকাঠামো তৈরি করেনি। বোর্ডের উচিত অনূর্ধ্ব ১৯ থেকে ক্রিকেটার তুলে এনে তাঁদের গ্রুম করা।

বিরাটেই আস্থা
ইংল্যান্ডের মতো দেশে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল হলে বেস্ট অব থ্রি ফাইনালের পক্ষেই সওয়াল করেছেন বেঙ্গসরকার। তিনি বলেন, ভারত যেহেতু একটা ম্যাচ খেলল পরে দুটো ম্যাচ পেলে ফাইনাল অন্যরকম হতে পারত। বিরাট যেহেতু তিন ফরম্যাটেই ভালো করছেন তাই আলাদা ফরম্যাটে আলাদা অধিনায়ক রাখার সময় এখনই হয়নি বলেও মন্তব্য বেঙ্গসরকারের।












Click it and Unblock the Notifications