প্রকৃতিকে সন্তুষ্ট করতে জঙ্গলমহলে পাহাড়-পুজো! মেতেছেন চার রাজ্যের হাজার হাজার মানুষ
প্রকৃতিকে সন্তুষ্ট করতে জঙ্গলমহলে পাহাড়ের পুজো করা হয় প্রতিবছর আষাঢ় মাসের তৃতীয় শনিবার। বেলপাহাড়ির কানাইসোর পাহাড় পুজো দেওয়া হয়। পুজোয় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এবারও ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় কানাইসোর পাহাড় পুজোয় সামিল হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ।
প্রতি বছর আষাঢ়ের তৃতীয় শনিবার থেকে তিন ধরে হয় মেলা। মেতে ওঠেন বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা রাজ্যের হাজার হাজার মানুষ। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় গাড়রাসিনি, খড়িডুংরি সহ যে সমস্ত পাহাড় পুজো অনুষ্ঠিত হয় তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাহাড় পুজো হল এই কানাইসোর পাহাড় পুজো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই কানাইসোর পাহাড় পুজো অনেক প্রাচীন। মূলত এখানকার আদি জনজাতি বাসিন্দারা চাষবাসের আগে প্রকৃতিকে সন্তুষ্ট করতে এই পাহাড়ের পুজো করতেন। লোকবিশ্বাস মতে এই পাহাড় পুজো করলে চাষবাস ভাল হয়। অতিবৃষ্টিতে কেউ বানভাসী হবেন না। হড়পা বান হবে না।
তাই চাষবাস শুরু করার আগে কৃষিজীবী সবাই পাহাড়ে পুজো দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বহু বছর আগে এলাকায় প্রবল বন্যায় ঘরবাড়ি,গরামথান বা গ্রাম রক্ষার দেবতা সমস্ত কিছু ভেসে গিয়েছিল। পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী ঢেঙাম গ্রামের বাসিন্দারা সেই সময় পাশাপাশি অন্য গ্রামবাসীদের সঙ্গে সভা করে গ্রাম রক্ষার দেবতাকে এই পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত করেন। সেই সময় থেকেই এই পাহাড়ে ঢেঙাম গ্রামের মাহালি সম্প্রদায় পূজারি হিসেবে রয়েছেন।
অন্য গরামথানের মতো পোড়া মাটির হাতি, ঘোড়ার মূর্তি উপবিষ্ট করে পুজো করা হয়। পুজোয় মুরগি বা ছাগ বলি প্রথা প্রচলিত রয়েছে। পাহাড় পুজো ঘিরে এখানে বড় আকারের মেলার সঙ্গে লোক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমস্ত রকমের বাদ্যযন্ত্র ও কৃষি কাজের নানান সামগ্রী পাওয়া যায়। পাহাড় পুজোর পরের দিন রবিবার পাশেই কেবলমাত্র আদিবাসীদের বারাঘাটে পৃথক পাহাড় পুজো ও আচার অনুষ্ঠান পালিত হয়। এই পাহাড় পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগে থেকেই দূরের লোকজন আত্মীয় বাড়িতে এসে থাকেন।












Click it and Unblock the Notifications