Exclusive: নেই চড়াম-চড়াম ঢাকের আওয়াজের মতো ভোকাল টনিক! অনুব্রত মণ্ডলহীন বীরভূমে এবার 'অন্য ভোট'

Exclusive:ভোট মানেই সরগরম বোলপুরের নিচুপট্টি। সেটাই এতদিন দেখে এসেছে সাধারণ মানুষ। অন্তত তৃণমূলের ২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পর থেকে। কিন্তু এবার সেই চিত্রটাই চোখে পড়ছে না এলাকাবাসীর। তবে সাধারণ তৃণমূল কর্মীরা সেই পরিস্থিতি মানতে নারাজ।

অনুব্রত মণ্ডলের অধীনে ২০১৩, ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০১৬-২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন, ২০১৪-২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন দেখেছেন বীরভূম তথা রাজ্যবাসী। সাধারণ সময়ে তাঁকে ঘিরে যত ভিড় থাকত ভোট এলে তা যেন বেড়ে যেত কয়েকগুণ।

Anubrata Mondal

আর ভোটের মুখে অনুব্রত মণ্ডল মানেই ছিল বোম মারব, গুড়-বাতাসা কিংবা চড়াম-চড়াম ঢাকের আওয়াজের মতো ভোকাল টনিক, আর রাজ্য জুড়ে চতার চর্চা। ভোটের আগে তাঁকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নজরদারি করেও কিছুই করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। এবার সেই অনুব্রত মণ্ডল তিহারে বন্দি।

অন্যদিকে ২২ মার্চ বাড়িতে ইডি তল্লাশি করে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধারের পর থেকে নিজেকে কার্যত ঘর বন্দি করেছেন রাজ্যের কুটির শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। তিনি কোনও সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন না, ভোট নিয়ে কোনও কথা বলতে নারাজ তিনি। তাঁর বাড়িতে দলীয় নেতা-কর্মীদের আনাগোনাও তুলনায় অনেকটা কম। ভোট নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জেলা সভত্রাপতি বিকাশ রায়চৌধুরীকে।

বোলপুরের নিচুপট্টিতে রাস্তার ধারেই রয়েছে তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিস। অনুব্রত মণ্ডলের সময়েই সেই পার্টি অফিস নতুন করে তৈরি করা হয়, বেশি নেতা-কর্মীরা যাতে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন, সেদিকে খেয়াল রেখে। সেই পার্টি অফিসের সামনে এখন শুনশান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশপাশের দোকানদার বলছেন, তৃণমূল জমানায় এই চিত্র তাঁরা মনে করতে পারছেন না।

অন্যদিকে তৃণমূলের মাঝারি থেকে ছোট নেতা-কর্মীরা অবশ্য এই চিত্রের কথা মানতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, কোনও দাদা আসলে ভিড় বাড়ে। আর কেষ্টদা ছিলেন, সাধারণের মধ্যে জনপ্রিয়, ফলে তিনি থাকলেই ভিড় বাড়ত। তাঁরা বলছেন, এই চিত্র কোনওভাবেই ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলবে না। তাঁদের দাবি, জেলায় বিরোধীদের কোনও সংগঠনই নেই।

এই মুহূর্তে অনুব্রত মণ্ডলকে জেলায় দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের নিয়ে করা ফ্লেক্সে। দেওয়াল লিখনে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা লিখছেন, তিহার থেকে খেলা হবে। কর্মীরা তাঁকে সামনে রেখেই এগোতে চাইছেন। তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের যুক্তি কেষ্টদার অনুপস্থিতিতে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে, বিরোধীরা তেমন কিছুই করতে পারেনি।

তবে জেলার বিরোধীদলগুলির তরফে বিশেষ করে সিপিআইএম, বিজেপি নেতারা অবশ্য অনুব্রত মণ্ডলের তথাকথিত ভোকাল টনিক সম্পর্কে বলছেন, ভয় দেখানো শুরু হত মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে থেকে, আর চলত ভোটের পরে পর্যন্ত। যে কারণ বোলপুরের সিপিআইএম প্রার্থী শ্যামলী প্রধান জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কিছু জায়গায় দেওয়াল লিখনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ছাড়া অন্য কোনও অভিযোগ নেই। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিরোধীরা।

জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বিভিন্ন সংস্থার করা জনমত সমীক্ষায় বোলপুর ও বীরভূমকে তৃণমূলের পক্ষে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এবার বীরভূমে 'অন্য ভোট' হওয়ার সম্ভাবনা। রাম নবমীতে তৃণমূল ও বিজেপি জেলা জুড়ে তাদের শোভাযাত্রা বের করেছে। এক্ষেত্রে তৃণমূল বিজেপিকে সুযোগ ছাড়তে নারাজ। দু'দলের নেতানেত্রীরাও রাম নবমীর দিন শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। আর জেলা বাম ও কংগ্রেস প্রার্থী ব্যস্ত থেকেছেন, দুয়ারে প্রচারে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+