মমতার ল্যাংচা-কটাক্ষের সমালোচনায় শুভেন্দু-মনোজ, তৃণমূলের মুখ পোড়াবে কন্যাশ্রী কাপে শশীদের ভাইরাল ছবি?

রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের ঘটনা তোলপাড় ফেলেছে রাজ্য তথা দেশের রাজনৈতিক মহলে। মহিলা, শিশু-সহ ৮ জনকে পুড়িয়ে হত্যা। অসমর্থিত সূত্রের খবর, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। ঘটনার বিভীষিকাময় ছবি দেখে শিউরে উঠছেন সকলে। তারই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের টুইট কিংবা বিজেপি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ল্যাংচা কটাক্ষ নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ল্যাংচা কটাক্ষের পাল্টা তৃণমূলকে বিঁধেছে বিজেপি, বগটুইয়ের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই তৃণমূলের মহিলা জনপ্রতিনিধিদের কন্যাশ্রী কাপের ফাইনালে উপস্থিতির ছবি দিয়ে।

বিতর্কের সূত্রপাত

বিজেপি প্রতিনিধিদল আজ বাসে চেপে বগটুই রওনা হয় কলকাতা থেকে। প্রাতরাশের জন্য বাস দাঁড় করানো হয় শক্তিগড়ে একটি ল্যাংচার দোকানে। সেখানকার একটি ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ টুইটে লেখেন, "বিজেপির পিকনিক। গাড়ি, বাসে যথাযথ আয়োজন বলে খবর। তবে শক্তিগড়ের ল্যাংচা না হলে চলে?" উল্লেখ্য, ওঁরা রামপুরহাটের দুঃখজনক ঘটনাস্থল দেখতে যাচ্ছেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তাঁর এই পোস্টটি করা উচিত হয়নি বলেই নানা অপশব্দ প্রয়োগ করে কুণাল ঘোষকে বিঁধতে থাকেন নেটাগরিকরা।

মমতার কটাক্ষ

মমতার কটাক্ষ

এরপর দুপুরে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাটের ঘটনার নিন্দা করার পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপের কথার ফিরিস্তি দিয়ে বলেন, কোনও দল ল্যাংচা খেয়ে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে আজ বগটুই গিয়েছে। তাঁরা রাত অবধি সেখানে থাকতে পারেন। সে কারণে আজ আমার যাওয়ার কথা থাকলেও যাচ্ছি না। আমরা উত্তরপ্রদেশ বা অসমের মতো কাউকে ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দিই না। কাল বগটুই তিনি যাবেন বলেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

সমালোচনা শুভেন্দুর

সমালোচনা শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা এমন হতে পারে না। রাস্তা দিয়ে কোথাও যেতে হলে চা খেতে দাঁড়াতে অসুবিধা কোথায়? তা নিয়ে বলবেন, ল্যাংচা খেয়ে রামপুরহাটে যাচ্ছে! মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ব্লিচিং, ফিনাইল দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বগটুই গ্রামে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই। সিট বা এখানকার ফরেনসিকের উপর ভরসা নেই। সিবিআই ও এনআইএ তদন্ত করুক।

দিনভর চাপানউতোর

শক্তিগড়ে যে দোকানে বিজেপি প্রতিনিধিদলের বাস দাঁড়িয়েছিল তার এক কর্মী জানিয়েছেন, ৫৯টি ল্যাংচা, ৪৬টি চা এবং সীতাভোগ ও মণ্ডা-সহ বিল হয়েছে ১২৬০ টাকার। ওই বাসেই ছিলেন বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গা। তিনি ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে বলেন, আমরা সকাল ৮টায় কলকাতা থেকে বেরিয়েছি। আমাদের বিধায়কদের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক ও ডায়াবেটিক রয়েছেন। অল্প সময়ের জন্য দাঁড়ানো হয়েছিল। কেউ ল্যাংচা খাননি। দিনভর ল্যাংচা নিয়ে চাপানউতোর চললেও সাধারণ মানুষের মতে, ল্যাংচার দাম সামান্য। কেউ খেলেও দোষের কী? শাসক দলের রাজনীতিবিদরা কি খাওয়া-দাওয়া করেন না? তাছাড়া যেখানে বাস দাঁড়িয়েছিল তা রাস্তার ধারের একটি দোকান, তারা-যুক্ত হোটেলও তো নয়। বিজেপির দাবি, ঘটনার থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এই ধরনের পোস্ট ও মন্তব্য করছে। অস্বস্তিতে থাকা শাসক দল।

পাল্টা কন্যাশ্রীর ছবি

এর পাল্টা বিজেপির তরফেও হাতিয়ার করা হয়েছে, কন্যাশ্রী কাপের ফাইনালের ছবি। উল্লেখ্য, রামপুরহাটের বগটুইয়ে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার যেদিন ঘটনা ঘটে তার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভায় নারী, শিশু বিকাশ ও সমাজকল্যাণ দফতরের বাজেট ভাষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অথচ বগটুই গ্রামে নারী ও শিশুদের হত্যার ঘটনার পরদিনই পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের মিছিলে হাঁটতে দেখা যায় রাজ্যের নারী, শিশু বিকাশ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. শশী পাঁজা-সহ মন্ত্রী, বিধায়ক জনপ্রতিনিধিদের। আর তারপরই কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বীরবাহা হাঁসদা, জ্যোৎস্না মাণ্ডি-সহ তৃণমূলের মন্ত্রী, বিধায়ক, কাউন্সিলরদের দেখা গিয়েছে। তাই ল্যাংচা নিয়ে কটাক্ষের পাল্টা কন্যাশ্রী কাপ ফাইনালের তিরে বিদ্ধ হয়েছে শাসক-দল। সেখানেও জনপ্রতিনিধিদের খাওয়া-দাওয়া, হাসিমুখে ছবি তোলা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বগটুইটের বীভৎস ঘটনার পরও এমন উৎসবের আনন্দে মেতে শাসক দলের মহিলা জনপ্রতিনিধিরা? কন্যাশ্রী কাপের ফাইনাল পিছিয়ে দেওয়া কিংবা অনাড়ম্বরভাবে করা যেত না? শশী পাঁজা-সহ তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সদস্যরা তো বীরভূমে গিয়ে আতঙ্কিত, স্বজনহারাদের পাশে দাঁড়াতেই পারতেন।

মনোজের হুঙ্কার

মনোজের হুঙ্কার

এ প্রসঙ্গে মনোজ টিগ্গা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কবে কোথায় যাবেন সেটা ওঁর ব্যাপার। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর যাচ্ছেন। মহিলা, শিশুদের পেট্রল ঢেলে যেখানে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে সেখানে নারী, শিশু বিকাশ ও সমাজকল্যাণনমন্ত্রী মেতে রয়েছেন খেলার উৎসবে। শাসক দলের মহিলা মন্ত্রী, বিধায়করাও সেখানে মেতে রয়েছেন। আসলে মুখ্যমন্ত্রী সব সময় অপরকে দোযারোপ করে থাকেন। কখন কী বলেন হুঁশ থাকে না। কোনও ঘটনা ঘটলেই বলেন ষড়যন্ত্র, সাজানো ঘটনা। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল অবধি আমাদের দেড়শো নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। ২ মে বিধানসভার ফল বেরনোর পর ৫০-৫৬ জন খুন হয়েছেন আমাদের নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে এসসি, এসটি, ওবিসি, মাইনরিটি রয়েছেন। সাজানো ও লোকদেখানো কথাবার্তা বলে তিনি সব ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চান। তবে আমরা সারা বাংলায় এর প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাব। বিধানসভাতেও এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+