রিচার ঘরে ফেরা নিয়েও রাজনীতি! মমতা ও সৌরভকে বিঁধে সরব শিলিগুড়ির বিধায়ক
ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য রিচা ঘোষ আজ শিলিগুড়িতে ফিরেছেন। বিমানবন্দর থেকে হুড খোলা গাড়িতে চেপে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
বিমানবন্দরে বাদ্যযন্ত্র-সহকারে রিচাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে হাজির ছিলেন বহু ক্রিকেটপ্রেমী। রাস্তার দু-ধারেও রিচার অপেক্ষায় থাকা মানুষজন কেউ হাত মেলালেন, কেউ উত্তরীয় পরালেন, কেউ ফুল ছুড়লেন, কেউ আবার দূর থেকে হাত নাড়লেন, কারও ভাগ্যে জুটে গেল অটোগ্রাফ।

শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, রিচার বাড়ি যে এলাকায় সেখানকার কাউন্সিলর-সহ উপস্থিত ছিলেন অনেকেই। দিল্লিতে ঘন কুয়াশার কারণে রিচা বাগডোগরা পৌঁছন ঘণ্টা তিনেক দেরিতে। বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে প্রায় দেড়টা বেজে যায়। রিচাকে আশীর্বাদ করে বরণ করে নেন মা। বিমানবন্দরে মেয়েকে আনতে গিয়েছিলেন রিচার বাবা।
আজ বিকেলে বাঘাযতীন পার্কে রবীন্দ্র মঞ্চে রিচার জন্য নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের তরফে রিচাকে সংবর্ধিত করা হবে। রিচা সাংবাদিকদের জানান, এই বিশ্বকাপ জয় দেশের মহিলাদের ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। পরের লক্ষ্য টি২০ বিশ্বকাপ জেতা। সব খেলোয়াড়দের সাহায্যার্থে স্টেডিয়াম-সহ ক্রীড়া পরিকাঠামো বাড়ানোর উপর জোর দেন রিচা। তিনি এটাও জানান, শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে অনুশীলন করলেও কলকাতায় গিয়ে বড় মাঠে না খেলার সুযোগ পেলে তিনি এই জায়গায় পৌঁছতে পারতেন না।
বিভিন্ন রাজ্য সরকারের তরফে সেই রাজ্যগুলির যাঁরা বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা দলে ছিলেন তাঁদের আর্থিক পুরস্কার বা চাকরির ঘোষণা করা হয়েছে। এখনও তেমন কিছু ঘোষণা করেনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রিচাকে পুলিশে চাকরি দেওয়া হবে বলে তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, রিচাকে ইডেনে সংবর্ধনা তো কাল দেওয়া হবে। ফলে আজই সব বলছি না। কালকের জন্য কিছু থাক।
শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভায় দলের মুখ্য সচেতক ড. শঙ্কর ঘোষ অবশ্য আজ রাজ্যের শাসক দল, রাজ্য সরকার ও সিএবিকে একযোগে আক্রমণ করলেন। তিনি নিজে আজ শিলিগুড়িতে না থেকে কলকাতায়। ইডেনের উল্টোদিকের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে করলেন সাংবাদিক বৈঠক।
শঙ্কর বলেন, যারা বাংলা, বাঙালি অস্মিতার কথা বলে সেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস রিচার ব্যাপারে উদাসীন। এর কারণ রাজ্য সরকার কলকাতা-কেন্দ্রিক। ভাবখানা এমন বাইরে কারও জন্য মুখ্যমন্ত্রী যেন দয়া করেন। আজ বাগডোগরায় রিচাকে স্বাগত জানাতে রাজ্য সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী-সহ কোনও মন্ত্রী ছিলেন না। এমনকী সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও যাননি। রিচাকে অভিনন্দন জানিয়ে কোনও বোর্ডও টাঙানো হয়নি। অথচ কলকাতাজুড়ে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের হোর্ডিংয়ের ছড়াছড়ি, শিলিগুড়ির মেয়ে বলে, তিনি মেয়েদের ক্রিকেট খেলেন বলে উপেক্ষা করতেই কি এমনটা হলো? সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যা পারেননি, রিচা তা পেরেছেন। বিশ্বকাপ জিতেছেন। সৌরভ যদি এমন কৃতিত্ব অর্জন করতেন তাহলে তাঁকে কি এভাবে উপেক্ষা করা হতো?
কাল বিকেলে সিএবি রিচাকে যে সংবর্ধনা দেবে তাকে কটাক্ষ করে বলেন, দু'রকমের বিষয় আছে। একটা হলো আন্তরিকতা, আরেকটি যান্ত্রিকতা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে মহারাজ বলা হয়, তিনি সিএবি সভাপতি। তবে রিচার জন্য একটা বোর্ড টাঙানো হয়নি, তিনি বিমানবন্দরে যাননি। এতেই তাঁর মানসিকতার পরিচয় মেলে। তাঁর খেলা হলে আমরা টিভির সামনে থেকে উঠতাম না। যে রিচাদের সঙ্গে দেখা করতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সময় বের করেন, সেখানে সৌরভের বা সিএবির কারও না থাকা লজ্জার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন মহিলা। বিশ্বকাপ জয়ের পর বাংলা থেকে উঠে আসা ঝুলন গোস্বামীও আবেগের অশ্রুসজল অবস্থায় ক্রিকেটারদের জড়িয়ে ধরেছেন। কিন্তু রিচা বাংলায় ফেরার দিনে কলকাতায় তাঁকে নিয়ে যে উদাসীনতা তা রিচা জানতে পারলেও তাঁর যে ভালো লাগবে না সে কথাও জানিয়েছেন শঙ্কর। সিএবির তরফে অবশ্য এই প্রসঙ্গে এখনও কিছু বলা হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, রিচাকে আজই সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ভেবেছিল সিএবি। কিন্তু রিচা প্রথমে শিলিগুড়ির বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আজই পৌঁছেছেন। ফলে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই শনিবার ইডেনের লনে রিচাকে সংবর্ধনার পরিকল্পনা সিএবির। থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে হতে পারে চমকপ্রদ ঘোষণা।












Click it and Unblock the Notifications