সিবিআই খুন করেছে লালনকে! কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তে তৎপর সিআইডিও

সিবিআই খুন করেছে লালনকে! কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ স্ত্রীর

সিবিআই আধিকারিকরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে খুন করেছে লালন শেখকে! কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বগটুই-হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লালন শেখের স্ত্রী-র। লালন শেখের স্ত্রী রেশমা বিবির বিরুদ্ধে রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হচ্ছে তদন্তও।

সিবিআই খুন করেছে লালনকে! কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ স্ত্রীর

সোমবার সন্ধ্যায় সিবিআইয়ের রামপুরহাটের ক্যাম্প থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সিবিআই সূত্রে খবর, শৌচাগারে গিয়ে আত্মঘাতী হন লালন। লালনের মৃত্যুর খবর জানার পরই সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে পিটিয়ে খুন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলে তাঁর পরিবার।এবার সেই অভিযোগ তুলে রামপুরহাট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর স্ত্রী।

লালনের মা, স্ত্রী, দিদি-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও দাবি, গতকাল তদন্তের কাজে লালনকে রবিবার বগটুই গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন সিবিআই আধিকারিকরা। লালনের মা অভিযোগ করেন, ছেলেটাকে এত মারধর করা হয়েছে যে, সে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। তার শরীরের অবস্থা আদৌ ভালো ছিল না। আর তারপরও তাঁর চিকিৎসার বন্দোবস্ত না করে তাঁর উপর জেরার নামে অত্যাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। থানার অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত শুরু করছে পুলিশও। সিবিআইও বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।

মঙ্গলবার রামপুরহাট হাসপাতালে লালন শেখের দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব। ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রামপুরহাটে এসেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য বোর্ড গঠন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডিও তৎপর হয়েছে এই ঘটনার তদন্তে। জেলা পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। ময়নাতদন্তের সময় সিআইডির চারজন আধিকারিক উপস্থিত থাকবেন।

সোমবার রামপুরহাটে সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পে তাঁর মৃত্যু হয়। ছ-দিনের হেফাজতের পর ফের তাঁকে তিনদিনের হেফাজতে নিয়েছিল সিবিআই। এই তিনদিনের হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। হেফাজতে মৃত্যু একটা স্পর্শকাতর বিষয়। এই ঘটনায় সিবিআইয়ের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবং বগটুই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রভাবিত হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২২ মার্চ রাতে বীরভূমের রামপুরহাটের বগটুইগ্রামে ১০ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তার আগের দিন অর্থাৎ ২১ মার্চ বগটুইয়ে তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখকে খুন করা হয়েছিল। ভাদু শেখ খুনের পর ১০ জনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় লালন শেখ ছিল মূল অভিযুক্ত। লালন শেখ তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিল। তদন্তকারীরা মনে করেন, ভাদু শেখ খুনের পর বদলা নিতেই ১০ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। সেই কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লালন। যদিও লালন দাবি করেছিলেন, ঘটনার দিন তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

এরপর বগটুই-কাণ্ডে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্ত লালন শেখকে গ্রেফতার করা যায়নি। তিনি পালিয়ে যান ঘটনার পর। সে কারণে তার নাগাল পাওয়া যায়নি। অবশেষে বগটুই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লালন শেখকে বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থেকে গ্রেফতার করা হয় ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর। ৪ ডিসেম্বর তাঁকে গ্রেফতারের পর সিবিআই তাঁকে হেফাজতে নিয়েছিল। প্রথমবার হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার তিনদিনের মেয়াদে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিবিআই।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+