ভোটের দিন প্রথম সঙ্গে থাকলেন না অনুব্রত মন্ডল? বীরভূমে কী করলেন শতাব্দী রায়?
সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে ঘুরে বেরিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী শতাব্দী রায়। এবারের ভোটে তাঁর ব্যস্ততা যথেষ্ট বেশি। হবে নাই বা কেন? অনুব্রত মন্ডল তিহার জেলে বন্দি। কাজেই যিনি নির্বাচন করাতেন গোটা জেলার। তিনিই তো অনুপস্থিত।
২০০৯ সালে প্রথম তৃণমূল কংগ্রেস শতাব্দী রায়কে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল। রাজনীতিতে সদ্য পা রেখেছিলেন শতাব্দী রায়। সেই সময় অন্যতম অভিভাবক ছিলেন অনুব্রত মন্ডল। এরপর লোকসভা ভোটে জয়ী হলেন শতাব্দী। বীরভূম কেন্দ্রে তিন বারের সাংসদ তিনি। রাজনীতিতে এখন তিনি যথেষ্ট পোড় খাওয়া।

গত লোকসভা ভোট পর্যন্ত বীরভূম জেলায় ভোটের দায়িত্বে ছিলেন অনুব্রত মন্ডল। ফলে তৃণমূলের সেই অর্থে ভোট করাতে তেমন কোনও সমস্যা হত না। তৃণমূলের বীরভূমের জেলা সভাপতির নামে কার্যত ভোট হত লাল মাটিতে। কিন্তু এবার সেই হাওয়া নেই। কারণ, প্রায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে জেলবন্দি অনুব্রত। এখন তিনি তিহার জেলে দিন কাটাচ্ছেন।
এই প্রথম শতাব্দী রায়কে নিজের কেন্দ্র সম্পূর্ণ ঘুরে দেখতে হল। প্রচারের সময়ও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন এবার। এই প্রথম মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন শতাব্দী রায়। এলাকার সাংসদ ভোটের সময় কেবল আসেন। আর কোনও সময় তাঁকে দেখা যায় না। এই অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা অনেক গ্রামেই পাওয়া যায় না। এ কথাও অভিযোগ আকারে শোনা গিয়েছে।
বিক্ষোভের সামনে শতাব্দী রায়কে ইডিয়ট বলতেও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিন মাথা গরম করেননি শতাব্দী। সকালে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের জন্য বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। এক বৃদ্ধা তাঁর পথ আটকায়। সরকারি প্রকল্পের টাকা তিনি পান না। এ কথা বলতে শোনা যায়। এদিন আর কিছু শতাব্দী বলেননি। তার হাত ধরে এগিয়ে গিয়েছিলেন সামনে।
দিনভর নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেছেন। ভোটারদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বার্তা দিয়েছেন। অনেক ভোটার শতাব্দীকে দেখে সামনে এগিয়ে গিয়েছেন। অনুরোধ রেখে ভোটারদের সঙ্গে সেলফিও তুলেছেন শতাব্দী।
অনুব্রতহীন বীরভূমে কেমন হল ভোট? সেই প্রশ্ন উঠছে। গত লোকসভা নির্বাচনেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। পঞ্চায়েত নির্বাচনে একতরফা জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এবার কী হবে? মানুষজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। একথা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিকেল তিনটে পর্যন্ত এই লোকসভা কেন্দ্রে ৬৫% ভোট করেছে। এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট ভালো। তাহলে এবার কোন দিকে যাবে মানুষের রায়? সেই প্রশ্ন উঠছে।












Click it and Unblock the Notifications