ড্যামিয়েন মার্টিন গুরুতর অসুস্থ, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জোড়া বিশ্বকাপজয়ী হাসপাতালে পাঞ্জা কষছেন মৃত্যুর সঙ্গে
অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ড্যামিয়েন মার্টিন গুরুতর অসুস্থ। তিনি ব্রিসবেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৫৪ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ডানহাতি ব্যাটার গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি বর্তমানে 'ইনডিউসড কোমা'তে আছেন এবং মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষছেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মার্টিন ৬৭টি টেস্ট, ২০৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও চারটি টি২০ আন্তর্জাতিক খেলেছেন। টেস্টে ১৩টি ও ওডিআইয়ে পাঁচটি শতরান আছে। ২০০৩ সালে ভারতকে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তাতে অজিদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক স্কোর (৮৪ বলে অপরাজিত ৮৮) ছিল মার্টিনের।
তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ ড্যারেন লেম্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, "ড্যামিয়েন মার্টিনের জন্য অনেক ভালোবাসা ও প্রার্থনা রইল। শক্ত থেকো এবং লড়াই চালিয়ে যাও কিংবদন্তি। পরিবারের প্রতি ভালোবাসা জানাই।" মার্টিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, "ও সেরা চিকিৎসা পাচ্ছে। ওর সঙ্গী আমান্ডা এবং পরিবার জানে যে প্রচুর মানুষ ওর জন্য প্রার্থনা ও শুভকামনা পাঠাচ্ছেন।"
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ মার্টিনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেছেন, "ড্যামিয়েনের অসুস্থতার খবর শুনে আমি মর্মাহত। এই সময়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বের পক্ষ থেকে ওর জন্য শুভকামনা রইল।"
সহজ ও সাবলীল ব্যাটিং ছিল মার্টিনের প্রধান শক্তি। টেস্ট ক্রিকেটে তার গড় ছিল ৪৬.৩৭। ডারউইনে জন্ম নেওয়া মার্টিনের মাত্র ২১ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক হয় ১৯৯২-৯৩ মরসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ডিন জোন্সের জায়গায়। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হন। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা ১৬৫ রান তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস, যা তাঁর ১৩টি টেস্ট সেঞ্চুরির একটি। ২০০৬-০৭ অ্যাশেজ সিরিজে অ্যাডিলেড ওভালে তিনি শেষ টেস্ট খেলেন এবং পরবর্তীতে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
মার্টিন ২০৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন যেখানে তাঁর গড় ছিল ৪০.৮। তিনি ১৯৯৯ এবং ২০০৩ বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য। বিশেষ করে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আঙুল ভাঙা অবস্থায় ব্যাটিং করে অপরাজিত ৮৮ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। এ ছাড়া ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications