অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে গেম চেঞ্জার রাইসমিল! সিবিআই তদন্তে আরও সম্পত্তি-জমি-রেশন দফতর যোগের হদিশ
সিবিআই (CBI) আধিকারিকরা শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) বোলপুরের (Bolpur) ভোলে ব্যোম রাইস মিলে তল্লাশিতে প্রথমে বাধা পেলেও, পরে প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে তল্লাশি চালান। তবে এই তল্লাশিই সিবিআই-এর তরফে গেমচেঞ্
সিবিআই (CBI) আধিকারিকরা শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) বোলপুরের (Bolpur) ভোলে ব্যোম রাইস মিলে তল্লাশিতে প্রথমে বাধা পেলেও, পরে প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে তল্লাশি চালান। তবে এই তল্লাশিই সিবিআই-এর তরফে গেমচেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে বলেই দাবি সূত্রের। এই তল্লাশিতে যেমন ২৮ টি জমির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, অন্যদিকে চালতল থেকে রেশন দফতরের চাপ যাওয়ার প্রমাণও নাকি পাওয়া গিয়েছে।

স্ত্রীর নামে প্রচুর সম্পত্তি
শুক্রবার বোলপুরের কালিকাপুর মৌজার হারাধন মণ্ডল রোডে ভোলে ব্যোম রাইস মিলে ছয় ঘন্টা ধরে অভিযান চালান সিবিআই আধিকারিকরা। সেই তল্লাশিতে সেখানকার কালিকাপুর এবং গয়েশপুর মৌজায় একের পর এক সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে দাবি সিবিআই সূত্রে। এর সবই অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রী ও কন্যার নামে।
শুক্রবার গয়েশপুর মৌজায় যে ২৮ টি জমির গজিশ পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে ১৫ টি রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রী প্রয়াত ছবি মণ্ডলের নামে। এই দমি কেনা হয়েছিল ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে। তবে পরিবারের নামে থাকা দুটি কোম্পানির ঠিকানা ভোলে ব্যোম রাইস মিল হলেও,
এব্যাপারে আর কোনও নথি এখনও পাননি তদন্তকারীরা।

একাধিক চালকলের হদিশ
বোলপুরের ভোলে ব্যোম রাইসমিলের মালিকানা রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রী ছবি মণ্ডল এবং কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের নামে। সঙ্গে ডিরেক্টর গিসেবে রাখা হয়েছিস বাড়ির এক গৃহকর্মীকে। এছাড়াও পুরুলিয়া-সহ সংলগ্ন জেলাগুলিতে একাধিক চালকল রয়েছে, যেগুলি অংশিদারিত্ব রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের কন্যা সুকন্যা মণ্ডলে নামে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সব সম্পত্তি এবং চালচল গরু পাচারেরটাকায় কেনা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাইস মিলে রেশন দফতরের যোগ, হদিশ ডাম্পারের
অনুব্রত মণ্ডলের বোলপুরের ভোলে ব্যোম রাইস মিলের সঙ্গে রাজ্যের রেশন দফতরের যোগ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি সিবিআই সূত্রে। শুক্রবারের তল্লাশিতে অংশ নিয়েছিলেন ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার দুই আধিকারিকও। সিবিআই সূত্রে দাবি করা হয়েছে বোলপুরের রাইসমিল ছাড়ও সিউড়ির একটি রাইস মিল থেকে চাল সরবরাহ করা হত রাজ্যের রেশন দফতরে। এক্ষেত্রে সরকারি সব নিয়ম মেনে চাল খাদ্য দফতরে পাঠানো হত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও রাইস মিলের নামে বেশ কয়েকটি ডাম্পার কেনা হয়েছিল। যার জন্য অনুব্রত মণ্ডল জিএসটি দিয়েছিলেন প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা। ডাম্পার কিনতে কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ
দিন কয়েক আগেই বোলপুরের একাধিক রাষ্ট্রয়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে তল্লাশি চালিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের পরিবারের বিভিন্ন জনের নামে থাকা প্রায় ১৭ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের হদিশ পেয়েছিল সিবিআই। এছাড়াও অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রী প্রয়াত ছবি মণ্ডলের নামে থাকা একটি কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ৫৫ লক্ষ টাকার হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। এইসব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে।
যদিও এদিন নিজাম প্যালেস থেকে আসানসোল আদালতে যাওয়ার মধ্যে আলিপুর কমান্ড হাসপাতালে যাওয়ার পথে অনুব্রত মণ্ডল দাবি করেছেন, তাঁর কোনও বেনামি সম্পত্তি নেই।












Click it and Unblock the Notifications