ভার্চুয়াল মাধ্যমে মমতার শুভেচ্ছা, বৈতালিক ও উপাসনায় শান্তিনিকেতনে শুরু পৌষমেলা
মাঝখানে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা। কিন্তু আবার সেই চিরাচরিত পদ্ধতিতেই শান্তিনিকেতনে পৌষমেলা শুরু হল। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবার দায়িত্বে নেই। জেলা প্রশাসন এই মেলার আয়োজন করেছে। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করছে।
আজ রবিবার ৮ পৌষ শান্তিনিকেতনে এই পৌষমেলা শুরু হল। এবারের মেলার বয়স ১২৫ বছর। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈতালিক ও উপাসনার মাধ্যমে এবারের পৌষমেলা শুরু হল। ছাতিমতলায় উপাসনার আয়োজন করা হয় বিগত বছরগুলির মতোই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সঞ্জয় কুমার মল্লিক।

"মোরে ডাকি লয়ে যাও মুক্ত দ্বারে" গানের মধ্যে দিয়ে শুরু হল পৌষমেলা। তার আগে শান্তিনিকেতন গৃহ থেকে সানাইয়ের সুর ভেসে আসে। এরপরেই ছাতিম তলায় শুরু হয়ে যায় উপাসনা। করোনা অতিমারি সময় ও পরবর্তীকালে নানাবিধ সমস্যার কারণে বন্ধ ছিল এই পৌষমেলা। প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সিদ্ধান্ত নিয়েও এই পৌষমেলা নানাবিধ সমস্যায় পড়েছিল। এমনই অভিযোগ উঠে আসে।
এখন আর উপাচার্য পদে নেই বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। তার অবসরের পর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সঞ্জয় কুমার মল্লিক। এবারে পৌষমেলা হবে কি? সেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল। হাতে খুব একটা সময়ও ছিল না। মেলা করার জন্য প্রথম দিকে উদ্যোগী হয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু এত বড় মেলা সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য হাতে সময় খুবই কম। এমনই দাবি করেছিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মেলা করা সম্ভব হবে না। এই কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা চাইছিলেন এবার মেলা হোক। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে ফের মন খারাপের আবহ আসে।
বীরভূম জেলা প্রশাসন মেলা করতে উদ্যোগী হয়। বোলপুরের প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। সিদ্ধান্ত হয় জেলা প্রশাসন এবারে বিকল্প মেলা করবে। পাশে থাকবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি হয়েছিলেন। তিনিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্তকে।
আজ রবিবার সকাল সাড়ে সাতটায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সঞ্জয় কুমার মল্লিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বীরভূমের জেলাশাসকের মোবাইলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তা আসে। সেই বার্তা শোনানো হয়। বৈতালিক ও উপাসনার মাধ্যমে শুরু হয়ে যায় এবারের পৌষমেলা।
বিকল্প পৌষমেলা করছে জেলা প্রশাসন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী সবটাই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে। এবারে মেলা হচ্ছে এই বার্তাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়েছেন এবারের পৌষমেলায়।
শনিবার থেকেই পর্যটকরা বোলপুরে রয়েছেন। এলাকার হোটেল, লজ, হোম স্টে গুলিতে যথেষ্ট ভিড় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সকলের মধ্যেই আনন্দ। যত সময় গড়াবে ততই মানুষের ঢল নামবে মেলার মাঠে। এমনই দাবি করছে প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications