ছিলেন রাজমিস্ত্রি, আর আজ বগটুইতে এই আনারুলের কথাতেই ওঠতেন-বসতেন নেতারা
গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় বীরভূমের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে। বীরভূমে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রথম থেকেই শিরোনামে ছিলেন দাপুটে নেতা কেষ্ট মণ্ডল। কিন্তু ঘটনার পরই সামনে আসে অন্য এক নেতার নাম। আনারুল হোসেন। রাজ্য রাজন
গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় বীরভূমের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে। বীরভূমে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রথম থেকেই শিরোনামে ছিলেন দাপুটে নেতা কেষ্ট মণ্ডল। কিন্তু ঘটনার পরই সামনে আসে অন্য এক নেতার নাম। আনারুল হোসেন। রাজ্য রাজনীতিতে খুব বেশি পরিচিত মুখ না হলেও, বগটুই গ্রামে তাঁর প্রকাণ্ড বাড়ি দেখেই অনুমান করা যায় তাঁর দাপটের নমুনা।

একদিকে যখন স্বজনহারা গ্রামবাসীরা সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বলছেন, আনারুলের নির্দেশেই আগুন লাগানো হয়েছে, অন্যদিকে তখন আনারুল নিরুত্তাপ। তাঁর দাবি, তিনি তো এলাকাতেই ছিলেন না। সুতরাং আগুন লাগানোর কথাও তাঁর জানা যায়।
তবে বৃহস্পতিবার বগটুইতে দাঁড়িয়ে সেই আনারুলকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁকে ঘিরে এত কাণ্ড, আদতে কে সেই নেতা? অতীত ঘাঁটলে দেখা যায় রাজনীতিতে আনকোরা নন তিনি।
একসময় কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। পরে তৃণমূল দল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর তিনি ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান। এলাকায় একডাকেই আনারুলকে চেনে সবাই। একসময় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। আর আজ বগটুইতে ঢুকে কেউ যদি আনারুলের বাড়ি খোঁজেন, তাহলে তাক লেগে যেতে বাধ্য। অনেক বড় নেতার বাড়িকেও হার মানাবে তৃণমূলের এই ব্লক সভাপতির বাড়ি। শুধুমাত্র একজন ব্লক সভাপতি হয়ে যে এমন একটি বাড়ি বানানো সম্ভব নয়, তা বোঝেন সবাই।
আসলে বগটুইতে তৃণমূলের শেষ কথা আনারুল। তাঁর কথাতেই এলাকায় দলটা চলে। শুধু দল কেন, পুরসভারও হর্তাকর্তা নাকি তিনিই। আর ভোট করানো, সেটাও আনারুল হোসেনের নখদর্পণে। রাজ্যের প্রাক্তন তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত তিনি।
আর এই জেলায় যে ব্যবসাটা ওপেন সিক্রেট, সেই অবৈধ বালি খাদানের ব্যবসার দড়িও তাঁর হাতেই। সুতরাং, ক্ষমতা আর টাকার অভাব যে তাঁর ছিল না, তা বেশ স্পষ্ট। আর সেই নেতাকেই আজ তাারপীঠ থেকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। সোমবার রাতে বগটুই গ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। যাঁরা বেঁচে ছিলেন ঘটনার পর তাঁরাও তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালিয়ে যান।
তবে ২৪ ঘণ্টা পর যখন সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে শুরু করেন তাঁরা, তখনই বেরিয়ে আসে আনারুলের নাম। কেউ বলেন, আনারুলের নির্দেশেই আগুন লাগানো হয়েছিল। কেউ আবার বলেন, বিপদের আশঙ্কার কথা আনারুলকে জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু আনারুল সে সব কানে নেয়নি, পুলিশ আনার ব্যবস্থাও করেনি।
বৃহস্পতিবার বগটুইতে গিয়ে স্বজনহারাদের অভিযোগ শুনেই সঙ্গে সঙ্গে দলেরই নেতা আনারুলকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুহূর্তে দাপট উধাও। গেটে তালা লাগিয়ে পগারপার আনারুল। তারাপীঠ থেকে তাঁকে পাকড়াও করেছে পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications