পুড়ে গিয়েছিল শরীরে ৬০ শতাংশ, জীবন যুদ্ধে হারতে হল বগটুই গ্রামের নাজমা বিবিকে
পুড়ে গিয়েছিল শরীরে ৬০ শতাংশ, জীবন যুদ্ধে হারতে হল বগটুই গ্রামের নাজমা বিবিকে
রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে বাড়ল মৃতের সংখ্যা। হাসপাতালে মারা গেলেন নজমা বিবি। ৬০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে রামপুরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকায় তাঁকে কলকাতায় আনা যায়নি। প্রায় পাঁচ দিন পর মারা গেলেন তিনি।

বগটুই কাণ্ডে বাড়ল মৃতের সংখ্যা
একসপ্তাহ পার হয়নি। রীরভূমের রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের। ৮ জনের পোড়া দলা পাকানো দেহ উদ্ধার হয়েছে। আর একজন অর্ধদগ্ধ অবস্থায় জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রামপুরহাট হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সেই দুঃসহ রাতের মূল সাক্ষী নাজমা বিবি। শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাঁর। কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ঝুঁকি নিতে পারেননি চিকিৎসকরা। রামপুরহাট হাসপাতালেই চলছিল চিকিৎসা। শেষ পর্যন্ত লড়াই থামালেন তিনিও। জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন নাজমা বিবিও। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বগটুই হত্যাকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৯।

জীবন যুদ্ধে হার মানলেন নজমা বিবি
জীবন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন নাজমা বিবি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে। তারপরেই আর তাঁকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শেষ পর্যন্ত আর লড়াই জিততে পারেননি তিনি। বগটুই গ্রাম পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্যও তুলে দেওয়া হয়েছিল। তখনই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন নাজমা বিবির চিকিৎসার যাবতীয় খরচ রাজ্য সরকার দেবে। সেই মতই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিল সিবিআই অফিসাররাও।

সিবিআই জেরা
ইতিমধ্যেই বগটুই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই অফিসাররা। তাঁরা জেরা করে একাধিক তথ্য প্রমাণ হাতে পেয়েছে। গতকালই ৮ ঘণ্টা েজরা করা হয়েছে এই কাণ্ডে ধৃত এবং মূল অভিযুক্ত আনারুল হোসেনকে। সিবিআই জেরার মুখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আনারুল। তিনি বারবার দাবি করেছেন তাঁকে বলির পাঁঠা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটার সঙ্গে জড়িত নন। বগটুই কাণ্ডে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তৃণমূল কংগ্রেস ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশের আড়াই ঘণ্টার মধ্যে তারাপীঠ থেকে গ্রেফতার করা হয় আনারুল হোসেনকে।

মিহিলালকে জেরা
রামপুরহাট কাণ্ডে মিহিলালকে জেরা করতে চান সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারীকরা। ইতিমধ্যেই সিবিআই মিহিলালকে জেরার জন্য ডেকে পাঠিয়েছে। প্রথমে মিহিলাল রাজি হলেও পরে তিনি যেতে চাইছেন না সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্প অফিসে যেতে নারাজ তিনি। এর নেপথ্যে কোনও একটা ফোন কল রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অনুব্রত মণ্ডলের নাম উঠে আসছে।












Click it and Unblock the Notifications