Clive Lloyd: আশি ছুঁইছুঁই 'স্যার' যাবেন ৭৫ বছরের গ্রামের স্কুলে! কলকাতায় পা রেখেই ক্লাইভ লয়েড কী বললেন?
Clive Lloyd: কলকাতায় ক্লাইভ লয়েড। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক যখন এদিন দমদম বিমানবন্দরে পা রাখলেন, তখনও শীতের সকালে সেভাবে আড়মোড়াই ভাঙেনি শহর।
১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া গ্রামে সাতগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্ল্যাটিনাম জুবিলি ট্রফির ফাইনালে হাজির থাকবেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি।

২০১৬ সালে টি২০ বিশ্বকাপের সময় কলকাতায় এসেছিলেন শেষবার। গায়ানা, লন্ডন, দুবাই হয়ে আজ সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছন লয়েড। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকলের ছাপই ছিল না বিশ্বকাপের প্রথম দুই সংস্করণের চ্যাম্পিয়নের চোখেমুখে। তিরাশির বিশ্বকাপে লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েই কাপ জিতেছিল কপিল দেবের ভারত।
১৯টি টেস্ট শতরানের মালিক লয়েড। টেস্টে সর্বাধিক রানের নিরিখে চতুর্থ সেরা ইনিংসটি খেলেছেন এই কলকাতাতেই। ইডেন গার্ডেন্সে ১৯৮৩ সালের ১০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টে। ওডিআই ফরম্যাটে সেই সময়ের বিশ্বসেরা অধিনায়ক কপিল দেবের ভারতকে সেই টেস্টে ইনিংস ও ৪৬ রানে হারিয়েছিল লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৪২ রানে চার উইকেট হারিয়ে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাল ধরেন লয়েড। ভারতের প্রথম ইনিংসে ২৪১ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পৌঁছে দেন ৩৭৭ রানে। লয়েড অপরাজিত ছিলেন ১২টি চারের সাহায্যে ২৯০ বলে অপরাজিত ১৬১ রানের ইনিংস খেলে। এরপর ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯০ রানে অল আউট হয়ে যায়। ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন লয়েড।
সেই কলকাতাতেই প্রায় ৮ বছর পর এলেন লয়েড। সাতগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সুরজিৎ বক্সী লয়েডকে কলকাতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন। ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হয় বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক দেবাশিস দত্তের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি লয়েডকে রাজি করান।
বাংলার গ্রামের স্কুলের কথা শুনে লয়েডও আসার জন্য উৎসাহী ছিলেন। সুরজিৎ বক্সীর পুত্র সম্মেলন বক্সী বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন লয়েডকে। তাঁর কথায়, গ্রামের স্কুলের ৭৫ বছরে আশি ছুঁইছুঁই লয়েড হাজির হচ্ছেন এর চেয়ে গৌরবের কিছু হতেই পারে না। পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির সহযোগিতায় আয়োজিত স্কুলের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীদের কাছেও ১২ জানুয়ারি স্মরণীয় হতে চলেছে।
বিমানবন্দরে সাতসকাল থেকেই লয়েডের অপেক্ষায় উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন গুণমুগ্ধ। কেউ ক্যামেরা বের করে ছবি তোলেন, কেউ আবার অটোগ্রাফ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। সম্মেলন জানান, দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর লয়েড হাসিমুখেই বিমানবন্দরের গেট দিয়ে বেরিয়েছেন। এটাই সবচেয়ে খুশির খবর। লয়েড এসে জানিয়েছেন, তিনিও এই সফরে খুশি। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তিনি যখন হোটেলের দিকে যাচ্ছেন তখন গাড়িতে বসে কল্লোলিনী তিলোত্তমাকে দেখে বলেছেন, বিউটিফুল সিটি।












Click it and Unblock the Notifications