রামপুরহাটের নির্মম ঘটনায় মুখ বুজে থাকতে পারি না, মমতাকে পাল্টা রাজ্যপালের
রামপুরহাটের নির্মম ঘটনায় মুখ বুজে থাকতে পারি না, মমতাকে পাল্টা রাজ্যপালের
রামপুরহাট-কাণ্ডে রাজ্যপালের বিবৃতির পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া চিঠি দিয়েছিলেন। তার পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রামপুরহাট প্রসঙ্গে মমতার অতীত আন্দোলন মনে করিয়ে জবাব দিলেন, এই নির্মম ঘটনার পর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারি না। তিনি বলেন, রামপুরহাটের ঘটনায় তাঁর বিবৃতিকে অযৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে ১০ জনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনার পারদ ফুটতে শুরু করে রাজ্য রাজনীতিতে। চর্চায় উঠে আসে বগটুই গ্রাম। এই ঘটনায় পুলিশ নিস্ক্রিয়তা সামনে চলে আসে। ফলে চটজলদি ব্যবস্থা নিয়ে আইসি ও এসডিপিওকে ক্লোজড করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যপাল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোদ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় মুখ্যসচিবের রিপোর্ট চেয়ে পাঠান। তাঁর সেই মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে ব্যাখ্যা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি লেখেন রাজ্যপালকে। রাজ্যপাল সাংবিধানিক পদে থেকে অসাংবিধানিক কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার পাল্টা দিয়ে এদিন রাজ্যপাল চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল সেই চিঠিতে উল্লেখ করেন, তাঁর বিবৃতিকে অযৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এদিনও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আপনি যে ধরনের মন্তব্য করেছেন তাতে তদন্তও প্রভাবিত হবে। এটা কার্যত অসাংবিধানিক।
WB Guv
— Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) March 23, 2022
Response to Hon’ble CM Mamata Banerjee on worst in recent memory grisly carnage at Rampurhat, where six women and two children were burnt alive.
This savagery is being justifiably compared by many to incidents in the state few years ago, while HCM was in opposition. pic.twitter.com/Z7vXiVdLFP
ধনকড় তাঁর জবাবে লিখেছেন, তাঁর বিবৃতির যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিত। রাজ্যপালের কথায়, রামপুরহাটের এই ঘটনার পর রাজভবনে আমি নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকতে পারি না। মুখ বুজে থাকব না। এই জঘন্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রাজ্যে আইনের শাসন নেই। সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চলছে রাজ্যে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এডিজি-সিআইডি জ্ঞানবন্ত সিংয়ের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাড়ি বেছে বেছে হামলা হয়েছে। প্রথম তৃণমূলের উপপ্রধান খুন। তারপর বকটুই গ্রামে ৭-৮টি বাড়িতে এক এক করে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। বিরোধীরা এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করছেন একের বদলায় আট খুন হিসেবে। এখন পর্যন্ত আট জনের মৃত্যু হয়েছে রামপুরহাট-কাণ্ডের অগ্নিসংযোগের ঘটনায়।
এদিন রামপুরহাটে সিপিএম ও বিজেপির প্রতিনিধি দল যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সিপিএম রামপুরহাটে পৌঁছে মিছিল শুরু করেছে। বিজেপি এরপর মিছিল করে যাবে। পুলিশ যেখানে বাধা দেবে সেখানে বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন শুভেন্দু অধিকারীরা। এদিন সিপিএম নব নির্বাচিত রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বাইকে করে বিনা বাধায় বগটুইয়ের অগ্নি-বিধ্বস্ত গ্রাম পরিদর্শন করে আসেন। তারপর বিমান বসুর নেতৃত্বে মিছিলে শামিল হন।












Click it and Unblock the Notifications