পাকিস্তানি হামলায় নিহত তিন আফগান ক্রিকেটার, প্রতিবাদে ক্রিকেট সিরিজ থেকে নাম তুলে নিল আফগানিস্তান
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) শনিবার জানিয়েছে যে পাকিস্তানের বিমান হামলায় পকতিকা প্রদেশে তিন আফগান ঘরোয়া ক্রিকেটার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এসিবি নভেম্বরে লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডিতে নির্ধারিত ত্রিদেশীয় সিরিজ বাতিল করার ঘোষণা করেছে।
নিহত তিন ক্রিকেটারের নাম কবীর, সিফাতুল্লাহ এবং হারুন। এছাড়াও উরগুন জেলায় আরও পাঁচজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এসিবি এই ঘটনাকে "পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাপুরুষোচিত হামলা" আখ্যা দিয়েছে।

আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে আগামী ৫ থেকে ২৯ নভেম্বর লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডিতে এই টি২০ ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আফগানিস্তান দলের অধিনায়ক রশিদ খান এই "বর্বর" বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সিরিজ থেকে সরে আসার বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, "খেলোয়াড়রা বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে এর আগে পকতিকা প্রদেশের রাজধানী শারানায় গিয়েছিলেন। উরগুনে নিজেদের বাড়িতে ফেরার পর এক জমায়েতের সময় তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এসিবি এটিকে আফগানিস্তানের ক্রীড়া জগত, এর ক্রীড়াবিদ এবং ক্রিকেট পরিবারের জন্য একটি বড় ক্ষতি বলে মনে করছে।"
এসিবি নিহতদের পরিবার এবং পকতিকা প্রদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানের সঙ্গে আসন্ন ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
১১ অক্টোবর আফগান বাহিনী কয়েকটি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর দু'দেশের মধ্যে তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়, যার পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এরপর একটি ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি হয়। যা পরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের পকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালানোর পর ভেঙ্গে গিয়েছে। হামলাটি ডুরান্ড লাইনের কাছে আরগুন এবং বারমাল জেলার আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। তালিবান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে।
এই বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর এটি আফগানিস্তানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর হওয়ার কথা ছিল। আফগানিস্তানের এই সিরিজ থেকে সরে আসা পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বহুকাল বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে ভারত শুধু বহুদেশীয় টুর্নামেন্টেই পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে। সম্প্রতি এশিয়া কাপে দু'দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল, যেখানে ভারতীয় খেলোয়াড়রা ম্যাচ-পরবর্তী হ্যান্ডশেক করতেও অস্বীকার করেছিলেন।
ঘটনা আরও গভীর হয় যখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এশিয়া কাপের ট্রফি চ্যাম্পিয়ন ভারতের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করেন, কারণ ভারতীয় দল তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications