ভারতীয় দলের সুরক্ষায় আস্ত হোটেলই বুক করল প্রোটিয়া বোর্ড
ভারতীয় দলের সফর ঘিরে কোনও ঝুঁকি যে নেওয়া হবে না, তা আগেই জানিয়েছিল ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা। পাশাপাশি বিসিসিআই'কে প্রোটিয়া বোর্ড নিশ্চিত করেছিল কোভিড প্রোটোকল কঠোর ভাবে মানার বিষয়ে। শুধু কথার কথা নয়, সাবধানতার ক্ষেত্রে যে কোনও আপোস আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ড করছে না তার প্রমাণও মিলল হাতেনাতে।

ওমিক্রন ত্রাসে জর্জরিত বিশ্ব। তার মধ্যেই এই সিরিজ খেলা হবে। ভারতীয় দলের ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফ'দের মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা'র কথা মাথায় রেখে পুরো হোটেল-ই বুক করল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড। যার ফলে পুরো হোটেলই ঢুকে গেল জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে।
ভারতের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে সেঞ্চুরিয়ানের প্লাস ইরিনি কান্ট্রি লজ। স্থানীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর সেঞ্চুরিয়ানে পা রাখার পর থেকেই এই হোটেলে থাকবে গোটা দল। সাম্প্রতিক অতীতে এই হোটেলেই কোভিড প্রোটোকল মেনে আপ্যায়ন করেছে শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা'কে। এই হোটেল থেকেই বক্সিং ডে টেস্টে সেঞ্চুরিয়ানের সুপারস্পোর্ট পার্কে মাঠে নামবে ভারত। নতুন বছরে দ্বিতীয় টেস্টের সময়েও একই হোটেলে থাকবে বিরাট কোহলির দল। ের পর কেপটাউনে যাবে গোটা টিম।
এক নজরে দেখে নিন হোটলের উপর কী বিধিনিষিধ চাপিয়েছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা:
· বাইরের কোনও অথিতি'তে আপ্যায়ণ করা যাবে না
· হোটেলর স্টাফেদের নিভৃতবাসে থাকতে হবে
· হোটেস স্টাফদের দৈনিক হারে কোভিড টেস্ট করতে হবে
· হোটেলে যাই আসুক প্রত্যেকটি বস্তুই পরীক্ষা করে দেখতে হবে যাতে সেগুলির সঙ্গে মারণ ভাইরাসের কোনও যোগ না থাকে
· একাধিক জোনে হোটেল'কে ভাগ করা, যাতে কোভিড বিধি সঠিকভাবে পালন করা যায়
· হোটেলে কোভিড-১৯ কমপ্লায়েন্স অফিসার নিযুক্ত করা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় কোভিডের সংক্রমণ যখন শীর্ষে সেই কঠিন সময়ে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সফল ভাবে দু'টি ক্ষেত্রে জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছিল এই হোটেল। গত বছরের ডিসেম্বরে এই হোটেলে থেকেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং শ্রীলঙ্কা দল। চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে এই হোটেলেই থাকে পাকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওমনিক্রমের কারণে ইতিমধ্যেই চারটি ম্যাচ হারিয়েছে প্রোটিয়া ক্রিকেট বোর্ড। বিসিসিআই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ছাড়পত্র দিলেও মাঠের মধ্যে দর্শক ঢোকার অনুমতি এখনও দেয়নি স্থানীয় প্রাশসন। যার অর্থ টিকিট বিক্রি'র লভ্যাংশও হারাতে পারে তারা। একাধিক বার দর্শক মাঠে উপস্থিত থাকার ছাড়পত্রের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সে দেশের ক্রিটে বোর্ড আর্জি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও উত্তর আসেনি। যদিও ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার কার্যনির্বাহী আধিকারিক ফোলেটসি মোসেকি আশাবাদী কিছু সংখ্যক দর্শকে তাঁরা স্টেডিয়ামে স্বাগত জানাতে পারবেন। তাঁর কথায়, "সমর্থক'রা যাতে এই ম্যাচে মাঠে ঢুকতে পারে তার দিকে নজর আছে আমাদের। আমাদের বৈঠক শেষ হলেও এই বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো। এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং আমরা আশাবাদী দিনের শেষে স্বস্তিদায়ক কিছু ঘোষণা করতে পারবো।" দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডের আশা সকল সমর্থককে ছাড়পত্র না দিলেও যাঁদের ভ্যাকসিন হয়ে গিয়েছে তাঁদের অন্তন মাঠে আসার ছাড়পত্র দেবে স্থানীয় সরকার।












Click it and Unblock the Notifications