বগটুই কাণ্ডে আদালতে অভিযুক্তদের চিনতে পারলেন না সাক্ষীরা, মামলার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন সিবিআই-এর
এক রাতে দশজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ২০২২-এর শুরুর দিকে শিরোনামে এসেছিল বীরভূমের বগটুই। তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ। বীভৎস সেই ঘটনায় তদন্তভার গিয়েছিল সিবিআই-এর হাতে। সেই মামলার শুনানি চলছে রামপুরহাট আদালতে।
এদিন আদালতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে ডাকা হয়েছিল সাক্ষীদের। সাক্ষী দিতে ছয়জন হাজির হয়েছিলেন। তাঁরা ঘটনার কথা বর্ণনা করলেও অভিযুক্তদের কাউকেই চিনতে পারেনি বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় সিবিআই আইনজীবী পার্থ তপস্বী মামলার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিন আদালতে সাক্ষী হিসেবে হাজির ছিলেন মিহিলাল শেখ এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য। তাঁরা ঘটনার বর্ণনা দেন। কিন্তু আদালতে থাকা দুই অভিযুক্তকে চিনতেই পারেননি।
২০২২-এর ২১মার্চ বগটুই গ্রামে তৃণমূল নেতাকে হত্যার রাতেই ১০ জনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটে। তারপর মূল অভিযুক্ত লালন শেখের মৃত্যু হয়েছে সিবিআই হেফাজতে। ঘটনার দিন তৎকালীন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল প্রথমে বলেছিলেন টিভি থেকে আগুন লেগে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে। পরে বিষয়টি সামনে আসে।
গত বছরের ২১ মার্চ বগটুই হত্যাকাণ্ডের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বজনহারাদের বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বগটুই গ্রামকে মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলবে রাজ্য সরকার। কলকাতা ফেরার পথে রামপুরহাটে ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যাকে তিনি একথা জানিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণাকে বগটুইয়ে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা বলে কটাক্ষ করেছিলেন বিরোধীরা।
পরবর্তী সময়ে বগটুইয়ে গণহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মিহিলাল শেখ যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। তারপরেও অজয় নদ দিয়ে অনেক জয় বয়ে গিয়েছে।
তবে আইনজীবীদের একাংশ বলছেন, এখনও বেশ কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে। এখন অভিযুক্তদের শাস্তি দিতে সেই দিকেই তাকিয়ে আইনজীবী থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই।












Click it and Unblock the Notifications