রামপুরহাট কাণ্ডে অভিযুক্ত আনারুলকে আগেই সরাতে চেয়েছিলেন অনুব্রত! তৃণমূল নেতার গোপন চিঠি ফাঁস
রামপুরহাট কাণ্ডে অভিযুক্ত আনারুলকে আগেই সরাতে চেয়েছিলেন অনুব্রত! তৃণমূল নেতার গোপন চিঠি ফাঁস
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) নির্দেশে রামপুরহাট(rampurhat) গ্রেফতার হওয়া (তবে নেতার দাবি তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন) তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনে যে বয়ান এখনও পর্যন্ত সামনে এসেছে, তাতে দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ। তবে আনারুল হোসেনকে নিয়েই তৃণমূলের অভ্যন্তরে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বর্ষীয়ান নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ashis Banerjee) কথাতেই আনারুল হোসেনকে পদে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বীরভূম (Birbhum) জেলা তৃণমূলের (Trinamool Congress) সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)।

আনারুলকে সরাতে গিয়ে পারেননি
এদিন অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন, তিনি আনারুল হোসেনকে সরাতে চেয়েছিলেন, এটা সত্যি। বিধানসভা ভোটের পর এলাকায় ফল খারাপ এবং মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সামনের পঞ্চায়েত ভোট পর্যন্ত আনারুকে না সরানোর জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে চিঠি দিয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠি সাংবাদিকদের হাতে যাওয়ায় অবাক অনুব্রত মণ্ডল।

মুচলেকা দিয়েছিলেন আশিস
অনুব্রত মণ্ডল বলেন, তিনি আনারুল হোসেনকে সরে যেতে বলেছিলেন। ব্লক প্রেসিডেন্ট হিসেবে অন্য কারও নাম সুপারিশ করতে বলেছিলেন। কিন্তু অনারুলকে রাখতে তাঁকে মুচলেকা লিখে দিয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত ভোট পর্যন্ত ওই নেতাকে রাখতে অনুরোধ করেছিলেন। বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি বলেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বর্ষীয়ান নেতা। তাঁরই বিধানসভা এলাকার বিষয়। সেই কারণে যখন মুচলেকা লিখে দিল, তখন আর আনারুল হোসেনকে সরানো হয়নি। তবে কী কারণে আনারুল হোসেনকে অনুব্রত মণ্ডল সরাতে চেয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ, সংবাদ মাধ্যমের সামনে তা বলা যাবে না।

বিজেপির রিপোর্ট নিয়ে কোনও জবাব নয়
রামপুরহাট কাণ্ডের পরে বিজেপির ৫ সদস্যের দল গিয়েছিল বগটুই গ্রামে। এরপর এই দলের সদস্যরা দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছে রিপোর্ট জমা দেন। সেখানে গণহত্যার ঘটনার পিছনে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের যুক্ত থাকার ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে অনুব্রত মণ্ডল উত্তর দিতে অস্বীকার করেন।

সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত
এদিকে মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল গত বছরের ১০ জুনের। অনুব্রত মণ্ডলকে চিঠি দেওয়ার কথা স্বীকার করে নেন। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি আনারুলকে পদে রাখতে নিচু মহলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তারপরেই সভার সেই ব্যাপারে কথা বলেন। সেই সময় অনুব্রত মণ্ডল লিখিত দিতে বললে, তিনি তাই দেন। তবে সেই সিদ্ধান্তকে দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত ২১ মার্চ সোমবার গণহত্যার রাতে বগটুই গ্রামে পুলিশ পাঠাতে আনারুল হোসেন বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছে মৃতদের পরিবার। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে এই অভিযোগ করার পরেই, তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications